24 C
Dhaka
Friday, January 28, 2022
Home Business & Fashion একটি পোশাকের জীবনচক্র | Life cycle of a garment.

একটি পোশাকের জীবনচক্র | Life cycle of a garment.

আঁশ হতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সুতা প্রস্তুত করার পর ঐ সুতা দ্বারা বয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়েফ্ট ও ওয়ার্প সুতার পরস্পর বন্ধনী দিয়ে, লুপের সাহায্যে এবং আঁশকে জমাট বাঁধিয়ে মানুষের পরিধেয় ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য যে সকল দ্রব্য উৎপাদিত হয় তাকে “কাপড় “বলে।

বয়ন কাপড়ের জন্য কমপক্ষে দুই সেট সুতার প্রয়োজন। এক সেটকে “ওয়েফ্ট সুতা “এবং অপর সেট সুতা কে “ওয়ার্প সুতা “বলে।ওয়ার্প সুতা উইভার্স বীমে জড়ানো থাকে এবং ওয়েফ্ট সুতা মাকুর সাথে থাকে।এই ওয়ার্প সুতা ওয়েফ্ট সুতার সাথে বন্ধনী সৃষ্টি করে কাপড় তৈরি করে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় মেশিন বা হাত দ্বারা এক ধরনের বিশেষ সুচ ব্যবহার করে বিশেষ নিয়মে লুপ তৈরি করা হয় এবং উক্ত লুপগুলোকে পরস্পর এর সাথে লম্বালম্বিভাবে অথবা সমান্তরালভাবে সংযোজিত করে কাপড় তৈরি করা হয়। আর,কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে কাপড় তৈরি করে তাকে উপযুক্ত “ফিনিশিং” ও “প্যাকিং “এর পরে ক্রেতার নিকট উপস্থাপন করাকে “টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং “বলে।

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং বিশেষত কয়েকটি প্রধান ধাপে সংগঠিত হয়। ধাপ গুলো হলোঃ ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং, ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং,ওয়েট প্রোসেসিং এবং গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং।

কাঁচামাল কে সম্পূর্ণরূপে তৈরি পোশাকে পরিনত করতে কাঁচামালকে উল্লিখিত ধাপ গুলোর মধ্য দিয়ে যেতে হয় ।প্রথমত, “ইয়ার্ণ -ম্যানুফ্যাকচারিং” এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন কাঁচামালের বেল থেকে ইয়ার্ণ বা “সুতা” লাভ করি। “বুনন” হচ্ছে কাপড় তৈরীর পদ্ধতি যেখানে এক সারি লম্বা সুতা থাকে এবং এর মধ্য দিয়ে আড়াআড়িভাবে আরেক সারি সুতা প্রবেশ করানো হয়ে থাকে। এটা একটি কাঠামো বা যন্ত্রের সাহায্যে করা হয় যা “তাঁত” নামে পরিচিত।এখনও অনেক স্থানে তাঁতে কাপড় বোনা হয়, তবে বেশিরভাগ কাপড় লুম-মেশিনে বোনা হয়। সুতা গুলাকে টান টান করে ফ্রেমের উপর বিন্যস্ত করা হয়। সেলাইয়ের সুই বা ক্রোশেই হুক যা বাংলায় মাকু নামে পরিচিত। লম্বা সুতা দুই সারিতে সাজানো থাকে। এক সারি উপরে উঠলে এই ফাঁকের মধ্যে দিয়ে মাকু চালানো হয়। এভাবে ধারাবাহিকভাবে মাকু চালনা চলতে থাকে। তবে এক ফাঁকে দুইবার মাকু চালনা করা হয় না। মেশিনের সাহায্যে বুননের সময়ে মাকু ব্যবহার করা হয় না কিন্তু তাঁতে বোনার সময়ে অবশ্যই মাকু ব্যবহার করা হয়। এভাবে “ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং” ধাপে সুতা বা ইয়ার্ণকে ফেব্রিকে পরিনত করা হয় কাপড় তৈরির লক্ষ্যে।

এর পরের ধাপ “ওয়েট প্রোসেসিং”এর মাধ্যমে বিভিন্ন কেমিক্যাল যেমনঃ-তেল,ফ্যাট,মোম,এল্কালি,এঞ্জাইম,বিভিন্ন এজেন্ট ও রঙের সাহায্যে ফেব্রিককে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়। ধূসর ফেব্রিককে প্রথমে বাঁছাই করে “ব্রাশিং” এবং “ক্রপিং” করা হয়। এরপর,”সিনজিং”এর মাধ্যমে পৃষ্ঠের লোমশ তন্তুগুলি জ্বালিয়ে কাপড়টি মসৃণ করতে কাপড়ে বার্নারের মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করা হয়।

