29 C
Dhaka
Sunday, October 25, 2020
Home News & Analysis Association News টেক্সটাইল আইকন ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা এর সাথে বুননের সাক্ষাৎকার | Interview of...

টেক্সটাইল আইকন ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা এর সাথে বুননের সাক্ষাৎকার | Interview of textile icon Engr. Salim Reza with Bunon

বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে বস্ত্রশিল্প আর যেহেতু এটা এক বিশাল ও বহুমাত্রিক সেক্টর, এই শিল্পের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের যাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে “Made In Bangladesh ” ট্যাগ। আর, এতসব বাস্তবিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, “মিট উইথ টেক্সটাইল আইকন ” প্রোগ্রামে ইন্জি. সেলিম রেজা এর সাথে ফেইসবুকে লাইভ সাক্ষাৎকার নেয় “বুনন” পরিবার। উল্লেখ্য যে, তিনি তিনি আইটিইটি এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন এবং আরিয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, বুননের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ প্রোগ্রামটি পরিচালনা করেন, বুনন পরিবারের চিফ-কোর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আমাদের পাঠকদের জন্য বুননের সাথে ইন্জি.সেলিম রেজা স্যার এর সাক্ষাৎকারের কিছু বিশেষ মূহুর্তগুলো তুলে ধরা হলো।

বুনন: আসসালামু আলাইকুম দর্শকমণ্ডলী। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আজকে যারা বুনন এর লাইভ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত রয়েছেন, সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের অনুষ্ঠানের সার্বিক উপস্থাপনায় আমি আপনাদের সাথে যুক্ত রয়েছি, বুননের চিফ কর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আপনারা সকলেই জানেন, বুনন একটি টেক্সটাইলসম্পৃক্ত জ্ঞান আদানপ্রদানের প্লাটফর্ম এবং বুনন এর উদ্দেশ্য হচ্ছে টেক্সটাইল সেক্টরের পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের আয়োজন, “মিট উইথ টেক্সটাইল আইকন “এবং আমাদের অনুষ্ঠানের আজকে আমাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন ইন্জি. সেলিম রেজা। তিনি আইটিইটি এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন এবং আরিয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। বুনন ও দর্শকবৃন্দের পক্ষ থেকে জনাব সেলিম রেজা স্যারকে অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আজকের প্রোগ্রাম।

ইন্জি. সেলিম রেজা: ধন্যবাদ বুনন ও দর্শকবৃন্দকে, আমাকে আপনাদের প্লাটফর্মে কিছু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আপনার কাছে বর্তমানের টেক্সটাইল সেক্টরের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইবো, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যে কারিকুলামে পড়াশোনা করানো হয়, সে বিষয়ে আপনার অভিমত নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: আমাদের গার্মেন্টস শিল্প সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে , আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি বা টেক্সটাইল সেক্টর একসময় ইউরোপ-আমেরিকায় ছিলো এবং সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগে ইউরোপে বিশেষ করে জার্মানি,ইংল্যান্ড,ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল সেক্টর গড়ে উঠে। এরপর সেটা স্থানান্তরিত হয়ে কোরিয়া, চায়না, তুর্কি এবং তারপর উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, ভারত,পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে চলে আসে। যেহেতু, এটা একটা পরিবর্তনশীল সেক্টর, সেহেতু বলা চলে সেই ব্রিটিশ আমলে যে কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে, যার সময়ের সাথে কোনো পরিমার্জন বা সংস্করন করা হয় নাই,সেটা সময়ের সাথে আপডেট ও আপগ্রেড করা উচিত। আপনারা লক্ষ্য করে দেখে থাকবেন, ডিজিটাল প্রিন্ট আসছে,ডেনিমের মধ্যে অনেক টেকনোলজি আসছে, তো এইযে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে বিষয়গুলোতে, সেগুলো যদি সময়ের সাথে সাথে কারিকুলামের সাথে সংস্করণ করে যুক্ত করা হয়,তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের যারা প্রস্তুুত হচ্ছে, তারা অনেক উপকৃত হবে। শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবভিত্তিক হওয়া দরকার এবং আমাদের যারা শিক্ষক আছেন তাদের উচিত ইন্ডাস্ট্রি সম্পৃক্ত জ্ঞান ছাএদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বাস্তবভিত্তিক কারিকুলাম তৈরি করা। এবং এতে করে টেক্সটাইল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েট হয়ে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে যাবে, তখন তারা আরও ভালো অবদান রাখতে পারবে।

