32 C
Dhaka
Sunday, October 25, 2020
Home Interviews Association বিশেষ সাক্ষাৎকার: টেক্সটাইল আইকন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন

বিশেষ সাক্ষাৎকার: টেক্সটাইল আইকন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন

বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে বস্ত্রশিল্প আর যেহেতু এটা এক বিশাল ও বহুমাত্রিক সেক্টর, এই শিল্পের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের যাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে “Made In Bangladesh ” ট্যাগ। আর, এতসব বাস্তবিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, “মিট উইথ টেক্সটাইল আইকন ” প্রোগ্রামে  ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন এর সাথে ফেইসবুকে  লাইভ সাক্ষাৎকার নেয় “বুনন”। উল্লেখ্য যে, তিনি আইটিইটি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন এবং শেলসশাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর কান্ট্রি-ম্যানেজার হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, বুননের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ প্রোগ্রামটি হোস্টিং করেন, বুনন পরিবারের চিফ-কোর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আমাদের পাঠকদের জন্য বুননের সাথে ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন এর সাক্ষাৎকারের কিছু  বিশেষ মূহুর্তগুলো তুলে ধরা হলো।

বুনন: আসসালামু আলাইকুম দর্শক। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আজকে যারা বুনন এর লাইভ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত রয়েছেন, সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের অনুষ্ঠানের সার্বিক উপস্থাপনায় আমি আপনাদের সাথে যুক্ত রয়েছি, বুননের চিফ-কোর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আপনারা সকলেই জানেন, বুনন একটি টেক্সটাইল সম্পৃক্ত জ্ঞান আদানপ্রদানের প্লাটফর্ম এবং বুনন এর উদ্দেশ্য হচ্ছে টেক্সটাইল সেক্টরের পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের আয়োজন, “মিট উইথ টেক্সটাইল আইকন “এবং আমাদের অনুষ্ঠানের আজকে আমাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন – ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন। তিনি আইটিইটি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন এবং শেলসশাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর কান্ট্রি-ম্যানেজার হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। বুনন ও দর্শকবৃন্দের পক্ষ থেকে জনাব ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন স্যারকে অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করছি আজকের প্রোগ্রাম।

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আমি ধন্যবাদ জানাই বুননকে সবার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। 

বুনন: স্যার,ধন্যবাদ আপনাকে, ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেওয়ার জন্য।আমরা সবাই জানি যে, আপনে নব্বইয়ের দশকে টেক্সটাইলে পড়াশোনা করেছেন এবং আজকে আপনে একজন সফল ব্যক্তিত্ব, টেক্সটাইল সেক্টরের উজ্জ্বল নক্ষত্র। আপনি শেলসশাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার। স্যার,অনুষ্ঠানের শুরুতেই আপনার এই সফলতার গল্প নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন? 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: প্রথমেই বলবো, সকল প্রশংসা পরম করুনাময় আল্লাহর জন্য। আমি আসলে ১৯৭৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার দোয়েল নামক একটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। এরপর আমার শিক্ষার হাতেখড়ি হয় অএ গ্রামের একটি প্রাইমারি বিদ্যালয়ে। তারপরে, উওর সিরাজগঞ্জের অন্যতম সুপরিচিত তারাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমি ১৯৯১ সালে এস.এস.সি এবং তার দুইবছর পরে রাজশাহী গভমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। তারপর, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে টেক্সটাইলের উপর গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ করি। এরপর, আমি তখন থেকেই ভাবতাম কিভাবে আলাদা কিছু করা যায়। তো, আমি টেক্সটাইল সেক্টরের চাকুরি দিয়েই আমার ক্যারিয়ার শুরু করি। শুরুটা হয় বাংলাদেশের অন্যতম সুপরিচিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপে চাকুরি করার মধ্যে দিয়ে এবং সেখানে আমি সাড়ে তিনবছরের মতো চাকুরী করেছিলাম। তারপর আমি আরেকটি কোম্পানিতে চাকুরি শুরু করি এবং যে বায়ারদের সাথে আমি ডিলগুলো করতাম, তারা আমাকে তাদের কোম্পানিতে জয়েন করতে বলেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় আমি শেলসশাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড -এ চাকুরী শুরু করি এবং এর ঠিক দেড় বছর পরেই আমাদের কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার স্থানান্তরিত হয়ে চলে যান এবং কোম্পানি থেকে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল দায়িত্বটা নেওয়ার এবং কোম্পানির  সবার সহযোগিতায় এবং আল্লাহর রহমতে  একবছর পরে অবশেষে আমি ২০০৬ সালে  শেলসশাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয় এবং ২০০৬ সাল থেকেই আমি শেলসশাম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। 

