28 C
Dhaka
Sunday, October 25, 2020
Home Interviews Educationist বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বুননের সাক্ষাৎকার | Interview on higher study in Belgium

বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বুননের সাক্ষাৎকার | Interview on higher study in Belgium

বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে বস্ত্রশিল্প আর যেহেতু এটা এক বিশাল ও বহুমাত্রিক সেক্টর, এই শিল্পের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের যাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে “Made In Bangladesh ” ট্যাগ।
আর, এতসব বাস্তবিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, টেক্সটাইলে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা,  প্রক্রিয়া ও তাৎপর্যতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতে ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি এর সাথে ফেইসবুকে লাইভ সাক্ষাৎকার নেয় “বুনন” পরিবার। তিনি বর্তমানে বেলজিয়ামের গেন্থ ইউনিভার্সিটিতে টেক্সটাইল বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। উল্লেখ্য যে, বুননের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ প্রোগ্রামটি পরিচালনা করেন, বুনন পরিবারের চিফ-কোর্ডিনেটর, ওয়েজ আহমাদ রিপন। আমাদের পাঠকদের জন্য বুননের সাথে ইন্জি.মোঃফজলে রাব্বি এর সাক্ষাৎকারের বিশেষ মূহুর্তগুলো তুলে ধরা হলো।

বুননঃ আসসালামু আলাইকুম দর্শকমন্ডলী। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যারা বুননের লাইভ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত রয়েছেন, সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের অনুষ্ঠানের সার্বিক উপস্থাপনায় যুক্ত রয়েছি আমি, বুনন এর চিফ কোর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আপনারা সবাই জানেন বুনন টেক্সটাইলের বহুমাত্রিক বিষয়ের জ্ঞান সরবরাহের প্লাটফর্ম। আমাদের মূল লক্ষ্য জ্ঞান সরবরাহের মাধ্যমে পেশাদার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং তারই ধারাবাহিকতায় জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডের নিয়ে লাইভ প্রোগ্রামের পর আমাদের আজকের প্রোগ্রাম, “টেক্সটাইলে অধ্যয়ররত শিক্ষার্থীদের জন্য বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা “।আমাদের আজকের প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে রয়েছেন  ইন্জি.মোঃফজলে রাব্বি। তিনি বর্তমানে বেলজিয়ামের গেন্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইলের উপর মাস্টার্স করছেন।বুনন ও দর্শকবৃন্দের পক্ষ থেকে ইন্জি.মোঃফজলে রাব্বি ভাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি।

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: ধন্যবাদ জানাই বুননকে আমাকে সবার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

বুনন: ধন্যবাদ ভাই। আমরা জানি যে, আমাদের টেক্সটাইল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের যারা আর্থিক চিন্তা সহ নানাবিধ কারনে বাংলাদেশের বাহিরে উচ্চশিক্ষার কথা চিন্তা করার সাহস পায়না। তাদের উদ্দেশ্যে যদি আপনার অনুপ্রেরণামূলক বেলজিয়াম যাএার গল্পটি শেয়ার করতেন।

