33 C
Dhaka
Sunday, June 26, 2022
Home Interviews Industry Expert কর্পোরেট গ্রোমিং

কর্পোরেট গ্রোমিং

মার্চেন্ডাইজিং ও মার্কেটিং এ চাকরী করেন অথবা চাকরীতে ঢুকতে যাচ্ছেন তাদের জন্য আমি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ্য করেছি। এই পয়েন্টগুলো অনুসরণ করলে চাকরী জীবনের অনেক কিছু সহজ হবে। পয়েন্টগুলোতে চাকরীজীবনের শালীনতা থেকে শুরু করে অফিসে কি করা উচিত ও কি করা উচিত নয় সবকিছু উল্লেখ্য করা হয়েছে।এটা শুধু কর্পোরেট গ্রোমিং নয় এটা অফিস,বাসা,ব্যক্তিগত জীবন সব কিছু ব্যালেন্স করে এগিয়ে চলার গাইডলাইন।

১. কমিউনিকেশন / মেইল /কথা বলার সময় কখনোই Today / tomorrow /day after Tomorrow / Next Week / before lunch after dinner / after prayers এসব উল্লেখ্য করে কথা বলা যাবে না। সরাসরি তারিখ ও দিন উল্লেখ্য করে কথা বলতে হবে কারন বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দেশের তারিখ সময়। আপনার দেশের টাইম টেবেলের উপর আপনি উত্তর দিবেন বা কাজ করবেন বায়ারের দেশের অনুযায়ী টাইম নিবেন না। আপনার কাজ গুলো আপনার দেশের সময় মেনে করবেন ।যে যার দেশের সময় মেনে কাজ করে তাই বারতি প্রেশার নিয়ে প্রয়োজন নেই ।

২. Buyer / Supplier দের মেইল পেলে উক্ত বিষয়টি জানা না থাকলে বলতে হবে কিছুক্ষন পর জানাচ্ছি। অথবা বলতে হবে “We are getting Back “.
এখানে বলা যাবে না আমি ফ্যাক্টরী ও ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা বলে বলতেছি। কারন এটা পুরোপুরি আপনার রেসপন্সিবিলিটি।

৩.পারসোনাল ফোন নম্বার / আইডি ও মেইল আইডি কখনই কোম্পানির কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

৪. কোম্পানির ভালো মন্দ যেটাই প্রকাশ করতে হয় না কেনো কোম্পানির ভেরিফাইড বা অফিশিয়াল পেজের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।

৫. বায়ারের সাথে কথা বলা বা কমিউনিকেশন করার সময় মিটিংয়ে বেশি কথা বলা যাবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটাও কথা বলা যাবে না।

৬. মনে করেন আপনি একটা জিনিস ভুল করে ফেলেছেন। কাজে ভুল তো হতেই পারে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের ভূল ঢাকতে কখনোই মিথ্যা বলা যাবে না।
যদি ১০০% সমাধান করার কনফিডেন্স থাকে ভাল আর যদি না থাকে তাহলে সাথে সাথে সরাসরি আপনার ভুল স্বীকার করে নিতে হবে। আপনি নিজের ছোট একটি ভুল ঢাকতে গিয়ে হয়তো কোম্পানির অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারেন। ভুল স্বীকার করলে সবাই মিলে শোধরানোর অপশন থাকে।

৭. যা বুকে তাই মুখে হতে হবে। মনের দিক থেকে পরিস্কার হতে হবে কর্মক্ষেত্রেও। মনে এক কথা রেখে মুখে অন্য কথা বলা থেকে দূরে থাকতে হবে।

৮ .কোম্পানির কলিগরা কখনো নিজেদের মধ্যে নিজেদের কোম্পানির সমালোচনা করবেন না।

৯. কোন buyer /Supplier এর সাথে কথা বলার সময় নিজে অনেক বুঝেন সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না। সেটা কাজে প্রমাণ করতে হবে। আর তাদের কাছে কখনোই অন্য buyer / supplier এর সমালোচনা বা দুর্নাম করবেন না। সে আপনার কাছে আভিযোগ করলেও তাল মেলাতে যাবেন না।

১০. সৎ থাকবেন ও শিখতে সময় দিবেন। অভিজ্ঞদের সন্মান দিবেন। সফল ও ব্যর্থ উভয় মানুষের কাছে পরামর্শ নিবেন। কাজকে প্রেসার মনে করবেন না। আর নিজের জবকে সবসময় নিজের ব্যবসা মনে করবেন। সময় আপনাকে শেখাবে এবং সফলতার দিকে নিয়ে যাবে।