এরপর, “ব্লিচিং “করে কাপড় থেকে রঙ মুছে ফেলা হয় এবং যতটা সম্ভব সাদা করা হয়। “মার্চেরাইজেশন” এর মাধ্যমে কাপড়ে একটি ক্ষারযুক্ত সোডা প্রয়োগ করা হয়, যাতে তন্তুগুলি স্ফীত হয় এবং নরম অনুভূত হয়।এরপর, কাপড়কে রঙ্গিন করে তুলতে হয়।
কাপড়ে রঙ যুক্ত করার জন্য দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতি রয়েছে -“ডায়িং ” এবং” প্রিন্টিং”।এরপর, “ফিনিশিং করা হয়, যেখানে প্রথমেই হাজার হাজার ক্ষুদ্র, তীক্ষ্ণ দাঁতযুক্ত একটি মেশিন কাপড়ের উপর দিয়ে পৃষ্ঠের তন্তুগুলি ছোঁড়াতে চালিত হয়। এরপর,ক্যালেন্ডারিং করে ফ্যাব্রিককে বিভিন্ন ধরণের উত্তপ্ত রোলারগুলির মধ্যে ভ্রমণ করানো হয় যা পছন্দসই করে তোলা সম্ভবপর হয় । এরপর,” ক্যামিকাল-ফিনিশিং”-এর মাধ্যমে কাপড়কে রিঙ্কেল-প্রতিরোধী, আগুন-প্রতিরোধী এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়।

একবার কাপড়ের পরীক্ষনপর্ব শেষ হয়ে গেলে, এটি ফ্যাশন সরবরাহ শৃঙ্খলে পরবর্তী ধাপে পাঠানো হয়, যেখানে এটি কেটে সেলাই করা হবে এবং সুতির টি-শার্টে পরিণত হবে।অর্থাৎ,এরপরে হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, অর্থাৎ “গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং”।এই ধাপটি ক্রেতার রুচি ও স্টাইলের সাথে সম্পর্কিত ।জনসাধারনের পছন্দ ও রুচি বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী স্টাইল ও নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে নির্দিষ্ট মানের কাপড় তৈরি করা এবং কাপড়ের ক্রেতার নিকট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা- এসব মিলিয়ে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং বলা হয়।আরও বিশদভাবে বললে সর্বপ্রথম একটি ডিজাইন বা স্কেচ তৈরি করা হয় তারপর সে অনুযায়ী প্যাটার্ন তৈরি করা হয় এবং নির্বাচিত প্যাটার্ন অনুযায়ী প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়।এরপর, মার্কার ম্যাকিং করা হয় যা কাপড় তৈরির দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।এরপর, ফেব্রিক কে স্প্রেডিং করে কেটে,সেলাই করে পোশাকে পরিনত করা হয়।গার্মেন্টস উৎপাদন এমন একটি সুশৃঙ্খল ক্রিয়াকলাপ যা “কাটিং” বা কাটা, “সিউয়িং” বা সেলাইকরন, “চেকিং” বা চিহ্নিতকরণ ,”ফিনিশিং”,”প্যাকেজিং” এবং “কার্টুনিং”- এরমতো ক্রমাগতভাবে সংগঠিত হওয়া প্রক্রিয়াগুলির সমন্বয়ে সংগঠিত হয়। এটি কাঁচামাল থেকে পরিধেয় পোশাক রূপান্তর করার প্রক্রিয়া।

পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে অনেকগুলি প্রক্রিয়াজাতকরণ পদক্ষেপ জড়িত থাকে,যা একটি নকশিত ধারণা দিয়ে শুরু হয় এবং একটি “ফাইনাল-প্রোডাক্ট” বা সমাপ্ত পণ্য দিয়ে শেষ হয়। পোশাক উৎপাদনের এই প্রক্রিয়ায় পণ্য নকশা, ফ্যাব্রিক নির্বাচন এবং পরিদর্শন, প্যাটার্নমেকিং, গ্রেডিং, মার্কিং, স্প্রেডিং, কাটিং, বান্ডিলিং, সেলাই, প্রেসিং বা ফোল্ডিং, ফিনিশিং এবং ডিটেলিং, ডাইং অ্যান্ড ওয়াশিং, কোয়ালিটি-কন্ট্রোল ইত্যাদি জড়িত।