বুনন: আইটিইটি এর অধিভুক্ত বুটেক্স এবং যে টেক্সটাইল কলেজগুলো রয়েছে, তাদের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য ফ্যাক্টরির সাথে সম্পৃক্ততা তৈরিতে আইটিইটি কোনো ভূমিকা রাখবে কি না?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: আইটিইটি একটি অরাজনৈতিক ও পেশাদার সংগঠন। আমাদের সংগঠনের সাথে যে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা যুক্ত রয়েছেন, অবশ্যই আইটিইটি এর তাদের জন্য বিশেষ কিছু করনীয় রয়েছে। আমি বলবো সেটার সাথে আমাদের যেটা বেশি দরকার, বুটেক্স ও টেক্সটাইল কলেজের যে শিক্ষার্থীরা আছে তাদের সাথে ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সেতুবন্ধন তৈরি করা। সাধারনত শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট হিসাবে যেটা করে, সেটা নামমাত্র; এমনকি ইন্টার্নিতেও পরিপূর্ণভাবে শিখে না। কিন্তুু, তাদের উচিত নতুন নতুন টেক্সটাইল টেকনোলজি ও ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে রিসার্চ করা, আর এক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থীদের মনিটরিং করাও শিক্ষকদের জন্য পরিপূর্ণভাবে সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তো, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর শিক্ষকবৃন্দ যদি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান চর্চা ও ইন্ডাস্ট্রিতে রিসার্চের মাধ্যমে টেক্সটাইল সেক্টরের সাথে শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন তৈরি করতে চান, আইটিইটি সেক্ষেত্রে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে এবং এতে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, সাথে উপকৃত হবে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা সবাই জানি যে, এই করোনাকালীন সময়েও আইটিইটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এসম্পর্কে দর্শকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি.সেলিম রেজা: যেহেতু আইটিইটি সকল টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের কাছে একটি প্রানের সংগঠন, সেহেতু সবারই সংগঠনটির কাছে কিছু চাওয়া-পাওয়ার দাবি ও অধিকার থাকে এবং আইটিইটিও এবিষয়ে সজাগ। আমরা সবাই আইটিইটি এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট. ইন্জি. শফিকুর রহমান এর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ যখন চায়না ও তার পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিলো, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এটা বাংলাদেশেও আসবে এবং সেক্ষেএে আমাদের করনীয় কি হবে-সেসব নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করতে হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করতেছিলাম এবং যখন এটা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায় তখন সর্বপ্রথম আইটিইটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা আমাদের সংগঠনের সদস্যবৃন্দের মধ্যে হ্যান্ড-সেনিটাইজার, মাক্স, গ্লোভস ইত্যাদি বিতরণ করি। তারপরে আইটিইটি এর পক্ষ থেকে ঈদের পরে আইটিইটি এর যারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছতায় ছিলেন, তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। তারপরে, আমরা একটা শক্তিশালী টিম গঠন করি। আমাদের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট ইন্জি. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জনাব শাখাওয়াত হোসেন তালুকদার সহ ইন্জি.শামীম রহমান, ইন্জি.শাখাওয়াত হোসেন, ইন্জি.তৌহিদুর রহমান কাকন, ইন্জি.শরিফুল ইসলাম, ইন্জি.মামুনুর নাসিম সৌরভ প্রমুখদের নিয়ে আমরা একটা কমিটি গঠন করি এবং এই কমিটির মাধ্যমে প্রাভা হেলর্থ এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে আমরা একটা চুক্তিতে আসি যে আইটিইটি এর যারা সদস্যবৃন্দ এবং তাদের পরিবারবর্গ রয়েছেন, তারা করোনাকালীন পরিস্থিতিতে যেকোনো সময়ে যেকোনো রোগের বিষয়ে হটলাইনে ফোন দিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন এবং প্রেস্ক্রাইব করার জন্য সার্বক্ষনিক দুইজন ডাক্তারও রয়েছেন। এমনকি আমরা সার্বক্ষনিক এম্বুল্যান্স ব্যবস্থাও রেখেছি। পাশাপাশি,সংগঠনটির সদস্যদের জন্য প্লাজমাব্যাংক ও আইসিইউ এর ব্যবস্থা করার জন্যও কাজ করছে আইটিইটি। আইটিইটি শুধু তার সদস্যদের একটাই ম্যাসেজ দিতে চায়,যত বিরূপ পরিস্থিতিই হোক না কেনো, তাদের প্রানের সংগঠন সবসময় তাদের পাশে আছে এবং থাকবে।