১১. অফিস শেষ করার পর চেষ্টা করুন নিজের পরিবারকে সময় দেবার।

১২. আপনি যে বেতন পান তার বাহিরে কখনো প্ল্যান করবেন না। লোন করে মানুষকে দেখানোর জন্য কিছু করবে না। আপনি যা এটাই মানুষের সামনে নিজেকে এমনভাবেই উপস্থাপন করবেন। মিনিমাম ৫ বছর এটা মেনে চলুন।

১৩. অফিস কলিগদের থেকে ধার দেওয়া বা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

১৪. সাল্পাই চেইনের অসৎ উপায় থেকে বিরত থাকা ভালো। এটা আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নিবে ও গ্রহনযোগ্যতা কমাবে। আপনি যখন নিজে কিছু করতে যাবেন তখন আপনার গ্রহণযোগ্যতা সবার কাছে কমে যাবে।

১৫. বন্ধুদের অফিসে না ডাকা ভালো। নিজের অফিসে সাক্ষাৎ না করা ভালো।

১৬. নিজের অফিসের সমস্যাগুলো বাইরে না বলা ভালো। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পরিবারের সাথে শেয়ার করা ভালো।

১৭. অফিসে সব সময় ভালো পোশাক পরিধান করে আসবেন (যাদের দাড়ি আছে তাদের সাজিয়ে রাখতে হবে দেখতে সুন্দর লাগে, হেয়ার জেল, বডি স্প্রে, পলিসড জুতা)। যাতে আপনাকে দেখে সতেজ মনে হয়। প্রয়োজনীয় কিটস সাথে রাখবেন। হঠাৎ মিটিং আসলে সুন্দর করে নিজের প্রস্তুত করবেন। অনেকটা ডেটিংয়ে যাওয়ার মতো। কাজকে ভালোবাসার অংশ বানাতে হবে।

১৮.মেয়েদের ক্ষেত্রে হালকা সাজুগুজু করে আসবেন। অধিক সাজুগুজু করবেন না। সব সময় চেষ্টা করবেন বাংলাদেশের জামা কাপড় পড়তে।

১৯. আপনার চাকরী জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভালো কাজ আপনাকে ভবিষ্যতে ভালো উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করবে। এটা আপনার আসল পুজি এই ব্যাপারে সৎ থাকতে হবে। না হলে একুল ওকুল দুটাই হারাবে।

২০. অফিসে কখনও উচ্চ স্বরে কথা বলবেন না। সবসময় ছোট বড় সবাই কে নম্র ও ভদ্র ভাবে কথা বলবেন। মনে রাখবেন আপনার ব্যবহার আপনার অফিসের পরিচয় বহন করে।

২১. আফিসের গার্ড , পিওন, ড্রাইভার এদের সবসময় আলাদা ভাবে খোজ খরব নিবেন ও ভালো ব্যবহার করবেন। এগুলো বসদের তেলামির চাইতে ভালো।

২২. আফিসে নিজেরা নিজেদের মধ্যে ইংরেজিতে কথা বা কমিউনিকেশন করার চেষ্টা করবেন। কেনো বিদেশী বায়ার বা সাপ্লাইয়ের সামনে কখনো বাংলা কথা বলবেন না।

২৩. শুধু কাজ আর কাজ নিয়ে থাকবেন না। নিজের কাজগুলো ৫-৬ ঘন্টার মধ্যেই সমাধান করবেন। আগামীদিনের Time and Action Plan করে নিবেন। সেটা প্রতিদিন সকালে এসে ফলো করবেন। সেটা অনুযায়ী প্রতিদিনের কাজ করবেন।
দিনশেষে মনে রাখবেন আমরা বেঁচে থাকার জন্য কাজ করি। কাজ করার জন্য বেঁচে থাকি না। কাজ অবশ্যই জরুরী, কিন্তু নিশ্চিতভাবে আমাদের জীবন কাজের চেয়ে মূল্যবান।

২৪. আমি বিশ্বের বহুদেশের কর্পোরেট আফিস দেখেছি ও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ইন্ডিয়া ছাড়া কেউই ১১/১৩ ঘন্টা কাজ করে না। চায়না, জাপানের মানুষ তারা যতক্ষন কাজ করে ততক্ষণ শুধু কাজ টাই করে। কাজের সময়ের পর তারা কাজ ছুয়েও দেখে না। ছুটিদিন তাদের খুঁজেই পাবেন না। আমাদের ও আগামীতে কাজে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

২৫.কাজ কোন চাপ নয় এটা একটা সাগরের ঢেউয়ের মত। সমস্যা একের পর এক আসতেই থাকবে সমাধান ও হতে থাকবে। তাই যারাই কাজকে চাপ হিসেবে নিবে তারা কখনই সুস্থ ভাবে কাজ করতে পারবেন না।

