28 C
Dhaka
Sunday, October 25, 2020
Home Interviews Industry Expert টেক্সটাইল আইকন সালা উদ্দিন এর সাথে বুননের সাক্ষাৎকার | Interview with textile...

টেক্সটাইল আইকন সালা উদ্দিন এর সাথে বুননের সাক্ষাৎকার | Interview with textile icon Mr. Sala Uddin

বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে বস্ত্রশিল্প আর যেহেতু এটা এক বিশাল ও বহুমাত্রিক সেক্টর, এই শিল্পের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের যাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে “Made In Bangladesh ” ট্যাগ। আর, এতসব বাস্তবিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে, “মিট উইথ টেক্সটাইল আইকন” প্রোগ্রামে জনাব সালা উদ্দিন এর সাথে ফেইসবুকে লাইভ সাক্ষাৎকার নেয় “বুনন” পরিবার। উল্লেখ্য যে, তিনি  বহুল পরিচিত রিয়াজ গার্মেন্টস এর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের সুযোগ্য পুএ এবং বর্তমানে ASK Apparel & Textiles Sourcing এর সি.ই.ও । উল্লেখ্য যে, বুননের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ প্রোগ্রামটি হোস্টিং করেন, বুনন পরিবারের চিফ-কোর্ডিনেটর, ওয়েজ আহমাদ রিপন। আমাদের পাঠকদের জন্য বুননের সাথে সালা উদ্দিন স্যার এর সাক্ষাৎকারের কিছু বিশেষ মূহুর্তগুলো তুলে ধরা হলো।

বুনন: আসসালামু আলাইকুম দর্শকমন্ডলী। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আজকে যারা বুনন এর লাইভ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত রয়েছেন, সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের অনুষ্ঠানের সার্বিক উপস্থাপনায় আমি আপনাদের সাথে যুক্ত রয়েছি, বুননের চিফ কর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আপনারা সকলেই জানেন, বুনন একটি টেক্সটাইলসম্পৃক্ত জ্ঞান আদানপ্রদানের প্লাটফর্ম এবং বুনন এর উদ্দেশ্য হচ্ছে টেক্সটাইল সেক্টরের পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করা। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের আয়োজন, “মিট উইথ টেক্সটাইল আইকন “এবং আমাদের অনুষ্ঠানে আমরা আজকে এমন একজন টেক্সটাইল আইকনকে নিয়ে এসেছি যার পরিবারের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেক্সটাইল বিকশিত হওয়া শুরু করেছিল, আর তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সুপ্রতিষ্ঠিত রিয়াজ গার্মেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিন স্যারের সুযোগ্যপুএ সালাউদ্দিন স্যার। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমরা দর্শকদের জানিয়ে রাখতে চাই, আজ ৬ জুলাই আমাদের শ্রদ্ধেয় সালাউদ্দিন স্যারের জন্মদিন,বুনন পরিবার ও দর্শকবৃন্দের পক্ষ থেকে আমরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং আজকের এই বিশেষদিনে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য স্যারের প্রতি আন্তরিক  কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

সালা উদ্দিন: প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই বুনন পরিবার ও দর্শকবৃন্দকে, যারা লাইভ প্রোগ্রামটি দেখছেন। সবাইকে আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। অনেক দিন ধরেই বুননের ওয়েবসাইটটি আমি অনুসরণ করছি এবং আমার কাছে এটি একটি অসাধারন প্লাটফর্ম মনে হয়েছে। আবারও ধন্যবাদ জানাই বুননকে তরুনদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য, আমি কোনো পেশাদার স্পিকার নই,কিন্তুু  যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলার। 

বুনন: জ্বি স্যার, ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা জানি যে, বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই  আপনাদের পরিবারের একটা অনস্বীকার্য ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমরা আপনার ও আপনার পরিবারবর্গ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে জানতে চাই -এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