বুনন: করোনাকালীন সময়েও টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের পাশে আছে আইটিইটি, কিন্তুু, যে শ্রমিকরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের জন্য আইটিইটি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: জ্বি,যে কোনো প্রতিষ্ঠানে যখন শ্রমিকরা কাজ করে, তখন তাদের দেখাশোনার কর্তব্য ঐ প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তায়। আমি বলবো যে, আমাদের দেশের স্বাস্থ্য-মন্ত্রনালয় থেকে তারা অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি, তারা যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন, সেখানকার মালিকপক্ষ যদি হ্যান্ড-সেনিটাইজার, পুষ্টিকর খাবার, মাস্ক, থার্মোমিটার সহ নানাবিধ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেন এবং কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে চুক্তি করেন, তাহলে আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরাও লাভবান হবেন।

বুনন: ধন্যবাদ, করোনার এই সময়কালে,আমরা প্রায়ই সংবাদপত্রে বা গণমাধ্যমে দেখে থাকি যে অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে একের পর এক, এক্সপোর্ট কমছে, কিন্তুু এখন আমরা দেখছি যে এক্সপোর্ট আবার বাড়তে শুরু করেছে। তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের এক্সপোর্ট কি আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসবে? -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এর মূল রপ্তানিবাজার হচ্ছে আমেরিকা এবং ইউরোপ। পাশাপাশি এখন অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, জাপানেও স্বল্পমাএায় আমাদের রপ্তানি শুরু হয়েছে। আমাদের মূল রপ্তানি বাজার হচ্ছে ইউরোপ। আপনারা জানেন, চায়নার পরেই কোভিড-১৯ এ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইউরোপের দেশগুলো, যেমন: ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, তারপরে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা। তো, আমাদের মূল রপ্তানি বাজারগুলোও করোনা আক্রান্ত।যেখানে তারা জীবন বাঁচাতেই ব্যস্ত, মৌলিক অধিকারগুলো পূরনের কথা পরে আসে। যার দরুন, মার্চ মাসে আমাদের এক্সপোর্ট শতকরা ৮০ শতাংশ কমে যায়, এপ্রিলে যেটা ৬০ শতাংশে নেমে আসে। এখন আবার কিছু কিছু দেশে অবস্থা স্বাভাবিক হচ্ছে, লকডাউন তুলে দিচ্ছে, গার্মেন্টসের চাহিদা বাড়ছে এবং নতুন অর্ডারও আসছে। তবে, এটা সত্য যে, শতকরা ২০-২৫ শতাংশ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, যাদের ব্যাংকের ধারদেনা ছিলো,কমপ্লাইন্সের সমস্যা ছিলো, তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাদের বেশিরভাগই সাটডাউন হয়ে যাবে এবং শতকরা ৬০-৭০ শতাংশ ফ্যাক্টরি টিকে থাকতে পারবে৷ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পযন্ত টেক্সটাইল সেক্টরও স্বাভাবিক হতে পারবে না এবং নিঃসন্দেহে এখন টিকে থাকাটাই মূল চ্যালেন্জ।আমাদের টেক্সটাইল সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে মালিক-শ্রমিক-পেশাজীবি মিলে একসাথে দৃঢ়তার সাথে কাজ করে গেলে কিছুটাও হলেও ধাক্কা সামলে উঠবে টেক্সটাইল সেক্টর।