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: আসলে, আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকে আমার মনে সুপ্ত ইচ্ছা ছিলো বিদেশে পড়তে যাওয়ার, তবে আমি বলবো প্রবল ইচ্ছা কখনই ছিলো না।এরপর,আমি যখন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী তে তৃতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ করি, তখন চর্তুথ বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় আমার ক্যম্পাস সিনিয়র শাহীন ভাইকে জার্মানিতে পারি জমাতে দেখে আমার মনের ভিতরেও সেই সুপ্ত ইচ্ছাটা জেগে উঠলো। তো, শাহীন ভাইকে দেখে এবং পছন্দের বিষয় সার্চ করে আমিও জার্মানি ভাষার জন্য এ-ওয়ান সম্পূর্ণ করি, তারপরে জানতে পারি জার্মানি এম্বাসিতে IELTS স্কোর লাগে। তো,আইলটস এর জন্য প্রস্তুুতি নিতে থাকি।কিন্তুু, আর্থিক সমস্যার কারনে আইলটস্ পরীক্ষা দেওয়া হয় নি, চাকুরীতে যোগদান করি।কিন্তুু পরে চাকুরী ভালো না লাগায়, হতাশ হলাম এবং চাকুরী ছেড়ে দিয়ে জার্মানিতে যে সিনিয়র থাকে তার সাথে পরামর্শ করে বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম এবং পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলাম, কিন্তুু তাৎক্ষণিক ৭-৮ লাখ টাকার দরকার ছিলো এবং পোল্যান্ডের ভাষাও শিখতে হতো, যার কারনে কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও যাওয়া হয়নি। তারপর আরও অনেক বাইরের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করলাম, কিন্তুু কোনোভাবেই কিছু হলো না। এরপরে অনেক দেশ নিয়ে সার্চ করে পরে বেলজিয়াম ভালো লাগে এবং আবেদন করি বেলজিয়ামের গেন্থ ইউনিভার্সিটিতে। কেননা, উক্ত ভার্সিটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে অনেক ভালো লেগেছিল এবং বিশ্ব-র‍্যাংকিং এ দুইশ-তিনশর মধ্যেই থাকে সবসময়। আবার, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবো, সব মিলিয়ে সেভাবে মোটিভেশান লেটার লেখে জমা দেই এবং ফিডব্যাক পজিটিভ আসলে আশায় বুক বাঁধি। কিছু, প্রতিবন্ধকতা ছিলো এবং আমিও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চান্স পাওয়া নিয়ে অনেক চিন্তার মধ্যে ছিলাম, কিন্তুু শেষ পর্যন্ত আমার মেইলে কনফার্মেশন ইমেইল আসে এডিমেশনের। অনেক খুশি হয়েছিলাম সেইদিন। কিন্তুু, তখনও আমি স্কলারশিপ পাই নি, আমাকে বলা হয়েছিলো, বেলজিয়ামে যাওয়ার পর প্রথম সেমিস্টারের পর স্কলারশিপের কথা বিবেচনা করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। তো, আমাকে ব্যাংক-ব্যালেন্সে টাকা দেখিয়েই বেলজিয়ামে আসতে হয়।

বুনন: আপনি বেলজিয়ামে যাওয়ার পর তাদের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস কেমন দেখলেন? অর্থাৎ বেলজিয়াম সম্পর্কে আপনার একটি সংক্ষিপ্ত অভিমত জানতে চাচ্ছি।

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: দেশটা অনেক সুন্দর এবং এদেশের মানুষরা অনেক বন্ধুসুলভ।আর,এখানে মূলত খ্রিষ্টান ধর্মাবল্বীদের বসবাস, তাছাড়া অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষই আছে।সবাই সবার সাথে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে। আমি বলবো, বসবাসের জন্য বেলজিয়াম অনেক সুন্দর একটি দেশ।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। বেলজিয়ামে যারা উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়,তাদের কখন আবেদন করতে হবে?

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: বেলজিয়ামে আসলে একটাই সেমিস্টার বহিঃবিশ্বের ছাএদের জন্য। আর,আবেদন শুরু হয় প্রতিবছরের পহেলা অক্টোবর থেকে এবং আবেদনের সময়সীমা থাকে মার্চ পর্যন্ত। সাধারনত,গেন্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে আবেদন শুরু হয় এবং তারপর বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে থাকে।