সালা উদ্দিন: আসলে আমরা পুরান ঢাকার, আমার বাবা দাদা সবার জন্ম পুরান ঢাকায়। আমার বাবাই আসলে পরিবারের মধ্যে প্রথম ফেব্রিক,গার্মেন্টস,টেক্সটাইলের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। শুরুটা হয় টেইলর্স শপ দিয়ে, তারপর আস্তে আস্তে রিয়াজ স্টোর এবং তারপরে রিয়াজ গার্মেন্টস হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আসলে আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠাকালীন সময় তথা ১৯৬০ সালে  এটা একটি ‘টেইলর-শপ’ ছিলো, যেটাতে আমরা অর্ডার নিতাম এবং সেটা ছিলো আমাদের পারিবারিক ব্যবসা। তৎকালীন সময়ে মানুষ রেডিমেড গার্মেন্টসে তেমন অভ্যস্ত ছিলো না। তো,তখন আমার বাবা ছোট্ট একটা কারখানা করলেন এবং সেখানে রেডিমেড গার্মেন্টস তৈরি করা শুরু করলেন। মূলত, ১৯৫৮ সাল থেকেই চকবাজারে আমাদের কারখানা ও শো-রুমে রেডিমেড গার্মেন্টস তৈরি করা হতো।সারাদেশ থেকে লোক আসতো চকবাজার ও সদরঘাটে কাপড় কিনতে। এরই ধারাবাহিকতায়  এভাবে রিয়াজ শার্ট দুই-তিনবছরেই সারাদেশজুড়ে কাপড়ের ভালো মানের জন্য প্রচুর খ্যাতি পায়। এগুলো সব আমার বাবার মুখেই শোনা,তখন আমার জন্মই হয় নি। আমরা মূলত শার্ট তৈরি করতাম এবং রিয়াজ শার্ট তৎকালীন সময়ে সবার সুপরিচিত একটা ব্রান্ড ছিলো। রিয়াজ গার্মেন্টস ছাড়াও আমাদের আরও ৫-৬ টি ছোট কারখানা ছিলো। তবে তন্মধ্যে রিয়াজ গার্মেন্টসের তৈরি নানা প্রকারের শার্টের কদর দেশজুড়ে ছিলো। তখন করাচি থেকে কাপড় আনা হতো,চকবাজার থেকে ফেব্রিক নিয়ে রেডিমেড গার্মেন্টস তৈরি করা হতো এবং সারা বাংলাদেশ থেকে মানুষ হোল-সেলে কাপড় কিনতে আসতো। আমাদের  কিছু সেলস-কর্নারও ছিলো, যেমন নিউমার্কেটে খান-ব্রাদাস ছিলো,হোয়াক্-ফ্যাশান্স ছিলো, গ্যান্জেস ছিলো; এলিফ্যান্টরোডেও আমাদের সেলস কর্নার  ছিলো,যারা ১৯৬০ এর দশকের, তারা এইকথাগুলো ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। এইভাবে প্রথম দশবছরে সমগ্র দেশজুড়ে রিয়াজ গার্মেন্টস ছড়িয়ে পড়ে এবং সারাদেশ থেকে একটাই কথা আসতে থাকে, রিয়াজ গার্মেন্টস একটা আন্তজার্তিক মানের ব্রান্ড হওয়ার যোগ্য। আমার বাবা দেখতেন করাচি থেকে কাপড় এক্সপোর্ট করা হতো, উনি চিন্তা করতেন তারা পারলে আমরা কেনো পারবো না, সুযোগও হয়েছিল, কিন্তুু ইতিমধ্যেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টসের সবকিছুই  পুড়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর উর্দু রোডে ১৯৭২ সালে আবার “বাংলাদেশী ব্রান্ড” হিসেবে রিয়াজ গার্মেন্টস সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং একবছরের মধ্যেই আবারও সুনাম অর্জন করে ফেলে সমগ্র বাংলাজুড়ে। এরপর,রিয়াজ গার্মেন্টস টানা দশবছর একটি সুপরিচিত ব্রান্ড হিসাবে দেশীয় মার্কেটে প্রশংসার চূড়ায় ছিল। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম বানিজ্যমেলা হয়েছিল এবং বানিজ্য মেলায় আমরা একটা প্যাভিলিয়ন নিয়েছিলাম। তখন আমরা ছোট ছিলাম। যাদের পন্যগুলো সবদিক থেকে নজর কাড়বে সেগুলো বিদেশে রপ্তানি হবে এমন বলা হয়েছিল আমাদের সবাইকে এবং আমরাও সেখানে আমাদের শার্টগুলোর প্রদর্শনী করেছিলাম। প্রদর্শনীতে নানা জায়গা থেকে শার্টগুলোর সুনামের কথাই এসেছিল আমাদের কানে এবং আমরা অনেকজনের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে আমাদের পন্যগুলো বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এসব কথা শুনে আমার বাবা অনেক উৎসাহী হলেন। তখন একমাত্র  টিসিবি এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে পন্য এক্সপোর্ট করা হতো। তো আমার বাবা গিয়েছিলেন টিসিবি এর চেয়ারম্যানের কাছে শার্ট নিয়ে এবং বলেছিলেন  সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের শার্ট ও তৈরি পোশাকের অনেক কদর, আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে চাই আমাদের  তৈরি শার্ট এবং সেটা খুব শীঘ্রই নাম করবে। কিন্তুু, তখন টিসিবি বোর্ডের সবাই হাসাহাসি করেছিলো,তাচ্ছিল্যের সুরেও কথা বলেছিলো। কিন্তুু আমার বাবা বলেছিলেন তিনি পারবেন এবং সেই রুমের ভিতরে মিটিংয়ে  একজন টেক্সটাইলের সেক্রেটারিও ছিলেন, তো তিনি বাবার দেখানো ৮-১০ টা স্যাম্পল দেখে বলেছিলেন, তারা চেষ্টা করবেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয় বহুমাত্রিক দিগন্তের পথচলা। 