বুনন: জ্বি স্যার, ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি যখন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেছেন, তখন সাধারনত টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এ মানুষ পড়তে চাইতো না, তো এক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে আপনার টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করার গল্পটা যদি শেয়ার করতেন।

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আসলে, ২০০৮ সালের আগে বুটেক্স যখন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজ ছিলো, তখন পরিস্থিতি এমনটাই ছিলো, টেক্সটাইলে সাধারণ আগ্রহ নিয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম ছিলো। কিন্তুু, সেই টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজটিই  যখন ২০০৮ সালে “বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ” বা ” বুটেক্স ” হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তারপর থেকে সবার কাছে সুপরিচিত এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিচরণে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। যাইহোক, আমার বড়ভাইয়ের এক বন্ধু টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এ পড়ে ক্যারিয়ার সুন্দরভাবে শুরু করেছিলেন। পাশাপাশি, পেপার-কাটিং রেখে দিতাম টেক্সটাইল নিয়ে লেখা কলামগুলোর।খবরের কাগজে দেখতাম, টেক্সটাইল এবং লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এর সেই ডিমান্ড চাকুরির বাজারে। তো, ছোটবেলা থেকেই আমার টেক্সটাইলে পড়ার প্রতি আগ্রহ ছিলো। যার কারনে, বিআইটি তে ভর্তি হওয়ার পরেও সেটা ছেড়ে টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়েছিলাম। আসলে, ছোটবেলা থেকেই মাথায় গেঁথে গিয়েছিলো যে টেক্সটাইলে পড়লে একটা সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন করা যাবে এবং সেজন্যই টেক্সটাইলে পড়া।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে।আপনি ক্যারিয়ার নিয়ে যেমন পরিকল্পনা করেছিলেন, সেভাবে সফলও হয়েছেন। আমরা আপনাকে দেখে সত্যিই অনেক অনুপ্রানিত। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা জানতে চাই,বুটেক্স, বুটেক্স অধিভুক্ত টেক্সটাইল কলেজগুলো এবং যে টেক্সটাইলের প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, তাদের পড়াশোনার কারিকুলাম কেমন এবং এই শিক্ষা কারিকুলামের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জনের বিষয়ে আপনার কি মতামত? 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আসলে গ্রাজুয়েশনের জন্য বুটেক্স এবং বুটেক্স অধিভুক্ত টেক্সটাইল কলেজগুলোতে যে সিলেবাস আছে, সেটা যথেষ্ট এবং যর্থাথ। কিন্তুু, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকটা গতানুগতিক ও পুরানো হয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা যে মার্চেন্ডাইজিং বা সেলস্ এর কাজ করছি, সেগুলো সেইভাবে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই, আমি বলবো, সিলেবাসগুলোকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করা উচিত, ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি করে কারিকুলাম তৈরি করা উচিত। আমরা যখন পড়েছিলাম, তখন কোনো ডিপার্টমেন্ট ছিলো না,শুধুমাত্র  শেষ সেমিস্টারে এসে একশত মার্কের একটা পরীক্ষার জন্য আমাদের কেউ  হয়ত ডায়িং, কেউ হয়ত স্পিনিং, কেউ হয়ত প্রিন্টিং, কেউ হয়ত নিটিং বা ওয়েভিং এ পড়তো, কিন্তুু বাকি সব একই ছিলো। কিন্তুু, এখন তো ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী ভাগ হয়েছে।তাই  তাদের প্রথম থেকেই ডিপার্টমেন্ট ভিওিক বাস্তব ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল নলেজের সাথে সম্পৃক্ততা তৈরি করতে পারলে ভালো হবে, তার কাছ থেকে ফ্যাক্টরি কি কি চাইবে সেগুলোও সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যাতে সে চাকুরিজীবনে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে তার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। 