বুনন: আবেদনের ক্ষেএে অনেকে গ্রাজুয়েশন এর সিজিপিএর ব্যাপারে চিন্তিত থাকে, তো এবিষয়ে যদি কিছু বলতেন? 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: আচ্ছা, এক্ষেএে বাঁধাধরা কোনো সিজিপিএ রিকোয়েমেন্ট সাধারণ নেই,তবে নূন্যতম সিজিপিএ ৩ থাকলে, একজন শিক্ষার্থী আবেদনের দ্বিতীয় ধাপে যেতে পারে। আর,যাদের সিজিপিএ কম থাকবে, তাদের কারিকুলাম এক্টিভিটিজ,মোটিভেশান লেটার, রিসার্চ-পেপার,ভালো আইএলটস স্কোর রাখতে হবে। 

বুনন: বর্তমানে, বেলজিয়াম সরকার বহিঃবিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কি কি স্কলারশিপ অফার করে থাকে -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: বেলজিয়ামের সরকার আগে তিনটি স্কলারশিপ অফার করতো, এখন চারটি হয়েছে যেমন: ইরাসমুস মুন্ডাস, ইরাসমুস প্লাস, টপ-গ্র্যান এবং ভি.এল.আর স্কলারশিপ। ইরাসমুস মুন্ডাস স্কলারশিপ সরাসরি টেক্সটাইলে নেই,তবে প্রক্রিয়াধীন আছে; তবে টেক্সটাইলে ইরাসমুস প্লাস স্কলারশিপ আছে যেটা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট ও সার্বিক দিক বিবেচনায় পেয়ে থাকে। আর, টপ-গ্র্যান স্কলারশিপ পেয়ে থাকে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা। তো, বাংলাদেশের টেক্সটাইলের যে শিক্ষার্থীরা বেলজিয়ামে পড়তে আসবে, তারা ইরাসমুস প্লাস ও টপ-গ্র্যান স্কলারশিপ পাবে।

বুনন: যখন একজন শিক্ষার্থী ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ায় যাবে,তখন তাকে কি কি কাগজ গুছিয়ে রাখতে হবে?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: একজন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে আবেদনকালীন সময়ে এস.এস.সি থেকে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত ট্রান্সকিপ্ট ও সার্টিফিকেটের স্ক্যানকপি গুছিয়ে  রাখতে  হবে। পাশাপাশি, পাসপোর্ট, মোটিভেশান লেটার ও দুইটি রিকমেন্ডেশন লেটার প্রস্তুুুত রাখতে হবে। যদি কেউ গ্রাজুয়েশন শেষ করেই আবেদন করে, তবে তাকে অএ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রফেসরের কাছে রিকমেন্ডেশন লেটার নিতে হবে এবং চাকুরী করলে একজন প্রফেসর এবং অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকতার রেকমেন্ডেশন লেটার নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে, অন্তত সহকারী-প্রফেসরের থেকেও রেকমেন্ডেশন লেটার নেওয়া যেতে পারে,তবে কোনো লেকচারারের থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার নিলে সেটা গ্রহনযোগ্য হয় না। হার্ড-কপির জন্য ব্যাচেলর্সের ট্রান্সকিপ্ট ও সার্টিফিকেট প্রস্তুুত রাখলেই হবে। সাথে আইএলএটস সার্টিফিকেটও প্রস্তুুত রাখতে হবে। 

বুনন: এক্ষেত্রে, বেলজিয়ামে আবেদনের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে IELTS স্কোর কত রাখতে হবে? -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: বেলজিয়ামের ক্ষেএে গড়ে নূন্যতম IELTS স্কোর ৫.৫ থাকতে হয়।

বুনন: আবেদনের ক্ষেএে শিক্ষার্থীকে যে মোটিভেশান লেটার ও রেফারেন্স লেটার দিতে হয় -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: মোটিভেশান লেটারে একজন শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে বলতে হয় যে সে কেনো কোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায় অথবা কোর্সটা করতে চায়, সেটাকে ভবিষ্যৎ জীবনে সে কিভাবে কাজে লাগাবে ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও দেশের কল্যাণে ইত্যাদি। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীকে তার মোটিভ বুঝিয়ে মোটিভেশান লেটারটা লিখতে হয়।