বুনন: আমরা সবাই জানি আপনার বাবা, প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিন বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টরের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র, একজন অনুপ্রেরনামূলক দৃষ্টান্ত। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

সালা উদ্দিন: আসলে আমরা পুরান ঢাকার, আমার বাবা দাদা সবার জন্ম পুরান ঢাকায়। আমার বাবাই আসলে পরিবারের মধ্যে প্রথম ফেব্রিক,গার্মেন্টস,টেক্সটাইলের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। শুরুটা হয় টেইলর্স শপ দিয়ে, তারপর আস্তে আস্তে রিয়াজ স্টোর এবং তারপরে রিয়াজ গার্মেন্টস হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যেটা বলছিলাম, ১৭৭৭ সালে দশ হাজার পিস শার্টের এক বিশাল অর্ডার ফ্রান্স থেকে পেয়েছিলো আমার বাবা এবং ১৭৭৮ সালের ২৮ ই জুলাই বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো তৈরি  পোশাক রপ্তানি করে  রিয়াজ গার্মেন্টস।আরেকটা কথা বলবো, রিয়াজ গার্মেন্টস এর পাশাপাশি আরও কিছু গার্মেন্টস ছিল সেসময়ে যাদের হাত ধরে টেক্সটাইল সেক্টর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে, দেশ গার্মেন্টসের কথা বলতেই হয়, যেটা ১৯৯২ সালে চট্টগ্রামে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে। তারাই প্রথম ইন্ডাস্ট্রি আকারে টেক্সটাইল সেক্টরে আত্নপ্রকাশ করে এবং রিয়াজ গার্মেন্টস সবার আগে বিদেশে রপ্তানি করে তৈরি পোশাক। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের গার্মেন্টসের কথা বলতে হলে রিয়াজ সাহেবের রিয়াজ গার্মেন্টস ও নুরুল কাদের চৌধুরীর দেশ গার্মেন্টস-উভয়ের কথাই একসাথে বলতে হবে। এদের দুজনের গার্মেন্টস থেকেই দেশজুড়ে ডালপালা হিসেবে ছড়িয়ে গিয়েছে অনেক অনেক গার্মেন্টস এবং বিস্তার লাভ করেছে বিশ বছরেরও বেশি। যাইহোক,  আমার বাবা খুবই খোলা  মনের মানুষ ছিলেন, সবার সাথেই মিশতে ভালোবাসতেন। সব পরিস্থিতিতেই তিনি স্বাভাবিক থাকতে পছন্দ করতেন।