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা জানি যে আপনি চাকুরির পাশাপাশি অনেক পেশাদার ও সামাজিক  সংগঠনের সাথে জড়িত। যেমন, আপনি আইটিইটি এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন । অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে আমরা আপনার কাছে জানতে চাই, আইটিইটি কি এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে। 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: বাংলাদেশের সব সেক্টরেরই পেশাদার সংগঠন রয়েছে,যারা উক্ত সেক্টরের সকল পেশাদারদের সাথে জড়িতদের দেখাশোনা করে থাকে। তো,আমাদের বুটেক্সের বড় ভাইয়েরাও অনেক আগে টেক্সটাইল সেক্টরের জন্য  একটি পেশাদার সংগঠন গড়ে তোলেন, যা “ITET” বা “Institution of Textile Engineers and Technologists” হিসেবে বহুল পরিচিত এবং ১৯৮৩ সালে এটি সুসংগঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আইটিইটি মূলত বুটেক্সের টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের সংগঠন হিসেবে ছিলো এবং তারপরে বিভিন্ন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজও সংগঠনটির সদস্যপদ পায়। আইটিইটি মূলত বাংলাদেশের সকল পেশাদার টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের অভিভাবক হিসেবে দেখাশোনা করে আসছে এবং সবার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। এছাড়া,আইটিইটি টেক্সটাইল সেক্টরের পেশাজীবিদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সবসময় সজাগ এবং সকল পরিস্থিতিতেই সংগঠনটির সদস্যদের পাশে আছে এবং থাকবে। টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি হচ্ছে, টেক্সটাইলে স্বতন্ত্র ক্যাডার, যেটা নিয়ে আইটিইটি কাজ করে যাচ্ছে, আমরা এবং আমাদের সিনিয়ররা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমরা একদিন সফল হবই। পাশাপাশি, সরকারি মন্ত্রানলয়গুলোতেও আমরা যোগাযোগ রাখছি এবং সর্বস্তরে আমাদের টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের সক্ষমতা এবং অধিকারের কথা তুলে ধরছি, বৈদেশিক আয়ের প্রায় যে শতকরা ৮৫ শতাংশ টেক্সটাইল পেশাজীবীদের হাত ধরেই আসে সেবিষয়টিকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিটি স্তরে আমরা তুলে ধরছি এবং তাদের যর্থাথ অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি মূলত যখন বুটেক্স কলেজ ছিলো, তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ছাএ-সংসদের জি.এস ছিলাম, ভারপ্রাপ্ত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং  নেতৃত্বের সেই ধারাবাহিকতায় আমার আইটিইটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া হয়। আমি বলতে চাই যে, আইটিইটি সব সময় বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের পেশাদারদের পাশে আছে এবং তাদের উন্নতির জন্য কাজ করে যাবে।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে।আইটিইটি তার পরিকল্পনা নিয়ে সফলভাবে এগিয়ে যাক এবং আমরা সবাই এই কামনাই করি।আমরা দেখছি যে, টেক্সটাইলে নিত্য-নতুন প্রযুক্তি ও পরিবর্তন  আসছে। তো, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের মান উন্নয়নে আইটিইটি কোনো পেশাদার ট্রেইনিং-সেন্টার করবে কি না?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: এই দাবিটা বিভিন্ন সময়েই এসেছে এবং এটার কাজও বিবেচনাধীন আছে। তবে, আপাতত আমরা চেষ্টা করছি, বিভিন্ন প্রোফেশনাল সেমিনারের মাধ্যমে টেক্সটাইলের পেশাজীবীদের মান্নোয়নে এবং তারা যে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করে, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন বের করে থাকি। পাশাপাশি,ট্রেইনিং সেন্টারের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে এবং আইটিইটি বিভিন্ন টেক্সটাইল সেমিনার ও ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে টেক্সটাইলের পেশাদারদের মান-উন্নয়ন করে যাচ্ছে। 

বুনন: জ্বি,ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা জানি যে,করোনার কারনে আমাদের টেক্সটাইল সেক্টর এখন অনেকটা নাজুক অবস্থায় আছে, অনেক ফ্যাক্টরির অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে, আবার কোনো কোনো ফ্যাক্টরি অর্ডার কমপ্লিট হওয়ার পরও শিপমেন্ট দিতে পারছেনা। তো, আমাদের টেক্সটাইল সেক্টর এই নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবে কি?-এসম্পর্কে আপনি কি মনে করেন?