বুনন: বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টরের অন্যতম মূল প্রতিযোগী ভারত ও ভিয়েতনাম এর টেক্সটাইল সেক্টর, যারা বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তো, এক্ষেত্রে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর কোন কোন জায়গায় এগিয়ে আছে এবং কোন কোন জায়গায় আমাদের উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: ধন্যবাদ। তাহলে,আমাদের প্রতিযোগী দেশ ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্কে কিছু কথা বলি৷ ভারত শিক্ষা দীক্ষায় অনেক এগিয়ে এবং তাদের বহিঃবিশ্বের সাথেও প্রচুর যোগাযোগ রয়েছে, তাদের প্রেজেন্টেশন দক্ষতা এবং ইংরেজিতে কথা বলতে পারার দক্ষতাও অনেক,যার কারনে তারা সবসময় এগিয়ে থাকে। তাদের দেশে প্রচুর তুলা উৎপাদিত হয় এবং প্রচুর ডাই-কেমিক্যাল প্লান্ট তাদের আছে। কিন্তুু তাদের দেশের সরকারের ফোকাসে টেক্সটাইল সেক্টর না হওয়ায় তারা ঐধরনের সহায়তা পায়না, যার কারনে তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ আমাদের চেয়ে ভালো হওয়ার পরেও তারা আমাদের চেয়ে এক্সপোর্টে অনেক পিছিয়ে থাকে। কিন্তুু, আমাদের দেশ ছোট হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় সময়টা কম লাগে এবং সহজও, আর তাদের দেশের চেয়ে আমাদের দেশের মিডেল- ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের লোকেরা কাজের প্রতি অনেক বেশি নিবেদিত ও আন্তরিক ।পাশাপাশি আমাদের দেশের পানির গুনাগুন মান প্রাকৃতিকভাবেই অনেক ভালো। আর, ভিয়েতনাম আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যবসার ক্ষেএে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন, জিএসপি সুবিধাও পান যেটা বাংলাদেশ ২০০৫ সালের পর থেকে পায় না, আমাদেরকে ১৫-২০% কর দিয়ে তাদের মার্কেটে ঢুকতে হয়।আর, ভিয়েতনাম এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে। তবে, ভিয়েতনাম মূলত ভিয়েতনাম না, তাদের সব উদ্দ্যেক্তা ও ইনভেস্টর চায়নারই আর তারা তৈরিও করে ফেন্সি-প্রডাক্ট। আমি বলবো, ভারত বা ভিয়েতনাম কেউই বাংলাদেশের প্রতিযোগী না, সবাই যার যার জায়গা থেকে স্বকীয়।

বুনন: আমরা দেখি যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরটা অনেকটা গতানুগতিক ধারায় চলছে, নীট ও ওভেন সেক্টরের পাশাপাশি সম্প্রত্তি ডেনিম সেক্টরটা ডেভলপ করা শুরু করেছে।তো ভিয়েতনাম যেমন ফেন্সি -প্রডাক্ট তৈরি করছে, তেমনি বাংলাদেশের ক্ষেএে সামনে এই ফেন্সি-প্রোডাক্টগুলো আসবে কিনা, এব্যাপারে আপনার কি মতামত, সে-সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বছর ধরে টেক্সটাইল সেক্টরের সাথে জড়িত। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর আশির দশকে পথচলা শুরু করেছিলো রিয়াজ গার্মেন্টসের মাধ্যমে। তারপর থেকে চলতে চলতে আজ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর সরবরাহ করছে। নিট এ আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং ডেনিমে আমরা ক্রমেই খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তুু, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজের সমস্যার কারনে এবং ওভেন ফ্রেবিকের জন্য চায়না, ভারত, পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীলতার কারনে আমাদের ওভেন সেক্টরটা পিছিয়ে আছে। এখন,যেহেতু শুধু বেসিকটা দিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আমাদের কষ্ট করতে হচ্ছে,সেহেতু আমাদেরও ভার্সেটাইল ও ফেন্সি-প্রোডাক্ট উৎপাদন শুরু করতে হচ্ছে। এখন আমরা জ্যাকেট, ব্লেজার, ব্রা-পেন্টি ইত্যাদি প্রোডাক্ট তৈরি করে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং ইনভেস্টররাও এগিয়ে আসছেন এসবক্ষেত্রে।পাশাপাশি, আমরা ডেনিম নিয়েও ব্যাপক কাজ করছি,ভেল্যু-এডেট প্রোডাক্টও আসছে সামনে এবং আসতে বাধ্য।

বুনন: আমরা যেমনটা শুনলাম আপনার কাছে যে বাংলাদেশ ব্যাক-ওয়ার্ড লিঙ্কেজে কিছুটা পিছিয়ে। তো, বাংলাদেশ যদি তার ব্যাক-ওয়ার্ড লিঙ্কেজ বাড়াতে চায় রাষ্ট্রীয়ভাবে, তাহলে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ইন্জি. সেলিম রেজা: বাংলাদেশের একটা গার্মেন্টসের ইন্ডাস্ট্রির যদি ১০০ টাকা থাকে, তার ৭৫ টাকাই খরচ হয় ব্যাক-ওয়ার্ড লিঙ্কেজের পিছনে,যারা মধ্যে ৩৫ টাকা চলে যায় সুতা কিনতে তথা স্পিনিংয়ে, ৮-১০ টাকা চলে যায় ডাই,ক্যামিকালে আর ৮-১০ টাকা চলে যায় ট্রিমস-এ্যাসোসরিস কিনতে। এছাড়া, কিছু আনুষঙ্গিক খরচ মিলে শতকরার হিসেবে, প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ চলে যায় ব্যাক-ওয়ার্ড লিংকেজের পিছনে,বাকি ২০ শতাংশ হলো শ্রমিকপক্ষের বেতন, ম্যানেজমেন্ট ও ইউটিলিটির জন্য এবং মালিকপক্ষের লাভ। এই ছিলো হিসাব। তো, আমাদের সুতার পিছনে শতকরা ৩৫ ভাগ টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু,দেশীয় মাটিতে যদি তুলা উৎপাদন করা হয়,সরকার তাঁত বোর্ডকে উদ্ভুদ্ধ করে, কৃষকসমাজকে উদ্ভুদ্ধ করে তুলা উৎপাদনের উপর জোড় দেওয়া যায়; ভারত-পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মতো দেশে ডাইস-ক্যামিকাল প্লান্ট নির্মান করা যায়; ট্রিমস-এ্যাসিসোরিসের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা যায় এবং বিজিএমইএ, বিকেএমইএ,আইটিইটি,বিটিএমসি ইত্যাদির সমন্বয়ে পরিকল্পনা করে অগ্রসর হওয়া যায়,তাহলে বাংলাদেশ ব্যাক-ওয়ার্ড লিঙ্কেজ অনেক শক্তিশালী করে গড়ে তোলা সম্ভব এবং এতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর অভূতপূর্ব সাফল্য বয়ে আনতে সফল হবে।