বুনন: তৎকালীন সময়ে এতো টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার বা টেকনোলজিস্ট ছিলো না, কিন্তুু তারপরও রিয়াজ গার্মেন্টস, দেশ গার্মেন্টস সহ অনেকেই দেশীয় টেক্সটাইলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন -এর পিছনের গল্পটা যদি  বলতেন।

সালা উদ্দিন: আচ্ছা, তৎকালীন সময়ে, প্রথম দশ-পনেরো বছর বাংলাদেশে গার্মেন্টসের চাকুরীকে কেউ ভালোভাবে দেখতো না। অনেক বয়স্ক ব্যক্তিবর্গরাও মার্চেন্ডাইজিং এ জব করতেন, বিদেশ থেকে তখনও এক্সপার্ট, টেকনিশিয়ানরা আসতো এবং টেক্সটাইলের চাকুরী করতো। আমার বাবার অনেক অবদান ছিলো এসব বিষয়ে। আরেকটা বড় অবদানের কথা বলি, যখন আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টস বড় হতে শুরু করলো তখন  ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে লোক লাগতো। আমার বাবার ধারনা ছিলো, এসব নিখুঁত কাজ ধৈর্য্য ধরে করতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো পারবে। আমরা পুরান ঢাকার এবং আমাদের বাসা, অফিস, ফ্যাক্টরি সব এক কিলোমিটার এলাকার  মধ্যেই ছিলো। তো বাবা লালবাগের আশেপাশে এবং বাসা থেকে ফ্যাক্টরি যাওয়ার পথে যে এলাকাগুলো পড়তো, সেখানকার এলাকাগুলোতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মেয়ে ও তাদের মায়েদের ফ্যাক্টরিতে কাজের জন্য বলতেন, যারা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করতেন এবং অবসর সময়ে ঘরে বসে থাকতেন। তিনি সেসময়ে সবার মাইনে ২০০-৩০০ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা দিয়ে তারা তাদের সংসারের খরচ চালাতে পারে,১৯৭০-৮০ এর দিকে এটা অনেক টাকা ছিলো। কিন্তুু, মেয়ের মায়েরা বলতেন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকুরি করলে তার মেয়ের বিয়ে হবে না। তো আমার বাবা বাসায় এসে একদিন ভাবলেন এবং একটি অসাধারণ ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন। বলাবাহুল্য, আমার বাবা তখনই একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার মেয়ে মানে আমার বোন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে যাবেন। বলাবাহুল্য আমরা ৪ ভাই ও ২ বোন, আমি সবার ছোট। তো যেটা বলছিলাম, আমার বোন তখন আমার বাবার কথামতো তারসাথে ফ্যাক্টরিতে যেতেন এবং এরপর তারসাথে চাচাতো বোনও যেতো। প্রথম মাসে ফ্যাক্টরিতে দুই জন নারী কর্মী কাজ করতো, তো তারা প্রথম মাসের মাইনে পেলো, এলাকার বাকি মেয়েদের সাথে কথাটা শেয়ার করলো এবং তখন থেকেই ফ্যাক্টরিতে এলাকা ও এলাকার বাইরে থেকেও মেয়েরা আসতে শুরু করলো এবং আজ তারই ধারাবাহিকতায় গার্মেন্টস এর শ্রমিকদের প্রায় ৭৫ শতাংশই নারীকর্মী এবং আমার বোন হচ্ছে বাংলাদেশ গার্মেন্টসের প্রথম নারীকর্মী যার জন্য তিনি সম্মাননাও পেয়েছিলেন। আর, টেকনিক্যাল লোকদের ব্যাপারে বলতে হলে আগেই বলে নেই, বাংলাদেশে টেক্সটাইল আসার আগে শ্রীলংকা,ভারত, কোরিয়া এর দিকে ছিলো। তৎকালীন সময়ে সেসব দেশ থেকে টেকনিক্যাল লোকেরা আসতো, কাজ করতো, কিন্তুু তাদের সাথে বাংলাদেশের মানুষেরা কাজ করতে করতে শিখে যায় এবং দক্ষতা অর্জন করে ফেলে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস মূলত দেশীয় টেকনিক্যাল মানুষদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছে, বাইরের মানুষগুলো হয়ত কিছুসংখ্যক টেক্সটাইলে জব করছেন।