বুনন: এছাড়াও যেসকল শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বেলজিয়ামের ভাষার উপর কোর্স করতে চাইবে,তারা কি সেখানে গিয়ে কোর্স করতে পারবে ?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: কোনো শিক্ষার্থী যদি কোর্স করতে চায়, তারা অবশ্যই কোর্স করতে পারবে। সেক্ষেত্রে, সে ফ্রেঞ্চ বা ডাচ ভাষার উপর কোর্স করতে পারবে।

বুনন:  একজন শিক্ষার্থীকে আবেদনের জন্য কি কি কাগজপত্র এবং ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় -এসম্পর্কে  যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: আচ্ছা। মূলত প্রথম ধাপে একজন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে আবেদনকালীন সময়ে এস.এস.সি থেকে গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত ট্রান্সকিপ্ট ও সার্টিফিকেটের স্ক্যানকপি গুছিয়ে রাখতে হয় ; পাসপোর্ট, মোটিভেশান লেটার ও দুইটি রিকমেন্ডেশন লেটার প্রস্তুত রাখতে হয়। আর,হার্ড-কপির জন্য ব্যাচেলর্সের ট্রান্সকিপ্ট ও সার্টিফিকেট প্রস্তুুত রাখলেই হয়। সাথে আইএলএটস সার্টিফিকেটও প্রস্তুুত রাখতে হয়। এরপর, অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরন করার পরে তারা এপ্রুভাল দিবে এবং ডকুমেন্ট জমা দিতে বলবে।এক্ষেত্রে, ডকুমেন্টের ক্ষেএে ব্যাচেলর্সের সার্টিফিকেট ও ট্রান্সকিপ্ট জমা দিতে হবে এবং সেটা অবশ্যই পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের এডুকেশন-মিনিস্ট্র, ফরেন-মিনিস্ট্র এবং সবশেষে বেলজিয়াম কনসুলেট অফিস থেকে সত্যায়িত করে পাঠাতে হবে।

বুনন: আমরা জানি যে, এডমিশন লেটার পাওয়ার পর কাজ শুরু হয় ভিসা প্রসেসিং এর,তো ভিসা প্রসেসিংয়ের পদ্ধতি কি হবে ও সেজন্য কি কি কাগজপএ গুছিয়ে রাখতে হবে?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: একজন শিক্ষার্থীর এডমিশন লেটার পাওয়ার পর প্রথম কাজ হলো তাকে ব্লক একাউন্ট খুলতে হবে। ব্লক একাউন্ট খুলতে হলে আবেদনকারীর ছবি,এডমিশন লেটার,পাসপোর্ট এবং কোর্সের সময়সীমার ডকুমেন্ট, রিফান্ড পলিসির ডকুমেন্ট ইত্যাদি লাগে। এসব জমা দিলে একদিনের মধ্যেই তারা স্টুডেন্ট ফাইল খুলে দিবে এবং পরের দিনই টাকা পাঠানো যাবে। টাকা পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই কনফার্মেশন চলে আসে এবং তারা সার্টিফিকেট ইস্যু করে এবং সাথে সাথে তারা মেইলও দেয় যে আবেদনকারী কবে এ্যাম্বাসি ফেইস করবে?আর,ভিসার জন্য এডমিশন লেটার, ব্যাচেলর্সের সার্টিফিকেট ও ট্রান্সকিপ্ট এর মূলকপি, পুলিশ সার্টিফিকেট,মেডিক্যাল সার্টিফিকেট,ব্লক-এ্যাকাউন্টের সলভেন্সি সার্টিফিকেট,আইএলটসের সার্টিফিকেট এবং পাশাপাশি কিছু সহায়ক ডকুমেন্টস জমা দিতে হয়। এসকল কাগজপত্র বেলজিয়াম কনসুলেট অফিস থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে। আর ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য প্রথমেই ভারতে যেতে হবে এবং ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে ভি.এফ.এস এ এবং তাদের কাছে নিজের সুবিধামত অনলাইনে  এ্যাপোয়েনমেন্ট-ডেইট নিতে হবে এবং তারপর ইন্ডিয়ান বেলজিয়াম এ্যাম্বাসির ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরন করে সকল ডকুমেন্টের তিন সেট করে জমা দিতে হবে। এরপর, তারা ডকুমেন্ট জমা নিয়ে সবকিছু নিরক্ষণ করে একটা স্লিপ দিবে। একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম,এ্যাম্বাসিতে যাওয়ার আগে আবেদনকারীকে তাদের কন্ট্রিবিউশন ফি দিতে হয়  এবং সেটা হলো ২০৪ ইউরো এবং এটাও জমা দিতে হয় সব ডকুমেন্টের সাথেই। তারপর,এ্যাম্বাসি থেকে প্রদও স্লিপ নিয়ে এ্যাম্বাসিতে ছবি তুলে ফিংগারপ্রিন্ট দিলে, তারা আবার পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে দেয় এবং এভাবেই ভিসা-প্রসেসিংয়ের কাজও শেষ হয়।