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমাদের বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর কতটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে গত সিজনে রপ্তানি আয় ছিলো ৩৪ বিলিয়ন ইউ.এস ডলার,সেখানে ২০১৯-২০ সময়কালে আমাদের লক্ষ্যমাএা ছিলো ৩৬ বিলিয়ন ইউ.এস ডলার, কিন্তুু আমাদের রপ্তানি হয় মাএ ২৭-২৮ বিলিয়ন ইউ.এস ডলার। পাশাপাশি, অনেক টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, চাকুরিহীন হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। তবে, আমি মনে করি, আমরা যদি আর তিন-চার মাস টিকে থাকতে পারি, তাহলে আমাদের বায়ারদের কাছ থেকে অনেক অর্ডার আসবে এবং ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর। কেননা, এখন করোনাকালীন সময়ে মানুষের বেঁচে থাকাটাই যেখানে চ্যালেন্জ, সেখানে বায়াররা পোশাক নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। তবে, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বায়ারদের বাংলাদেশেই আসতে হবে উচ্চ চাহিদা ও মানসম্পন্ন অর্ডার নিয়ে এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরও তখন আস্তে আস্তে ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারবে।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা জানি যে, এদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রায় ৮৫% আসে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর থেকে। কিন্তুু, ব্যাক-ওয়ার্ড লিংকেজ দুর্বল হওয়ায় এর একটি বিশেষ অংশ খরচ হয়ে যায় এবং গ্রস-ইনকাম কমে যায়। এক্ষেত্রে, ব্যাক-ওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে আমাদের দেশে?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আসলে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এই জায়গায় আমাদের সরকার আপাতত দৃষ্টি দিচ্ছে না, তবে এটা ফোকাস করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমাদের বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টরের রপ্তানি আয় গত বছর ৩৪ বিলিয়ন  ইউ  এস ডলার এবং এবছর ২৮ বিলিয়ন ইউ এস ডলার ছিলো, যার মধ্যে শতকরা ৩৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে ব্যাক-ওয়ার্ড লিংকেজের পিছনে তথা কাঁচামাল কিনতে। কিন্তুু, এরপিছনে অনেক যৌক্তিক কারণও রয়েছে।যেমন,আমাদের তুলা আমদানি করতেই হয়; আবার প্রোডাক্টের গুনগত মান অক্ষুন্ন রাখতে অনেকক্ষেএে বিশেষ মানসম্পন্ন সুতা, ফেব্রিক, ট্রিমস ও আমদানি করতে হয়। তবে, আমাদের ব্যাক-ওয়ার্ড লিংকেজ ক্রমেই উন্নত হচ্ছে,কেননা যেখানে কাঁচামালের পিছনে ২০১৪-১৫ সালে খরচ হতো রপ্তানি আয়ের ৪৫%, এখন সেটা ৩৭% এ নেমে এসেছে এবং দিনদিন কাঁচামাল কেনার খরচ ক্রমেই কমে আসছে।এখন, অনেক ডেনিম ফ্যাক্টরি তৈরি হয়েছে যারা সাফল্যের সাথে কন্ট্রিবিউশন করে যাচ্ছে এবং আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের ডেনিম সেক্টর স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে। আমরা নিট সেক্টরে অনেক স্বয়ংসম্পূর্ণ, তবে ওভেন সেক্টরে উন্নতি করতে সময় লাগবে। তবে আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগটা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে আমাদের ব্যাক-ওয়ার্ড লিংকেজের উন্নয়ন আবশ্যক এবং এতে কাঁচামাল কিনতে আমাদের খরচ ক্রমেই কমে আসবে।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। নিট ও ওভেন সেক্টরের পর বাংলাদেশের ডেনিম সেক্টরও দিন দিন উন্নতি করছে। ১৯৯৬ সালে সাসা ডেনিম থেকে আস্তে আস্তে বিস্তর করতে করতে বর্তমানে দেশে ৩০ টার মতো ডেনিম ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে। কিন্তুু আমরা যদি ভারত বা চায়নার দিকে তাকাই, তারা এসবের পাশাপাশি টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের উপর ফোকাস করছে এবং একটা টেকনিক্যাল টেক্সটাইল প্রোডাক্টে লাভের পরিমাণটাও নিট ও ওভেন প্রোডাক্টের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তুু,  অধিক  লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা কেনো টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের উপর ফোকাস করছেন না?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আসলে, আমাদের যেহেতু টেকনিক্যাল ফেব্রিকের সোর্স নেই, সেটা চায়না থেকে আনতে হবে এবং সেক্ষেত্রে  ৩০-৩৫ দিনের একটা লিড-টাইম আছে, যেটা বায়ারের জন্য অনেক সময়সাপেক্ষ। তো, এখানে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। পাশাপাশি, আমাদের টেকনিক্যাল টেক্সটাইল নিয়ে কাজ করার মতো দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত ম্যাশিন ও সুপার-ভাইজার নেই। তবে, আমাদের দেশের যারা বড় বড় উদ্যেক্তা রয়েছেন, তারা বিনিয়োগ করে এসকল ভেল্যু-এডেড প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন। অবশ্য, অনেক ইন্ডাস্ট্রিতে ভেল্যু-এডেড প্রোডাক্ট তৈরিও হয়, কিন্তুু সেটা অনেক সামান্য, তবে আস্তে আস্তে এটার ভলিউমও বাড়বে। আর,  শুধু বেসিক প্রোডাক্ট দিয়েই টিকে থাকা যাবে না। তাই বাংলাদেশ ও ভেল্যু-এডেড ও ফেশানেবল-প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী চার-পাঁচ বছরে হয়ত বাংলাদেশও এসকল প্রোডাক্ট তৈরিতে জোর দিবে।