বুনন: জ্বি, ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে আপনার প্রয়াত পিতা জনাব রিয়াজ উদ্দিনকে স্মরন করছি, যার প্রচেষ্ঠার কারনেই দেশের নারীসমাজের  টেক্সটাইল সেক্টরের প্রতি অনিহার জায়গাটা আগ্রহে পরিণত হয়েছে, অনুপ্রেরনা পেয়েছে যুবসমাজ। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের বিস্তার ও ক্রমবিকাশে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে আমরা রিয়াজ গার্মেন্টসের ইতিহাসের পরবর্তী অংশটা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি-এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন। 

সালা উদ্দিন: আচ্ছা, প্রথমেই একটা মজার গল্প শেয়ার করি। ১৯৬৯ সালে চাঁদ বিজয়কারী “থ্রি-এস্ট্রোনটস” বিশ্বভ্রমনে বের হয়েছিল এবং তন্মধ্যে তারা বাংলাদেশের  ঢাকাতেও ট্যুর দিতে আসে। তো, তখন আমার বাবা তাদের তিনজনকে  তিনটা শার্ট দিয়েছিলেন এবং তারা খুবই অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন, যার কারনে বাংলাদেশ ছাড়ার আগে তারা আমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের অটোগ্রাফসহ পএ পাঠিয়েছিলেন,যেটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওনা ছিলো। এছাড়াও অর্জনের গল্পটা অনেক বড়। আমরা ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রি হিসেবেই ছিলাম।

বুনন: বাংলাদেশের রিয়াজ গার্মেন্টস যেখানে দেশীয় টেক্সটাইলকে স্বপ্ন দেখিয়েছে,পথচলা শিখিয়েছে, সেই রিয়াজ গার্মেন্টসই ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো – এর পিছনের গল্পটা যদি বলতেন? 