বুনন: ভিসা প্রসেসিং হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থী যখন বেলজিয়ামে পড়তে চলে যাবে, তারপর সেখানে গিয়ে তার থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তো,সেখানকার আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে যদি কিছু বলতেন? 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: ইউরোপের বাকিদেশগুলোর মতো এখানেও আবাসন পেতে প্রথম প্রথম অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং কিছু প্রতারনা চক্রও আছে। আবার, হোটেলের ভাড়াও অনেক। তবে, কোনো শিক্ষার্থী যে ডিপার্ট্মেন্টের, সেটার কো-অর্ডিনেটর এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে, অনেক সুবিধা হয় বাসা খুঁজে পেতে। তবে, ইরাসমুস স্কলারশিপ পেলে ছয় মাস পরপর হয়ত থাকার জায়গা পরিবর্তন করতে হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বাসা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। তবে, এখানকার মানুষগুলো অনেক বন্ধুসুলভ এবং পরোপকারী হওয়ায় তেমন ভোগান্তি পোহাতে হয় না। 

বুনন: আপনি বাংলাদেশ থেকে বি.এস.সি ইন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং সম্পূর্ণ করে বর্তমানে বেলজিয়ামের গেন্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইলের উপরেই এম.এস.সি করছেন। আপনি বাংলাদেশের সাথে বেলজিয়ামের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ কারিকুলাম এ কি বিশেষ কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন?

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: বাংলাদেশের সাধারনত থ্রিউরিটিক্যাল-ভিওিক পড়াশোনা হয়,প্র্যাকটিকাল ভিওিক পড়াশোনা কমই হয়। কিন্তুু এখানে সবকিছু হাতে-কলমে শিখতে পারে শিক্ষার্থী এবং প্রচুর পরিমাণে আধুনিক ও সাজানো কনটেন্ট পায় তারা। আর, কারিকুলামেও অনেক তফাৎ আছে। এখানকার কারিকুলাম অনেক আধুনিক। 

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে । আপনার কাছ থেকে আমরা যেমনটা জেনেছি, ঘেন্ট্ ইউনিভার্সিটি টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এর উপর ফোকাস করে-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: টেকনিক্যাল টেক্সটাইল বলতে ফায়ার-ফাইটিং স্যুট, স্পোটর্স স্যুট, সেন্সর-স্যুট,এরোপ্লেন ও এরোস্পেস স্যুট, ড্রাইভিং এন্ড হাইপারফারম্যান্স স্যুট বুঝায় এবং এগুলো তৈরিতে হাইটেক পলিমার, সিনথেটিক ও ম্যান-মেইড ফাইবার লাগে। এসকল  নানাবিধ  পলিমার ও বহুমাএিক ফাইবার নিয়ে এখানে পড়ানো হয়।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। বছরের কোন সময় থেকে কোন সময় বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয় এবং ছুটি থাকে?

