29 C
Dhaka
Sunday, October 2, 2022
Home Technology Research & Development প্লাস্টিক বোতল থেকে ফ্যাব্রিক

প্লাস্টিক বোতল থেকে ফ্যাব্রিক

প্লাস্টিক‌ বোতল থেকে ফ্যাব্রিক? এও কি সম্ভব। হ্যা। ঠিকই শুনছেন। প্লাস্টিক বোতল পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমেও সম্পূর্ণ সাসটেইনেবল বা টেকসই ফাইবার পাওয়া সম্ভব। মজার ব্যাপার হলো এ জাতীয় পর্ণ্যের পুনঃ প্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবেশ দূষণের হারও তুলনামূলক কম একই সাথে প্রক্রিয়াজাতকরণের শক্তিও তুলনামূলক কম। এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার পিছনে কাজ করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার জার্সি তৈরিতে সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবহার। এছাড়া সাম্প্রতি আইপিএল এর একটি ফ্রাঞ্চাইজির জার্সি প্রস্তুত করা হয়েছে সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে। মূলত দূষণের হাত থেকে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার তাগিদ থেকেই এই ধারণাটির যাএা শুরু হয়েছিল যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং দারুন সাড়াও ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

এখন আপনাদের প্রশ্ন আসতেই পারে প্লাস্টিক বোতল থেকে আমরা কিভাবে ফাইবার পাবো বা এর মাধ্যমে পাওয়া ফ্যাব্রিকের কোয়ালিটি কি বর্জায় থাকবে? উওর হলো হ্যা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি হলো প্লাস্টিক বোতল বর্জ্য সাধারণত পরিবেশে ফিরে যায় না। তাই এ জাতীয় বর্জ্যের পরিবেশ দূষণের হারও সচারচার বেশি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে টেকসই সমাধান হতে পারে পুনঃ প্রক্রিয়াজাতকরণ। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী সমাধান হচ্ছে প্লাস্টিককে ফাইবার তথা ফ্যাব্রিকে রূপান্তর।

তো এবার আলোচনা করা যাক এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে। আমরা জানি, ম্যানমেইড বা কৃএিম ফাইবারগুলো মূলত পলিএস্টার, vনাইলন, vআরাইলিক, রায়ন, পলিপ্রোপিলিন, ভিসকোস এগুলা থেকেই তৈরি হয়। vএর মধ্যে ৬০% কৃএিম ফাইবার আসে পলিএস্টার থেকে।যে পলিএস্টারটি মূলত বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত হয় তা হলো

PET (polyethylene terephthalate) যা বোতল বা এই জাতীয় প্লাস্টিক পণ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এই জাতীয় পলিস্টার সমুদ্রপার কিংবা পরিত্যক্ত স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয় পরবর্তীতে গলিয়ে এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সূতায় রুপান্তরিত করা হয়। rPET পলিস্টার অর্থাৎ রিসাইক্লেড পলিস্টার থেকে তৈরিকৃত সুতা ভার্জিন পলিস্টার বা PET থেকে তৈরিকৃত সুতার সমান গুনসম্পন্ন হয়।

পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের প্রক্রিয়াটি দুটি ভাবে হতে পারে। যান্ত্রিক অথবা রাসায়নিক ভাবে। এক্ষেত্রে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ডিপলিমারাইজেশনের মাধ্যমে পলিমার ভেঙ্গে ক্ষুদ্র এককে রূপান্তর করা হয় যেখান থেকে পরবর্তীতে ফাইবারে রুপান্তর করা হয়। লক্ষনীয় ব্যাপার হলো এ প্রক্রিয়ায় খরচ খুবই বেশি হয়। তাই এক্ষেত্রে যান্ত্রিক প্রক্রিয়াটিই সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য।

যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষেএে প্রথমে কাঁচামাল সংগ্রহ করে ফ্যাক্টরিতে পাঠানো হয়। পরবর্তী ধাপে বোতল বা প্লাস্টিক বোতল বর্জ্যের ক্যাপ, লেভেলেসহ অপ্রয়োজনীয় অংশ আলাদা করা হয়।তারপর প্লাস্টিকগুলোকে ছোট টুকরো বা চিপসে পরিবর্তন করা হয়। তারপর এগুলাকে ধৌত করে গলানো হয়। পরবর্তী ধাপে এই গলিত প্লাস্টিক বোতল থেকেই ফাইবার প্রস্তুত করা হয়। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, এখানে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি কাঁচামালাই বস্ত্রশিল্পে ব্যবহারের উপযোগী এবং উৎপাদিত ফাইবারও তার গুনগত মান অক্ষুন্ন রাখে।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শক্তি খরচের দিক থেকেও PET সাশ্রয়ী (৬৬ mj/kg)। অপরদিকে কার্বণ নিঃসরণের পরিমাণও অন্যান্য ম্যান্যমেইড বা কৃএিম ফাইবার থেকে কম যা মাএ ৫.১৯ kg/tonne. বলা যায় সাসটেইনেবিলিটির প্রত্যেকটি মাএাই এটি অক্ষুণ্ন রাখে।