বুনন: আমরাও আশা করছি, বাংলাদেশের টেকনিক্যাল টেক্সটাইল সেক্টর খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে। আমরা জানি যে, বাংলাদেশে ছেলেদের পোশাকে খুব ফোকাস করা হয়। কিন্তুু, মেয়েদের পোশাকগুলো যেমন শাড়ি, সালওয়ার-কামিজ সহ যে লেডিস-প্রোডাক্টগুলো রয়েছে, সেগুলো ভারত বা পাকিস্তান থেকে আসে। বাংলাদেশের এতো বড় একটা টেক্সটাইল সেক্টর থাকা সত্ত্বেও কেনো এইসব লেডিস আইটেমে ফোকাস করা হচ্ছে না-এ সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আসলে আমাদের বাংলাদেশের এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড যে মার্কেটটা রয়েছে, তারা আসলে আন্তর্জাতিক মার্কেটকে নিয়েই কাজ করে আসছে। আর, বাংলাদেশেরও কোনো শো-রুম বা চেইন শো-রুম নেই, যেখানে তারা একটি প্রোডাক্ট তৈরি করে প্রদর্শনী করতে পারবে।আবার,আমাদের নিজেদেরও দেশীয় প্রোডাক্টের প্রতি কোনো দরদ নেই, আমাদের মা-বোনরাও ঘুরে-ফিরে সেই ভারতের কাপড়ই কিনবে। তবে, আমাদের ১৭ কোটির এই বিশাল  দেশীয় মার্কেট নিয়েও ভাবার আছে,কাজ করার আছে।তবে, যারা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট আছেন,তাদেরও দোষারোপ করে লাভ নেই, কেননা তারা যদি দশ হাজার শাড়ি তৈরি করে, তবে তারা সেটা বিক্রি করবেন কোথায়? আর, আমাদের তো কোনো চেইন শো-রুমও নেই। দশ হাজার পিসের জায়গায় সেক্ষেত্রে পাঁচশ – এক হাজার শাড়ির ক্রেতা হয়ত সর্বোচ্চ পাওয়া যাবে।কিন্তুু, তা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেট-আপের সাথে যায় না। যার কারনে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টরা এক্ষেত্রে  লোকাল বা দেশীয় মার্কেটকে টার্গেট করছেন না।আমার যেটা মনে হয় দেশীয় মার্কেট নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ইন্ডাস্ট্রিয়ালদের আপাতত নেই, তবে দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে ভবিষ্যতে হয়ত দেশীয় মার্কেট নিয়ে তারা কাজ করতে পারেন।