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: বেলজিয়ামে সাধারণত ক্লাস শুরু হয় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকে, কিন্তুু টেক্সটাইলের কোর্স  শুরু হয় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই। আর, এখানে কোর্স-ডিউরেশন থাকে সাড়ে তিন মাসের মতো।

বুনন: অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম জব করতে চায়। তো বেলজিয়ামে পার্ট-টাইম জবের সুযোগ সুবিধা কেমন?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: হ্যাঁঁ,এখানে পার্ট-টাইম জবের যথেষ্ট সুযোগ আছে। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম জব করে নিজের মাসিক খরচ ও টিউশন ফি এর যোগান দিতে পারবে।

বুনন: জ্বি,ধন্যবাদ আপনাকে।আর,শিক্ষার্থীদের পার্ট-টাইম জব করে আয়ের ক্ষেত্রে বেলজিয়ামে কি কি নিয়মকানুন রয়েছে?

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: নিয়মকানুন বলতে একজন শিক্ষার্থী ৪৭৫ ঘন্টা কাজ করতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে, ক্রেডিট সম্পূর্ন করতে হবে, যদি কেউ ৬০ ক্রেডিটের কোর্সে দুই-তৃতীয়াংশের মতো ক্রেডিট সম্পূর্ন না করে  থাকে,তাহলে পরবর্তী বছরে তার ভিসার সময়সীমা বাড়াতে অনেক সমস্যা হয়।

বুনন: জ্বি,ধন্যবাদ আপনাকে। বেলজিয়ামে যাওয়ার ক্ষেএে যারা স্কলারশিপ পাবেনা, তাদের নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে। তো, সেক্ষেত্রে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক টিউশন ফি দিতে কি পরিমাণ টাকা দিতে হতে পারে?-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: বেলজিয়ামে সাধারণত মোটামুটি ১০০০ ইউরোর মতো দিতে হয় এক্ষেত্রে। 

বুনন: জ্বি,ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার তো মূল বিশ্ববিদ্যালয় বেলজিয়ামের গেন্থ বিশ্ববিদ্যালয়। আপনার ক্ষেএে আর কোন কোন দেশে কোর্সটা করতে যেতে হবে,যেহেতু এটা একটা শেয়ার-সাবজেক্ট? 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: আমি পরবর্তী সেমিস্টারের জন্য  ফ্রান্সের “ইউনিভার্সিটি দা হল্ট” এ যাবো সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। যারা বহিঃবিশ্বে উচ্চশিক্ষার জন্য যায়, তাদের অনেকেই সেই দেশেই ফুল-টাইম জব করে। তো,বেলজিয়ামেও এমন কোনো সুযোগ -সুবিধা  আছে কিনা?- এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: হ্যাঁ, বেলজিয়ামেও একজন যোগ্যতা অনুযায়ী ফুল-টাইম জব করে তার কর্ম-জীবন এখানে শুরু করতে পারে এবং এক্ষেত্রে যারা তৃতীয় বর্ষে বা ইন্টার্নিতে থাকে তখন থেকেই জবের জন্য আবেদন শুরু  করা উচিত। 

বুনন: কেউ যদি পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই তার কর্মজীবন শুরু করে স্যাটেল হতে চায়, সেক্ষেত্রে বেলজিয়াম সরকার নাগরিকত্ব দেয় কিনা এবং বেলজিয়ামের নাগরিকত্ব পেতে সেখানে কতবছর বাস করতে হয়? -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: নাগরিকত্ব বলতে যদি পাসপোর্টের কথা বলি,সেটা পাওয়া কঠিন,তবে পারমানেন্ট-রেসিডেন্সশিপ পাওয়া যাবে এবং এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে অন্তত পাঁচ বছর বেলজিয়ামে থাকতে হয়। এছাড়া আরও কিছু আনুষঙ্গিক রিকোয়েমেন্ট থাকতে পারে।

বুনন: জ্বি,ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা আজকের অনুষ্ঠান আর দীর্ঘায়িত করবো না।অনুষ্ঠানের এপর্যায় দর্শকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন? 