২৬.কাজকে গুছাতে না পাড়লে আপনি বা আপনার জীবন অগোছালো হয়ে যাবে। যতক্ষন কাজের সময় ঠিক ততক্ষন কাজ করুন। লোক দেখানো কাজ করে নিজে অসুস্থ ও পারিবারিক জীবন পরিবেশ নষ্ট করার কোন মানেই নেই।

২৭.মাসে একদিন বন্ধুদের নিয়ে ঘুরবেন খাবার দাওয়া করবেন। বেড়াতে গিয়ে একা কোন খরচ বহন করতে যাবেন না। সবাই শেয়ার করবেন এটার আনন্দ আলাদা এবং টেকসই।

২৮.সপ্তাহে একদিন পরিবারের সবাই মিলে ভাল সময় ব্যয় করবে এটার জন্য বড় কোনো রিসোর্টে যাবার প্রয়োজন পড়ে না সবাই মিলে পার্কে হেটে আসলেন। একটা সিংগারা, এক কাপ চা ও রাস্তায় এনজয় করবেন।

২৯.সপ্তাহে ৫০ -৬০ ঘন্টা কাজ করুন। এটা সাপ্তাহিক কাজের আদর্শ টাইম। আপনি ও আপনার কোম্পানি উভয়ই ভাল থাকবে। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ তবো ২০২২-২৩ এমনটা থাকবেন না এ চর্চা থাকলে এর উপকার পাবেন ।

৩০.আমাদের কাস্টোমাররা কখই বলে না আমাদের তাদের সময় ফলো করে কাজ করতে। অথবা ছুটি দিন কাজ করতে। এ গুলো আমাদের তৈরি করা।

৩১.গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল ফ্রেশারদের চাকুরীর শুরুটা ফেক্টরি থেকে শুরু করা উচিত শেখার আসল যায়গা হলো কারখানা ।

৩২. আর একজন মার্চেন্ডাইজারদের কমারশিয়াল ও ব্যাংকিং পার্ট ও জানা থাকতে হবে। পুরোপুরি না জানুক। অন্তত তার হাতে যে কাজটি আছে সে কাজটির শুরু থেকে শেষ পুরো প্রসেসটি জানতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হতে তার এই নলেজটি কাজে দিবে কাজ করতে ও করাতে সুবিধা হবে।

এগুলো আমার দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা হয়েছে। আশা করি যারা পড়বেন চাকরী জীবনে উপকৃত হবে। SDG (Sustainable Development Goal) ধরে এগিয়ে যেতে হবে।

Sala Uddin
Chairman, ASK Apparel & Textiles Sourcing.
Head of Operation, বুনন-Bunon .

Most Popular

জব ফেয়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আগামী ২৯শে জুন ২০২২ তারিখে একটি জব ফেয়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত...

❝ইন্টার্ণশীপ : সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচন❞ শীর্ষক ভার্চুয়াল ওয়েভিনার আয়োজন করেছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব

গত ১৭ জুন ২০২২ রাত ৯ টায় "সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ❝ইন্টার্ণশীপ : সঠিক ক্যারিয়ার নির্বাচন❞ শীর্ষক ওয়েভিনার ।...

BIEPOA এর উদ্যোগে “IE Excellence Training” অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লানিং ও অপারেশন এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে ২ ঘন্টাব্যাপী " IE Excellence Training " অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর উত্তরায় BAGMA ইন্সটিটিউটে।...

সারসটেক এ ২দিন ব্যাপি মোবাইল ভিডিও ইডিটিং সেশন অনুষ্ঠিত

সারসটেক মিডিয়া এন্ড ফটোগ্রাফি (এস.এম.পি.এস.) এর উদ্যোগে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সারসটেক) এ ১০ ও ১২ই জুন ২০২২ইং ২...

শিল্পনীতির সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা

রবিবার(২৯ নভেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিয়াই) 'শিল্পনীতির সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা' শীর্ষক একটি অনলাইন ওয়েবনিয়ার আয়োজন করে যেখানে কুটির,...

বাংলাদেশ আই.ই, প্লানিং এন্ড অপারেশন এসোসিয়েশন এর প্রধান উপদেষ্টামন্ডলী গঠিত

একুশ শতকের বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পে বিপ্লবের অন্যতম কারন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোর ক্ষতি হ্রাস করে, রিসোর্স গুলো সর্বোচ্চ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা। আর...

একজোট হচ্ছেন বাংলাদেশসহ ৯ দেশের পোশাক প্রস্তুতকারক দেশসমূহ

করোনার এই ক্রান্তিকালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোশাক শিল্প। বিশ্বের প্রায় সকল মানুষ গৃহবন্দি। উন্নত দেশগুলোতে কমছে পোশাক আমদানির হার।সংক্রমন বেড়ে...