বুনন: জ্বি,ধন্যবাদ আপনাকে । আশা করি, আমাদের উদ্যেক্তারা দেশীয় মার্কেটটাকে ফোকাস করবেন এবং মানসম্মত পন্য নিয়ে কাজ করবেন। অনেক সময় আমরা দেখি যে, নিউমার্কেটে বা অন্যান্য জায়গা থেকে আমরা কিছু এক্সপোর্ট -ওরিয়েন্টেড প্রোডাক্ট পাই, কিন্তুু একবারে আসল প্রোডাক্টগুলো পায় না। আশা করি, আমাদের উদ্দ্যেক্তারাও এসব ক্ষেএে ফোকাস করবেন এবং আমাদের দেশীয় টেক্সটাইল সেক্টরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: এক্ষেত্রে আমি বলবো, বেক্সিমকোর ইয়োলো, আম্বার ডেনিমের আম্বার লাইফস্টাইল,স্ট্যান্ডাড গ্রুপের রাইস সহ আরও চারটি চেইন-শো-রুম খুলেছে। এই সেক্টরেও কাজ হচ্ছে এবং আগামী কিছু বছরে আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা দেখি যে, আমাদের দেশের টেক্সটাইল সেক্টরের টপ ম্যানেজমেন্টভিওিক পদগুলো ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কানদের দখলে, যেখানে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের থাকার কথা। তাহলে, এক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা কেনো  পিছিয়ে আছেন?- সে-সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আমি মনে করি, আমাদের দেশীয় টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের সাথে ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কার টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের পার্থক্য হচ্ছে, তাদের উপস্থাপন দক্ষতা, ইংলিশ-স্পিকিং  ও প্রেজেন্টেশন আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। আগে, প্রোডাকশন সেক্টরে নন-টেক্সটাইলের অনেক মানুষ কাজ করতো, এখন আমাদের দেশীয় টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা কাজ করছেন। পাশাপাশি, টেক্সটাইল ব্যাক-গ্রাউন্ড থেকে এম.এস.সি, এম.বি.এ করা মানুষেরা ক্রমেই টেক্সটাইল সেক্টরের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখাগুলোর উচ্চতর পর্যায়ের যোগ্যতার প্রমান দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। আসলে,এ ভাবে আমাদের দেশীয় টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা যত ভালোভাবে তাদের প্রস্তুুত করে গড়ে তুলবেন এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবেন, ততই আমরা টেক্সটাইল সেক্টরের টপ-ম্যানেজমেন্টের উচ্চ আসন গুলোতে নিজেদের জায়গাটা শক্ত করতে পারবো।

বুননঃ জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। যারা বর্তমানে টেক্সটাইল সেক্টরে জব করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কি পরামর্শ থাকবে?

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: যারা টেক্সটাইলে জব করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবো।তারা অবশ্যই টেক্সটাইলের বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারনা রাখবেন এবং যত পারবেন শেখার চেষ্টা করবেন। আর,শেখার ক্ষেএে যার অভিজ্ঞতা আছে তাকে সবসময় সম্মান দিবেন এবং কাজ শিখে সেটা প্রয়োগও করবেন। পাশাপাশি, যারা টেক্সটাইল সেক্টরে জব করছেন বা পেশাদার রয়েছেন, তারা  যদি প্রেজেন্টেশন দক্ষতা ও ইংরেজি ভাষায় কথা শোনা ও বলার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন, তাহলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।এছাড়াও নিজেকে টেক্সটাইলের সাম্প্রতিক প্রযুক্তি- জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। বস্তুুত, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে চাকুরি করতে হলে সবাইকে স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টের কাজগুলো নখদর্পনে রাখতে হবে এবং নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুুত করতে হবে যেন নিজের কাজ ও দায়িত্বের জায়গাটা থেকে সে সর্বোচ্চ দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে পারেন।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। এখন দর্শকদের মধ্যে থেকে একটি প্রশ্ন নিবো। আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় সালা উদ্দিন স্যার আপনার কাছে প্রশ্ন করেছেন যে আমাদের বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্টের ক্ষেএে ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে অনেক পিছিয়ে নেই কি?  -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: এটা অবশ্যই ঠিক যে আমরা রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছি। এজন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন রিসার্চ সম্পৃক্ত কাজ থাকার দরকার, তেমনি রিসার্চ থাকার দরকার ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও। কিন্তুু, এক্ষেত্রে যারা আগ্রহী রয়েছেন, তারা তেমন সুযোগ বা সময় পান না স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। তবে আমার মনে হয়, রিসার্চ ছাড়া আমরা এগোতে পারবো না এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রিগুলোতেও যারা রিসার্চার ও ডেভেলপার আছেন, তাদের অবশ্যই নবীন সম্ভাবনাময়ীদের  জন্য রিসার্চ-সম্পৃক্ত কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তাহলেই আমাদের প্রোডাক্টে বৈচিত্র্য আসবে এবং বেসিক প্রোডাক্টের পাশাপাশি আমরা নিত্যনতুন প্রোডাক্ট তৈরি করে বিশ্ববাজারে আমাদের অবস্থান শক্ত করতে পারবো।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে আমরা দর্শকদের মধ্যে থেকে আরেকটা প্রশ্ন নিবো। দর্শকদের মধ্যে একজন জানতে চেয়েছেন, অনেকে  উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে পড়তে চলে যাচ্ছেন অথবা সরকারি চাকুরীর দিকে বেশি ঝুঁকছেন।- এসম্পর্কে আপনার অভিমত কি?