সালা উদ্দিন: আসলে, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশে গার্মেন্টসের সংখ্যা খুব কমই ছিলো,পাঁচশটির মতো হবে। তখন বড় ফ্যাক্টরি বলতে আট থেকে  দশ লাইনের ফ্যাক্টরি, সর্বোচ্চ হাজার শ্রমিকের ফ্যাক্টরি। আমাদের ছিলো চার থেকে ছয় লাইনের ফ্যাক্টরি। তো আমরা আমাদের বাবাকে বলতাম, ফ্যাক্টরি বড় করতে, কিন্তুু তিনি বলতেন, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বড় করলে আমরা সেটা পরিচালনা করতে পারবো না। পরে ১৯৯২ সালে আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টসের বিস্তার শুরু করলাম, নিজেদের টাকায় জায়গা কিনে ফ্যাক্টরি নির্মান করলাম এবং ১৯৯৪-৯৫ সালে সেই “গ্রীন-ফ্যাক্টরি” সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তুু,পরে নানা ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি ও জটিলতার কারনে ফ্যাক্টরিগুলো আমাদের বেঁচে দিতে হয়েছিল।  আরেকটা বিষয় বলা উচিত ছিলো আগে, ১৯৬০ এর দিকে আমাদের ভাই বোনদের মধ্যে শুধুমাত্র দুই জনের জন্ম হয়েছিল এবং তখন বাবাকে তার কাজে সহায়তা করেছে মূলত তার ভাগ্নে, আত্নীয় স্বজন। তো, যেটা বলতেছিলাম, নতুন নতুন গ্রীন ফ্যাক্টরি তৈরি করলাম, কিন্তুু দিন দিন আমাদের দায়িত্ব বাড়তে থাকলো, শ্রমিকদের টাকা দেওয়ার বিষয় নিয়ে অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হতে লাগলো একের পর এক, আর আমরাও অতটা সামলে নিতে পারতাম না তখন আমার বাবার মতো। পরে  যখন আমাদের বাবা ২০০০ সাল থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তারপর থেকে আমরা দুইভাই মার্কেটিং দেখতাম আর বাকি দুইজন প্রোডাকশন দেখতো। আমার ফুফাতো ভাই, যার কথা বলেছিলাম, আমার আব্বুর ভাগ্নে, উনি ১৯৬০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আমাদের সাথেই ছিলো, উনি প্রোডাকশন দেখতো আর আমার বাবা মার্কেটিং দেখতো। আসলে, আমার বাবা এবং ফুফাতো ভাইয়ের পারস্পরিক কম্বিনেশনের কারনেই রিয়াজ গার্মেন্টস সফলভাবে এক্সপোর্ট করতে পারতো। আমাদের ফ্যাক্টরিতে অর্ডার আসলে আমার বাবা উনার বন্ধুদের, আত্নীয়স্বজনদের অর্ডার দিতেন, সেখান থেকে অনেকেই অনুপ্রানিত হয়ে টেক্সটাইল জগতে তাদের পথচলা শুরু করেন এবং তাদের বেশিরভাগই আজকে কয়েকটি করে ফ্যাক্টরির মালিক। তো বলা যায়, রিয়াজ গার্মেন্টস থেকে যারা কাজ শিখে ভালোভাবেই সেটা কাজে লাগাতে পেরেছেন, তারা আজকে সবাই আল্লাহ রহমতে ভালো জায়গায় আছেন। এরপরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে ২০০৫ এর ৪ এপ্রিলে যখন আমার বাবা মারা যান, তারপর আমার মায়ের কথা মতো ২০০৬ সাল থেকে আমরা রিয়াজ গার্মেন্টসের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, কিন্তুু, ২০০৮ সালে বহুবিধ জটিলতার কারনে বন্ধ হয়ে যায় আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টস। আমরা সবাই এখনও টেক্সটাইলের সাথেই জড়িত।আমি অনেক টেক্সটাইল ফ্যাক্টরির মালিকদের সাথে কথা বলি,সেখানে গিয়ে দেখি আসি এবং বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের যে উন্নতি হয়েছে, সেটা কল্পনাতীত। পৃথিবী যতদিন আছে, টেক্সটাইল আছে এবং থাকবে এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টরও যেভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, এভাবেই এগিয়ে যাবে। 

বুনন: রিয়াজ গার্মেন্টস তৎকালীন সময়ে কোন কোন দেশে কি কি পণ্য রপ্তানি করতো-এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন। 

সালা উদ্দিন: আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টস ১৯৭৮ সালে সর্বপ্রথম ফ্রান্সে দশ হাজার পিস শার্ট এক্সপোর্ট করেছিলো। এছাড়াও জার্মানি, ইতালিতেও আমরা শার্ট রপ্তানি করতাম। আমরা শার্ট ও ইউনিফর্ম ইউ.এস.এতেও রপ্তানি করতাম। এরপর শার্ট,ইউনিফর্ম এর পাশাপাশি ট্রাউজারও বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করতাম ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। তাছাড়া, ১৯৯৮ সালে ভারতেও আমরা রপ্তানি করেছিলাম। আর,আমার মাধ্যমেই ২০০৮ সালের পর থেকে ভারতে আমাদের দেশীয় পোশাক রপ্তানির ক্ষেএ নতুনকরে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ইন্দোনেশিয়াতেও আমি এবং আমার বন্ধু সম্মিলিতভাবে দেশীয় গার্মেন্টস এক্সপাের্ট করেছি।

বুনন: আমরা যতদূর জানি,২০০৮ সালে রিয়াজ গার্মেন্টস বন্ধের পরে ২০১০ সালে আপনি নিজস্ব উদ্দ্যেগে  “ASK Apparel & Textiles Sourcing” নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন,এ সম্পর্কে যদি দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতেন।