বুনন: বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ শতাংশ রপ্তানি আয়টা আসছে গার্মেন্টস সেক্টর থেকে।তাহলে এক্ষেত্রে যদি আইটিইটি,বিজিএমইএ, বিকেএমইএ সমন্বয় করে এক্সপোর্ট সম্পৃক্ত নিতি নির্ধারনের প্লাটফর্ম তৈরি করা যায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরটা কতটুকু আগাবে- এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: অবশ্যই, একতাই বল। আমাদের প্রানের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং আইটটিইটি দেশ ও দশের উন্নয়নের জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছে এবং দুঃসময়েও তারা পাশে থাকবে এবং এই তিন সংগঠনকে যদি একই ছাঁদের নিচে আনা সম্ভবপর হয়,তাহলে নিঃসন্দেহে উপকৃত হবে দেশের টেক্সটাইল সেক্টর, টেক্সটাইলের মালিকপক্ষ এবং সরকার। তবে আমার মনে হয়, সংগঠনগুলো স্বকীয়ভাবে আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে।

বুনন: আমরা দেখি যে, টেক্সটাইল সেক্টরে কোথাও কোথাও একজন ফ্রেসারকে বিশ হাজার, আবার কোথাও হয়ত আট হাজারের মতোও অফার করে থাকে। এই বৈষম্য দূরীকরণে বা সরকারি চাকুরিতে যেমন একটা স্কেলের মাপকাঠি থাকে, এমন কোনো স্যালারি-স্কেল বা বেতন-গ্রেডিং টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের জন্য ভবিষ্যতে আসবে কি না? -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: সরকার যেভাবে বেতনের গ্রেডিং সিস্টেম করেছে সেটা খুবই নিখুঁত। কিন্তুু, বাংলাদেশে একটা সরকারি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, কিছু বেসরকারি টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল কলেজ গুলো থেকে পড়াশোনা করা টেক্সটাইল গ্রাজুয়েটদের সবার মান কিন্তুু একই না। কেউ যদি জার্মানি থেকে টেক্সটাইলে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে আসে, আর আরেকজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টেক্সটাইল পড়ে আসে, দুইজনকে কখনই একই স্কেলে বেতন দেওয়া যাবে না। ফ্যাক্টরি ফ্রেসারকে কেমন বেতন দিবে সেটা নির্ভর করে তার যোগ্যতার উপর। এক্ষেত্রে, অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার যারা আছেন, তাদের বেতন অন্তত ২০,০০০ টাকা দেওয়া উচিত। আর,যোগ্যতা অনুসারে কোনো ফ্রেসারের বেতন কম হলে সেটা নিয়ে অবশ্যই উক্ত ফ্যাক্টরির জি.এম এর মালিক পক্ষের সাথে কথা বলা উচিত, এক্ষেত্রে আমাদেরও ভূমিকা থাকতে পারে যারা বিভিন্ন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে জি.এম;এ.জি. এম; সি.ই.ও বা বড় বড় পোস্টে আছি বা টেক্সটাইল সেক্টরের কর্ণধার হিসেবে রয়েছেন, তাদের ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি, টেক্সটাইল পড়ুয়া ছাএদেরও নিজেদের তৈরি করতে হবে, সম্প্রতি যে নতুন প্রযুক্তিগুলো এসেছে টেক্সটাইল সেক্টরে,কি কি পরিবর্তন আসছে, সবকিছু সম্পর্কেই জ্ঞান রাখতে হবে এবং সেটার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে গড়ে উঠতে হবে।