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আসলে, সরকারি চাকুরী যারা করেন, তারা বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট চিন্তা করেই ঢুকছেন এবং তাদের অবশ্যই মেধা ও যোগ্যতার প্রমান দিয়ে সরকারি চাকুরীতে জয়েন করতে হচ্ছে। কিন্তুু, আমরা যদি দেখি, তাহলে বুঝতে পারবো যে, সংখ্যাটা খুবই নগন্য। কেননা, প্রতিবছর বুটেক্স থেকে প্রায় ৬০০ ও সকল টেক্সটাইল কলেজ বা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সর্বমোট  চার-পাঁচ হাজারের মতো টেক্সটাইল গ্রাজুয়েট বের হচ্ছেন, যেখানে বিসিএস বা সরকারি চাকুরীতে যোগদান করছেন মাএ  ২০ থেকে ২৫ জনের মতো।আমি বলবো,এটারও দরকার আছে। কেননা, সরকারি যে মন্ত্রানলায়গুলোর সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা আছে,তাঁত,পাট বা বস্ত্র  মন্ত্রানলয়ে,সেখানে টেক্সটাইল গ্রাজুয়েটরা থাকলেই আমাদের জন্য সুবিধাজনক। কেননা তাকে  একজন নন-টেক্সটাইলর লোকের মতো বুঝাতে হবে না আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনগুলোর কথা এবং পাশাপাশি তাদের এই টেক্সটাইল সেক্টরের প্রতি ভালোবাসা ও প্রচেষ্ঠাও থাকবে। আর, উচ্চতর শিক্ষা যারা করতে যাবে তারা পিএইচডি, রিসার্চ করে এসে সেটা দেশের টেক্সটাইল সেক্টরের উন্নতির জন্যই কাজে লাগাবেন। যদিও একটা অংশ বিদেশেই চলে যাবে এবং সেটাও স্বাভাবিক। তবে,আমি মনে করি, এক্ষেত্রে সার্বিক প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরের গ্রাজুয়েটরা দেশের উন্নয়নে আরো ভালো ভূমিকা পালন করতে পারবে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা আপনার কাছে জানতে চাই, টেক্সটাইলে যদি স্বতন্ত্র ক্যাডার দেওয়া হয়, সেটা দেশের টেক্সটাইল সেক্টরের উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখবে? 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আমি যেটা আগে বললাম, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় শতকরা ৮৫ শতাংশ আসেই টেক্সটাইল সেক্টর থেকে। কিন্তুু, আমাদের সেক্টরটা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে টেক্সটাইলে স্বতন্ত্র ক্যাডার না থাকার কারণে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনেই এমনটা হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যেই একটা প্রস্তাবনা তৈরি করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাঠিয়েছিলাম এবং সেটা তারা পর্যবেক্ষণ করে পাঠিয়েও দিয়েছেন। তবে,অনেক আমলারা এটার বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আর আমাদের প্রস্তাবনা সংসদে উঠতে হবে এবং পাসও হতে হবে।সুতরাং এটা একটা জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া হবে। কিন্তুু দেশের স্বার্থে আইটিইটি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এক্ষেত্রে। সুতরাং, টেক্সটাইল সেক্টরের স্বার্থে আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরে স্বতন্ত্র ক্যাডার দরকার এবং আমি আজকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই একটা বার্তা সবার উদ্দেশ্যে পৌঁছে দিতে চাই যে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ দেখতে চাইলে, আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, টেক্সটাইল সেক্টরের জন্য স্বতন্ত্র ক্যাডারের পদ নিশ্চিত করতে হবে এবং তখনই কেবল বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এক নতুন আঙ্গিকে বিশ্ব দরবারে নিজেদের তুলে ধরতে সমর্থ হবে,শ্রমিকরা ভালো থাকবে, ব্যাক-ওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী হবে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর বহিঃবিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।