এবার আসা যাক বাজার প্রসঙ্গে। আমেরিকায় ১৯৯৩ সাল থেকে প্লাস্টিক বোতল থেকে কাপড় তৈরীর যাএা শুরু হয়। আরমানি জিনসের ইকোপ্রজেক্টে ১৯৯৫ সাল থেকেই রিসাইক্লেড ডেনিম‌তৈরীতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল জাতীয় বর্জ্যে ব্যবহার করা হয়। ২০১৫ সালের ভারতের বিশ্বকাপ কিট তৈরি করা হয় মাএ ৩৩ টি প্লাস্টিক বোতল থেকে যার মধ্যে জার্সিতে ১৫ টি এবং প্যান্টের জন্য কেবল ১৮ টি প্লাস্টিক বোতল পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়।

২০১৬ সালে রিসাইক্লেড প্লাস্টিকের বাজার ছিল ২৩.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০২৫ সাল নাগাদ ৩৪.৫৪ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্লাস্টিক বোতল থেকে তৈরি ফাইবার কতটা সাশ্রয়ী হতে পারে তা কিছু পরিসংখ্যান দেখলে ধারণা পাওয়া যায়। ২ কেজি rPET সুতা থেকে কাপড় তৈরীতে পরিপূর্ণ গ্যালন গ্যাসোলিন রক্ষা করা সম্ভব যা কার্বণ নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে একইসাথে প্রচুর পানি সাশ্রয়ও করে যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৫ দিনের আহারযোগ্য পানির সমান।

মজার ব্যাপার হলো rPET পুনপ্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে ৬০ ওয়াট বাল্বের ৩ ঘন্টার শক্তি সংরক্ষণ হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে rPET ব্যবহারের ফলে ৩৩% থেকে ৫৫% পর্যন্ত শক্তির সাশ্রয় হতে পারে যা ভার্জিন পলিএস্টার থেকেও অনেকাংশে সাশ্রয়ী। rPET থেকে প্রাপ্ত একটি টি শার্ট প্রায় ২৭ লিটার পর্যন্ত পানি‌ সংরক্ষণ করতে পারে এবং কার্বন নিঃসরণ আনুমানিক ৫৪% পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। এসব কাপড়ের ওজনও অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় কম হয়। যেখানে rPET থেকে তৈরিকৃত একটি টি শার্টের ওজন হয় মাএ ৮৫-৯০‌গ্রাম। অর্থাৎ সব দিক থেকেই সাশ্রয়ী।

এখন আমরা দেখবো বিশ্ববাজারে কোন ব্র্যান্ডগুলো রিসাইক্লিড প্লাস্টিক বোতল থেকে ফ্র্যাব্রিক উৎপাদন করে।

Ecoalf: এটি একটি স্প্যানিশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড যারা রিসাইক্লেড প্লাস্টিক থেকে সাসটেইনেবল ফ্র্যাব্রিক উৎপাদন করে। পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল, পরিত্যক্ত তার ইত্যাদি pet বর্জ্য রিসাইক্লিড করে থাকে।

Gucci: এটি হচ্ছে সর্বপ্রথম ফ্যাশন ব্র্যান্ড যারা পুরোপুরি ১০০% নাইলন ইয়ার্ন উৎপাদন করে রিসাইক্লেড মাছ ধরার নেট থেকে।২০১৫ সাল থেকে ব্র্যান্ডটি রিসাইক্লিড প্লাস্টিক থেকে বিভিন্ন ফ্র্যাবিক কিংবা কাপড়জাত পণ্য উৎপাদন করে আসছে।

Bethany Williams: এটি একটি ব্রিটেন ভিওিক ব্রান্ড যারা ১০০% সাসটেইনেবল ফ্র্যাব্রিক উৎপাদন করে এবং এরই অংশ হিসেবে তারা রিসাইক্লিড প্লাস্টিক থেকে ফ্যাব্রিক তৈরির কাজও করে থাকে।এটি মূলত সামাজিক এবং পরিবেশগত সমস্যা একই সূত্রে গাঁথা এই নীতিতে বিশ্বাসী।

Doodlage : এই একটি ভারতীয় ব্র্যান্ড যারা সাসটেইনেবল এবং পরিবেশবান্ধব ফ্র্যাবিক তৈরি করে যেখানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ফাইবারের পাশাপাশি রিসাইক্লেড প্লাস্টিক বোতল বর্জ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Re;code: এটি একটি কোরিয়ান ব্র্যান্ড যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেকটি পণ্যের আলাদা আলাদা গল্প তৈরি করা তাদের পরিত্যক্ত বর্জ্যে রুপান্তরের পরিবর্তে।