বুনন: আমরা বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেখতে পারছি, অনেক টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার বা চাকুরীজীবিরা চাকুরি হারাচ্ছেন,তাদের নিয়ে আইটিইটির কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: আইটিইটি কখনও চাইবে না তার কোনো সদস্য কর্মহীন হয়ে পড়ুক, এটা আমাদের সকলের জন্যই কষ্টদায়ক। এখানে আইটিইটির ও অনেক কাজ করার আছে। তবে, একটা কথা বলবো, এই করোনাকালীন সময়ে অতিরিক্ত লোক ছাটাই করে ফ্যাক্টরিগুলো তাদের ব্যয় কমাতে চায়, মালিকপক্ষ তাদের ফ্যাক্টরি টিকিয়ে রাখতে হবে, তাদের দিক থেকে তারাও ঠিক আছে। কিন্তুু, কাদের চাকুরি চলে যায়? যারা তাদের প্রদও সুযোগ-সুবিধার বিপরীতে কোম্পানিতে সেই পরিমান কন্ট্রিবিউট করতে পারছে না, যারা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে পিছিয়ে বা যাদের কর্মস্পৃহা কম। আর এসকল ক্ষেএে ফ্যাক্টরি বাধ্য হয় উক্ত ব্যক্তিকে চাকুরিচ্যুত করতে। এই করোনার মধ্যে অনেকের চাকুরি যেমন চলে গিয়েছে , তেমনি অনেকের চাকুরি হয়েছেও। যারা নিজেদের সেভাবে গড়ে তুলেছে বা প্রস্তুুত করেছে এবং ফ্যাক্টরির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছে, তাদের কারও চাকুরি যাবার নয়। তো, সবসময় নিজের মানটা ধরে রাখতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে সেটার বিকাশ করতে হবে। নিজের ভিত্তি শক্ত করতে হবে, কারন, আপনি কি করতে চান আর কতটুকু সফল হবেন-সেটা আপনার উপরই নির্ভরশীল।

বুনন: আমরা জানি, বুটেক্স এবং বুটেক্স অধিভুক্ত টেক্সটাইল কলেজগুলো আইটিইটি এর সদস্য, কিন্তুু এদের পাশাপাশি অন্যান্য টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে আইটিইটির আওতায় আসবে কিনা বা আইটিইটি কোনো পদক্ষেপ নিবে কিনা -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: আইটিইটি এর পদক্ষেপ তো অবশ্যই আছে। আপনারা জানেন যে, আইটিইটি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময় তথা প্রথমদিকে শুধু বুটেক্সের শিক্ষার্থীরাই আইটিইটির সদস্য হতে পারতো। তারপর, আমাদের তত্ত্বাবধানে সিদ্ধান্ত হয় যে, বুটেক্স অধিভুক্ত যে সরকারি টেক্সটাইল কলেজগুলোতে বি.এস.সি ইন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান করা হয়,সেসকল শিক্ষার্থীরাও আইটিইটির সুযোগ সুবিধা পাবে এবং অনেকে সেসকল সুযোগ সুবিধা ইতিমধ্যেই ভোগ করছেন। আর, অবশ্যই যে সকল টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যোগ্যতার প্রমান দিতে পারবে তাদেরকে আইটিইটি ভবিষ্যতে সংগঠনের সদস্য করে নিবে।তবে, যেহেতু, আইটিইটি একটি পেশাদার ও অরাজনৈতিক সংগঠন, সকল টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের আস্থা ও প্রানের সংগঠন, সেহেতু, আইটিইটি তার মান নিয়ে আপোষহীন এবং সংগঠনের সদস্য হতে হলে অবশ্যই উক্ত প্রতিষ্ঠানকে আগে যোগ্যতার প্রমান দিতে হবে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আইটিইটির সদস্যপদের বাইরে যে টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানগুলো আছে,তাদের নিয়ে সামগ্রিকভাবে আইটিইটির কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা – সে-সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: যেটা বললাম,আইটিইটি একটি পেশাদার ও অরাজনৈতিক সংগঠন , সকল টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের আস্থা ও প্রানের সংগঠন৷। অবশ্যই আইটিইটি টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ও আস্থার জায়গা।তাই,যদি কোনো টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার আইটিইটির কাছে সাহায্যের আবেদন নিয়ে আসেন, তাহলে আইটিইটি অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করবে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। বর্তমানে দেখা যায় যে অনেক টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা বি.সি.এস ক্যাডার হচ্ছেন, যেমন এ বছরও ১৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তো, এইযে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা বি.সি.এস ক্যাডারের দিকে ঝুঁকছেন, এ বিষয়ে আপনার মতামতটা যদি বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: অবশ্যই, এখানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। আমি যেটা বলবো যে, এটাও একটা ভালো দিক। কেননা, বস্ত্র, পাট, তাঁত ইত্যাদি বোর্ডগুলোতে যদি টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা দায়িত্বরত থাকেন, তারা অবশ্যই বিষয়গুলো ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারবে,কেননা সে টেক্সটাইল থেকে পড়েই গ্রাজুয়েট হয়েছেন এবং মেধার প্রমান দিয়ে সরকার কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। আমার মনে হয়, বিসিএস ক্যাটাগরিতেও ইন্জিনিয়ার-ডাক্তারদের একটা অংশ গেলে সেটা অবশ্যই ভালো একটা দিক এবং এতে অনেক উপকৃতও হবে দেশ।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা জানি যে, টেক্সটাইল ক্যাডার এখন একটা সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে, আইটিইটি কোনো ভূমিকা রাখবে কি -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: ধন্যবাদ। আইটিইটি ছাড়াও টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনেক সংগঠন এক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তুু, এক্ষেত্রে আমলারা সবসময়ই বাঁধা দিয়ে আসছে। তবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি সমন্বিতভাবে এবং একদিন আমরা সফল হবো।