এরপর যখন কাঙ্ক্ষিতপণ্য বা “গার্মেন্টস” তৈরি হয়ে যায়, তারপর, সেই পোশাকটি কিছু আবশ্যক প্রক্রিয়ার পরিক্রমায় শিপমেন্টের মাধ্যমে কারখানা থেকে গুদামঘরে অথবা সরাসরি খুচরা দোকানে গিয়ে পৌছে বিক্রয়ের জন্য এবং ক্রেতা তার ক্রয়ের সামথ্যনুযায়ী সেই পোশাক ক্রয় করেন এবং বস্ত্রের চাহিদা মেটান। কিন্তু, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কাপড়ের রং ফিকে হয়ে যায়, কুচকে যায়,সুতার বুনন-বন্ধনী দুর্বল হয়ে যাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যার আর্বিভাব ঘটে।একটি পোষাক আমরা সর্বোচ্চ ৩/৪ বছর মেয়াদ অবদি ব্যবহার করতে পারি এরপর তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু এই পরিত্যক্ত কাপড়কেই “রিসাইকেল” বা “পুর্নব্যবহার” করা যায়। সমস্ত পোষাকের একটি জীবনকাল আছে, যার পরে সচারাচর পোষাক গুলো ফেলে দেয়া হয় । এই প্রক্রিয়ায় এই ফেলে দেওয়া পোষাক গুলো সংগ্রহ করা হয় এবং পোষাকগুলোকে প্রাকৃতিক, সিন্থটিক, মিশ্রিত কাপড় হিসেবে সাজানো হয়। ভালোমানের পোষাকগুলোকে ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হয় এবং পুরাতন পোষাকগুলো থেকে ফাইবারগুলো পুনরুজ্জীবিত করা হয় ও ফ্যাক্টরিতে নতুন পোষাক বানানো হয়৷ এছাড়া ফেব্রিকে থেকে থ্রেডগুলোকে টেনে বের করা হয় এবং নতুন গার্মেন্টস তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব ৷আর, এভাবেই কাঁচামাল থেকে কাপড় তৈরি এবং ব্যবহারের পর পুর্নব্যবহারের মাধ্যমে পূর্নতা পায় “একটি পোশাকের জীবনচক্র” অথবা ” Life cycle of a garments”

লেখকঃ
Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador,BUNON

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ উত্তরণ,দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করছে নিটার, প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার

লিখেছেন:  মোঃ আবুবকর সিদ্দিক, এস এম আশিক ও মোহাম্মদ আবুল হাসান শিবলী সচরাচর বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী...

বস্ত্র শিল্পে ন্যানো প্রযুক্তি

ন্যানো একটি গ্রিক শব্দ যার বাংলা অর্থ ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম। ন্যানো প্রযুক্তি বলতে বোঝায় আণবিক স্কেলে  কার্যকরী সিস্টেমের একটি বিজ্ঞান, প্রকৌশল...

টেক্সটাইল টেক এসোসিয়েশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

রিপোর্টারঃ তামিমা মোস্তফা মনিষা । ১৫ই জানুয়ারি, শনিবার নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টেক্সটাইল টেক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১৫ই জানুয়ারী বিকাল...

পাবনা টেক্সটাইলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যৌথ সামাজিক কর্মকান্ড অনুষ্ঠিত

চারিদিকে বাড়ছে ঠান্ডার প্রকোপ, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা।এই হাড়ভাঙা শীতে আপনার অপ্রয়োজনীয় কাপড়গুলো হতে পারে...

বাংলাদেশ থেকে আবারও পোশাক কিনবে ওয়াল্ট ডিজনি

দীর্ঘ ৮ বছর পর বাংলাদেশ থেকে আবারও পোশাক কিনতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্র‍্যান্ড 'ওয়াল্ট ডিজনি'!! পূর্বের মতোই ওয়াল্ট ডিজনি তাদের পোশাক...

এন্টি গ্রাভিটি স্যুট (জি-স্যুট) | Anti Gravity Suite(G-suite)

আমরা হয়ত মোটামুটি সবাই Gravity বা মধ্যাকর্ষণ শক্তির সাথে পরিচিত।সহজে বলি মধ্যাকর্ষণ শক্তি বলতে এমন একটি অদৃশ্য শক্তিকে বুঝাই যা পৃথিবীর...

Photoshop ব্যবহার করে অল ওভার প্রিন্টিং এর ডিজাইনের Repeat নির্ণয়

Buyer এর কাছ থেকে সাধারণত তিন উপায়ে Design সংগ্রহ করা হয়: 1.Soft Copy 2.Hard Copy 3.Fabric Sample Buyer প্রদত্ত এই...