সালা উদ্দিন: আমি আসলে ১৯৯৪ সালে যখন আমার গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ করি,তারপরে আমার ব্যবসার ক্ষেএটা শুরু হয় টেক্সটাইল দিয়ে। ১৯৯৪ সালে আমি এবং আমার তিন বন্ধু সালেক টেক্সটাইল মিলে গিয়েছিলাম যেটার পরিপূর্ণ ডায়িং এবং ফিনিশিং ইউনিট ছিলো,কিন্তুু সেটার অর্ধেক চালু আর বাকি অর্ধেক বন্ধ ছিলো। তো, আমি এবং আমার তিন বন্ধু মিলে সেই ফ্যাক্টরিটি ভাড়া নিই এবং ঐসময়ে আমি আমার বাবার ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য ফ্যাক্টরিতে কাপড় সাপ্লাই দিতাম, অর্ডার নিতাম এবং প্রসেসিং করে সেটা পরিপূর্ণ করতাম। তো, ঐ তিন বছরে ডায়িং এ আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়ে যায়। এরপর, ১৯৯৭ সালে আমি আমার বাবার ব্যবসার সাথে পরিপূর্ণভাবে যুক্ত হয়ে যাই। আর, টেক্সটাইলের বিষয়গুলো ভালো বুঝতাম বলে বায়ারদের সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিলো আমার। যাইহোক,২০০৮ এবং ২০০৯ সাল আমরা অনেক খারাপ সময় কাটিয়েছিলাম, কারন আমাদের রিয়াজ গার্মেন্টস আমাদের বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো এবং আমরা আমাদের সব ফ্যাক্টরিগুলোও বিক্রি করে দেই।তারপর, চার-পাঁচ বছরের মাথায় অনেক সংগ্রামের পর আমরা আবার উঠে দাঁড়াই। আমি, আমার এক বন্ধু এবং ভারতের দুই জন মিলে আমরা ” ASK Apparel & Textiles Sourcing” প্রতিষ্ঠা করি এবং প্রতি মাসে ভারতে আমরা এক-দুই মিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল পন্য এক্সপোর্ট করে থাকি। বিগত দশ বছর ধরে ক্রমেই ভারতে আমরা আমাদের  এক্সপোর্টের ভলিউম  বাড়াতে সক্ষম হয়েছি, শাখা বিস্তার করেছি এবং ভারতীয় রিটেইলাররাও আমাদের দেশে কাজ করতে আসছেন। এছাড়াও, ইন্দোনেশিয়াতেও আমরা এক্সপোর্ট করেছি। 

বুনন: আপনার দীর্ঘদিনের এই পথচলায় আপনে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার টেক্সটাইল সেক্টরের সাথে দেশীয় সেক্টরের যে সকল পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন, এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন? 

সালা উদ্দিন: বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর এখন যে জায়গায় আছে, বিশ্বের কোনো দেশই কম্পিটেশনে বাংলাদেশের সাথে পারবে না। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের গত ৪০ বছরে কিছু ব্যর্থতা ছিলো, কিন্তুু সে তুলনায় সফলতা অনেকগুণ বেশি। আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরটাকে দেশীয় টেক্সটাইল ইন্জিনিয়াররা মেধা ও সক্ষমতা দিয়ে পরিচালনা করে আসছেন,যার কারনে বিদেশীয় বায়ার,ইম্পোটার,রিটেইলাদের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর ভরসা ও আস্থার তীর্থস্থান। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরটা অনেক যোগ্য লোকেরা চালায়, কিন্তুু আমাদের সমস্যাই হচ্ছে মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে অনেক দূরত্ব আছে,যার কারনেই সমস্যাগুলো হচ্ছে। আমি আসলে একটা কথা বলতে চাই, বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের ফ্যাক্টরি আছে প্রায় পাঁচ হাজার এবং সেসব ফ্যাক্টরির সেই পাঁচ হাজার ফ্যাক্টরি মালিকই এক একজন সৈনিক এবং তাদের সবারই একটা অসাধারণ গল্প আছে যার মধ্যে ২০০ জনের রয়েছে স্বর্নক্ষারে লেখার মতো ইতিহাস ও পথচলার গল্প। তাদের গল্প শুনলে বোঝা যাবে যে তারা কত পরিশ্রম ও যোগ্যতার প্রমান দিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টরকে আজকে এপর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আমি আশা করি ‘বুনন’ আমার মতো তাদেরও গল্পগুলো তুলে ধরবে যেটা সবাইকে অনুপ্রানিত করবে ভবিষ্যতের পথচলায়। আর, বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের মতো সংগঠিত ও সুসংবদ্ধ পোশাক  শ্রমিক বিশ্বের আর কোথাও নেই,ভারত,ইন্দোনেশিয়া,আফ্রিকা ভিয়েতনাম কোথাও নেই, যার কারনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর সবসময় এগিয়ে থাকবে। আর, বাংলাদেশের  ফ্যাক্টরিগুলোর প্রোডাকশান লাইনগুলোর উৎপাদনের হারও খুবই দ্রুত এবং যথাসময়ে উপযুক্ত টেক্সটাইল তৈরি করতেও তারা পরিপূর্ণভাবে সমর্থ। এইরকম আরও অনেক পার্থক্য আছে যেখানে বাকি সবার চেয়ে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর অনেক ধাপ এগিয়ে আছে এবং থাকবে।