বুনন: জ্বি স্যার, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। অনুষ্ঠানের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি আমরা। অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে যারা টেক্সটাইলের শিক্ষার্থী, গ্রাজুয়েট বা ফ্রেশাররা রয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন? 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: আমি মনে করি যে করোনাকালীন এসময়ে সবাই অনেকই খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এসময় সবাইকে সুস্থ থাকতে হবে এবং পাশাপাশি আত্ন-উন্নয়নে নিজেকে আত্ন-নিয়োগ করতে হবে এবং ভবিষ্যত জীবনের সকল সম্ভাব্য  চ্যালেন্জ মোকাবিলার জন্য নিজেকে প্রস্তুুতি নিতে হবে। যারা পাস করে বের হয়েছো, তাদের সবারই চাকুরী হয়ে যাবে আগে বা পরে, কিন্তুু করোনাকালীন সময়ে পেশাদার জীবনে প্রবেশের আগে যার যে জায়গায় ঘাটতি আছে, সেখানে ঝালিয়ে নাও,যেনো ভাইভা বোর্ডে একজন যোগ্য টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার হিসেবে সক্ষমতার প্রমান দিতে পারো।

বুনন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। আশা করি, আমাদের দর্শকরা তাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে । পাশাপাশি, সার্বিকভাবে ধন্যবাদ জানাই দর্শকদের যারা পুরো প্রোগ্রাম জুড়ে আমাদের সাথে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন? 

ইন্জি.মোঃ শাখাওয়াত হোসেন: ধন্যবাদ বুনন ও সকল দর্শকবৃন্দকে ধৈর্য্য ধরে এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য।সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে সাবধানে জীবনযাপন করুক এব  সুস্থ থাকুন, এই  কামনাই করি।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। বুনন এবং দর্শকবৃন্দের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং সকলের সুস্থতা ও সফলতা কামনা করে আমাদের আজকের প্রোগ্রাম এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

Reporter:
Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador, BUNON

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিভিং অর্গানিজম থেকে টেকসই টেক্সটাইলের উদ্ভাবন: পরিবেশ বান্ধব টেক্সটাইলের দিকে অগ্রযাত্রা

টেক্সটাইল শিল্প হল ভোক্তা পণ্য উৎপাদনের বিশ্বের প্রাচীনতম শাখা। এটি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যময় সেক্টর যেখানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ফাইবার (যেমন:...

করোনা প্রতিরোধে গাঁজার মাস্ক!

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশ্বজোড়া আন্দোলন চলছে। তবুও পরিবেশ রক্ষায় মানুষ এখনও অনেকটাই সচেতন নয়। এতদিন মানুষই পরিবেশের ক্ষতি করতেন। এবার সেখানেও...

ডুয়েটে মাইক্রোসফট এক্সেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের "ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার এন্ড রিসার্চ ক্লাব ( DTCRC) "শিক্ষার্থীদের সফটস্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষে মাইক্রোসফট...

করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা -১৬

আমাদের দেশের প্রথম সারির ১০০ জন স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক এর সাথে কথা বলে যা বুঝেছি, তাদের সবার এক নম্বর মাথা ব্যাথা...

বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বুননের সাক্ষাৎকার | Interview on higher study in Belgium

বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম...

নাইট অফিসার উপাধি পেলেন এনভয় ও শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ

প্রতিবছর স্পেনের রাজা 'অর্ডার অব সিভিল মেরিটে'র আওতায় দেশী ও বিদেশী নাগরিকদের বিভিন্ন খেতাবে সম্মানিত করেন। আলফোনসো অষ্টম স্পেনের রাজা ১৯২৬...