বুনন: ইনশাআল্লাহ আপনার সাথে আমরাও সেই একই প্রত্যাশায় রইলাম। আমরা জানি যে,আপনি ব্যক্তিজীবনে একজন সফল উদ্দ্যেক্তা। একজন উদ্দ্যেক্তা ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কি কি বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন এই বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা জানতে চাচ্ছি এবং যারা উদ্দ্যেক্তা হতে চান, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি থাকবে?

ইন্জি. সেলিম রেজা: যখন, কেউ টেক্সটাইলের জব করে ও দীর্ঘদিন মেধার স্বাক্ষর রেখে পরিনত হয়ে উঠে,তারপর সে টেক্সটাইল সেক্টরের একজন উদ্দ্যেক্তা হওয়ার কথা চিন্তা করতেই পারে। তবে, তাদেরকে অনেক প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।আমাদের দেশে একজন উদ্দ্যেক্তার সর্বমোট ২৭ জায়গা থেকে সুপারিশকৃত সার্টিফিকেট লাগে এবং পদে পদে অনেক বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। যার কারনে, আমাদের দেশে হয়ত এিশ-চল্লিশ হাজারের মতো সরকারি-বেসরকারি টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার আছে,কিন্তুু হাতে-গোনা ২০ জন উদ্দ্যেক্তাও বের হন নাই। আর, একজন উদ্দ্যেক্তার এগিয়ে যেতে অনেক বাঁধা আসবেই, তবে তাকে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যেতে হবে।

বুনন: বাংলাদেশের নিজস্ব একটা বিশাল দেশীয় মার্কেট আছে। তো, নতুন উদ্দ্যেক্তারা অথবা বড় বড় ফ্যাক্টরিগুলো দেশীয় মার্কেটকে ফোকাস করতে পারে কি না?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: হ্যাঁ। আমাদের অনেক বড় একটা দেশীয় বাজার রয়েছে। আমাদের দেশে মূলত ভারত-পাকিস্তান থেকে কাপড় আসে,যেটা আমাদের জন্য অনেক দুঃখজনক।তবে, বাংলাদেশও দেশীয় মার্কেটে নিজেদের জায়গাটার উন্নতি করছে। স্বচ্ছতা ও সঠিক মান নিশ্চিত করে অনেকেই দেশীয় মার্কেটে ব্যবসা করছেন এবং এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা অনুষ্ঠানের একবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। যারা টেক্সটাইলে পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য আপনার কি কি পরামর্শ থাকবে?-সে-সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি. সেলিম রেজা: যারা টেক্সটাইলে পড়াশোনা করছো, তাদের এই করোনার মধ্যে আইটি সম্পৃক্ত বিষয়গুলো যেমন: এক্সেল, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, প্রেজেন্টেশন এসব তৈরি করা শিখতে হবে, ইমোশনাল ইনটেলিজেন্স বিষয়টা শিখতে হবে, সফট স্কিলগুলো চর্চা করতে হবে, লিডারশীপ শিখতে হবে, টিম-ওয়ার্কিং শিখতে হবে, ভাষাগত ও মেশিন-প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যারা নিজেকে চ্যালেন্জ দিয়ে সেটা পূরন করার মানসিকতা নিয়ে আগাবে, তারা অনেক ভালোভাবে ভবিষ্যৎ জীবনে উন্নতি করতে পারবে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে চলে এসেছি আমরা। এপর্যায়ে আপনার কাছে জানতে চাই, “বুনন” যে টেক্সটাইল সেক্টরের নলেজ-শেয়ারিং প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, এক্ষেত্রে বুনন নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