ইন্জি.মোঃ ফজলে রাব্বি: দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনাদের যেকোনো তথ্য সম্পর্কে জানতে হলে,গুগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন, সকল সম্ভাব্য উপায়ে খোঁজ-খবর নিবেন কোনো বিষয়ে পড়তে আসার আগে। আর,আপনাদের কোনো জিজ্ঞাসা আজকের প্রোগ্রামে উঠে না আসলে আমি ভবিষ্যতে হয়ত আবার আপনাদের মধ্যে হাজির হবো। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। বুননকেও অনেক ধন্যবাদ সকলের উদ্দেশ্য কিছু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমার  জন্যও সবাই দোয়া করবেন এবং করোনাকালীন এসময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। এতো ব্যস্ত সময়ের মধ্যে আমাদের সময় করে দেওয়ার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য। দর্শক,এতক্ষণ যারা ধৈর্য্য ধরে আমাদের সাথে ছিলেন, তাদের সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আপনাদের বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটা বুনন-এর কাছে পৌঁছে দিবেন এবং বুনন আপনার প্রশ্নের উওর খুঁজে দিবে। রাব্বি ভাইকে ধন্যবাদ এবং আপনাদের সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে  আজকের অনুষ্ঠান এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

Reporter: Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador, BUNON

1 COMMENT

  1. অনেক বানান এবং শব্দ ভুল হয়ছে। ভাষাগত ভুলও আছে। লেখকের উচিত ছিল কারেকশন করে নেয়া। দয়া করে ভুল গুলো ঠিক করে দিবেন লেখক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিভিং অর্গানিজম থেকে টেকসই টেক্সটাইলের উদ্ভাবন: পরিবেশ বান্ধব টেক্সটাইলের দিকে অগ্রযাত্রা

টেক্সটাইল শিল্প হল ভোক্তা পণ্য উৎপাদনের বিশ্বের প্রাচীনতম শাখা। এটি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যময় সেক্টর যেখানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ফাইবার (যেমন:...

করোনা প্রতিরোধে গাঁজার মাস্ক!

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশ্বজোড়া আন্দোলন চলছে। তবুও পরিবেশ রক্ষায় মানুষ এখনও অনেকটাই সচেতন নয়। এতদিন মানুষই পরিবেশের ক্ষতি করতেন। এবার সেখানেও...

ডুয়েটে মাইক্রোসফট এক্সেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের "ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার এন্ড রিসার্চ ক্লাব ( DTCRC) "শিক্ষার্থীদের সফটস্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষে মাইক্রোসফট...

FDS বা Fabric Detail Sheet বিস্তারিত – মার্চেন্ডাইজারের ডায়েরি

ফেব্রিক বা কাপড় কত প্রকার কি কি এগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা খুবই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যারা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ে এসেছেন বা...

‘রিসোনেন্স’ আমেরিকার ১০ জন ফ্যাশন ডিজাইনারকে ৫০০০০ ডলার সহয়তা প্রদান করবে | Resonance to Donate US $50,000 to 10 Black Fashion Designers.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য এবং সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরানো। দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই বলা যায় কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য চলে...

WUB এর উপচার্য ড.আব্দুল মান্নান চৌধুরী ও তাঁর সহযোদ্ধা প্রকাশ করলেন তাঁদের জীবনে ঘটে যাওয়া ৭ই জুনের অজানা তথ্য।

ডেস্ক নিউজ-৬দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ঘটনা। গত ৭ই জুন, রবিবার, World University of Bangladesh এর উদ্যোগে একটি অনলাইন...