Girlfriend Collective: এটি তাইওয়ানের একটি ব্র্যান্ড যারা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল,মাছের জালের নেট ইত্যাদি থেকে ক্রিয়াসামগ্রী প্রস্তুত করে থাকে।

Veja: এটি একটি ফ্রেঞ্চ কম্পানি যারা B mesh বা bottle mess উৎপাদন করে।এটি সুপরিচিত বিভিন্ন ধরনের ফুটওয়ার উৎপাদন করার জন্য। এরা পরিত্যক্ত বোতল থেকে এ জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে।

Patagonia: এই ব্র্যান্ডটি ইকো ফ্রেন্ডলি পণ্য তৈরি করে যারা ১৯৯৩ সাল থেকে পরিত্যক্ত pet বোতল রিসাইক্লেড করে আসছে।

Mara Hoffman : এটি একটি ওমেন্স ব্র্যান্ড যারা রিসাইক্লেড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাশনাবল ফ্র্যাব্রিক তৈরি করে, যার গুরুপূর্ণ অংশ রিসাইক্লেড প্লাস্টিক।

Elle Evans : এটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ভিওিক একটি সুইমওয়ার বা সাঁতার সামগ্রী র ব্র্যান্ড যারা সাসটেইনেবল এবং পরিবেশবান্ধব সুইমওয়ার উৎপাদন করে থাকে। রিসাইক্লেড প্লাস্টিক এই ব্র্যান্ডিটির সাঁতার সামগ্রী উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।

এছাড়াও Mumanu Polyester Industries Ltd নামক একটি বাংলাদেশী ফ্যাক্টিরী প্রথমবারের মতো রিসাইক্লেড প্লাস্টিক বোতল থেকে ফ্র্যাবিক তৈরি করে। এছাড়াও বাংলাদেশে‌ বর্তমানে ৩০ র অধিক ফ্যাক্টরি রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাশনাবল ফ্র্যাব্রিক উৎপাদন করে থাকে।

আপনাকে যদি বলা হয় সাসটেইনেবল ফাইবারের কথা, তবে প্রথমদিকে থাকবে রিসাইকেল্ড পলিএস্টার বা rPET র নাম। ইকোফেন্ডলি এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়বে। সাসটেইনিবিলিটির প্রত্যেকটি গুনাগুণই অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম এ ফাইবার। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “বধ্ব লুপ” নামক একটি ধারণায় দেখা যায় প্লাস্টিক সুতা বারবার পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব। যা এর গ্রহণযোগ্যতার মাএা আরো বাড়িয়ে দেয়। তবে যে বিষয়‌টি দুঃখজনক, আমাদের কারখানাগুলোতে এই প্রক্রিয়াটি এখনো এতটা আয়ত্বো করে উঠতে পারেনি। কিছু সীমাবদ্ধতা অবশ্যই আছে। তবে সেগুলো দূর করতে পারলে উৎপাদনশীলতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে একইসাথে আমাদের কারখানাগুলো অনেকাংশেই টেকসইত্ব অর্জন করতে সক্ষম হবে।

লিখেছেনঃ
শাহারিয়ার হোসাইন হিমেল
শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, বুনন

Most Popular

নিটার ও ইপিলিওন গ্রুপের মাঝে সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকার সাভারে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ নিটারের সাথে ইপিলিওন গ্রুপের একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর)...

টেক্সটাইল সেক্টরের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা: মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান

বাংলাদেশের একজন সফল টেক্সটাইল প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। তিনি ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে তৎকালীন কলেজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি যার বর্তমান নাম...

নিটারের নব নিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জোনায়েবুর রশীদ

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ তথা নিটারের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন ড. মোহাম্মদ জোনায়েবুর রশীদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল...

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে “টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

৩ জুলাই বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি এর টিইএম (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) বিভাগ এর সহযোগিতায় টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে টেকসই উন্নয়ন...

ইলেক্টো স্পিনিং টেকনোলজির খুঁটিনাটি

সেলফ ইম্পুভমেন্ট এর জন্য কাইজেন (Kaizen) নামক বিশ্ববিখ্যাত জাপানিজ দর্শন আছে ।যার মুল কথা হল আপনাকে কন্টিনিয়াস ইম্পুভমেন্ট করতে হবে। গুগল,...

কুমিল্লার বিখ্যাত খাদি কাপড় বাঙ্গালীর এক আবেগের নাম

চরকায় সুতা কেটে কাঠের তৈরি লুম মেশিনে খট খট শব্দে একের পর এক সুতার সাথে বুনন করে কাপড় তৈরির সাথে বাঙালী...

আরএসসি এর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর অ্যাকর্ড এর

সম্প্রতি অ্যাকর্ড তাদের অগ্নি সুরক্ষা সহ সকল প্রকার অফিশিয়াল দায়িত্বসমূহ হস্তান্তর করে দেয় আরএসসির এর কাছে। গত ১জুন, ২০২০ অফিশিয়ালি এসব...