ইন্জি.সেলিম রেজা: ধন্যবাদ। আমি অন্তত খুশি হয়েছি বুনন এর এমন কাজকর্মে,যেভাবে তারা নলেজ-শেয়ারিং প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে “জ্ঞান”। আমরা পৃথিবীতে কেউ একশ-দুইশ বছর বেঁচে থাকবো না। আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের চেয়েও পৃথিবীটাকে সুন্দরভাবে বাসযোগ্য করে তুলবে।আর,এজন্য তাদের দরকার হবে জ্ঞানের, আর বুনন যেহেতু টেক্সটাইল সম্পৃক্ত নলেজ শেয়ারিং প্লাটফর্ম, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেক কিছু শিখতে পারবে বুনন থেকে।তাই, বুনন এর জন্য রইলো শুভকামনা এবং অভিনন্দন।

বুনন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বুননের সাথে যুক্ত হয়ে আজকে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন?

ইন্জি. সেলিম রেজা: ধন্যবাদ, এতক্ষণ ধৈর্য্য যারা শুনছেন আমাদের। আমি আবারও ধন্যবাদ জানাই বুননকে সবার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আপনারা সবাই বৈশ্বিক এই ক্রান্তিলগ্নে সুস্থ থাকুন এবং নিজেদের প্রস্তুুত করুন এমনভাবে, যেনো আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি। ইনশাল্লাহ,এই কোভিড-১৯ ভাইরাস একদিন পরাজিত হবে, মানবজাতি জয়ী হবে, সেপর্যন্ত আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন-এই শুভকামনা রইলো সবার প্রতি।আসসালামু আলাইকুম।

বুনন: ধন্যবাদ স্যার,শুভকামনা রইলো আপনার জন্য। সুপ্রিয় দর্শকমণ্ডলী,আপনারা যারা এতক্ষণ ধৈর্য্য ধরে আমাদের শুনছিলেন, সবার সুস্থতা ও সফলতা কামনা করে আমাদের আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

Reporter:
Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador, BUNON

23 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিভিং অর্গানিজম থেকে টেকসই টেক্সটাইলের উদ্ভাবন: পরিবেশ বান্ধব টেক্সটাইলের দিকে অগ্রযাত্রা

টেক্সটাইল শিল্প হল ভোক্তা পণ্য উৎপাদনের বিশ্বের প্রাচীনতম শাখা। এটি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যময় সেক্টর যেখানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ফাইবার (যেমন:...

করোনা প্রতিরোধে গাঁজার মাস্ক!

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশ্বজোড়া আন্দোলন চলছে। তবুও পরিবেশ রক্ষায় মানুষ এখনও অনেকটাই সচেতন নয়। এতদিন মানুষই পরিবেশের ক্ষতি করতেন। এবার সেখানেও...

ডুয়েটে মাইক্রোসফট এক্সেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের "ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার এন্ড রিসার্চ ক্লাব ( DTCRC) "শিক্ষার্থীদের সফটস্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষে মাইক্রোসফট...

৩ মাসে গ্যাপের লোকসান ১ বিলিয়ন ডলার | Gap records nearly $1 billion in losses on past 3 months.

গ্যাপ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী খুচরা পোশাক বিক্রয়কারী একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। গত বৃহস্পতিবার গ্যাপের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা মহামারীর কারনে গত ৩ মাসে...

‘রিসোনেন্স’ আমেরিকার ১০ জন ফ্যাশন ডিজাইনারকে ৫০০০০ ডলার সহয়তা প্রদান করবে | Resonance to Donate US $50,000 to 10 Black Fashion Designers.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য এবং সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরানো। দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই বলা যায় কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য চলে...

অর্গানিক কটন | Organic Cotton

আমাদের বস্ত্রশিল্পের সর্বোচ্চ ব্যবহৃত কাচামাল হচ্ছে কটন যা ইন্ডিয়া, মিশর, তুরস্ক, চীন, কিরগিজস্থান, আমেরিকার সহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত হয়ে থাকে। কটন...