বুনন: আপনি তো ভারত এবং ইন্দোনেশিয়াতে দেশীয় টেক্সটাইল এক্সপাের্ট করে থাকেন, সেক্ষেত্রে যারা নতুনকরে ভারত,ইন্দোনেশিয়ায় এক্সপোর্ট শুরু করতে চাইবে, তাদের জন্য আপনার কি কি পরামর্শ থাকবে, এসম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

সালা উদ্দিন: আচ্ছা, যারা ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া বা যেকোনো দেশে তাদের তৈরি পোশাক এক্সপোর্ট করতে চাইবে, তাদের প্রথমে মার্কেট স্টাডি করতে হবে এবং কি ধরনের পোশাক বা পন্য  নিয়ে তারা শুরু করতে চান, কোন ধরনের মার্কেটকে টার্গেট করতে চান,কোন ধরনের পোশাক এবং মার্কেট বাছাই করলে তারা টিকে থেকে ব্যবসা করতে পারবেন-এমন সবকিছু নিয়ে রিসার্চ করতে হবে এবং তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, আমাদের দেশীয় মার্কেটকে টার্গেট করা যেতে পারে, নারীদের নিত্যনতুন পোশাক একটি বড় সম্ভাবনার জায়গা। সবকিছু নিয়েই চিন্তা করতে হবে। তাছাড়া, কত দাম হলে বায়ার পাওয়া যাবে, ইনভেস্টার পাওয়া যাবে, কিভাবে প্লান করলে প্রফিট উঠে আসবে-সবকিছু নিয়েই ভাবতে হবে এবং সবদিক থেকে চিন্তা করে পরিকল্পনা করে ধৈর্য্যধারন করে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। 

বুনন: টেক্সটাইল  সেক্টরে যারা তরুন প্রজন্মের আছেন, যারা হয়ত পড়াশোনা করছেন অথবা ফ্রেশার হয়ে বের হবেন, তাদের জন্য আপনার কি পরামর্শ থাকবে?

সালা উদ্দিন: আসলে, বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। আমি বলবো সবাইকে ধৈর্য্য ধরে টেক্সটাইলে চাকুরি করতে, প্রথমে হয়ত চাকুরির বেতনটা কম হবে, কিন্তুু  পরিশ্রম করে পাঁচ -সাত বছর কাজ করার পর ক্যারিয়ারে একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়াতে পারবে এবং জীবনে উন্নতি ও হবে। আরেকটা কথা বলবো, সফলতা বিষয়টা একদিনে আসে না, ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করে যেতে হবে, কাজকে ভালোবাসতে হবে এবং সময় দিতে হবে কাজের পিছনে। তাহলে, একটা সময় পরে গিয়ে তুমি সফল হবেই। 

বুনন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আজকে আপনার জন্মদিন, এই বিশেষ দিনে আমাদের এবং দর্শকবৃন্দকে সময় দেওয়ার জন্য আমরা আন্তরিকতার  সাথে আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আজকের অনুষ্ঠানটি এখানেই শেষ করছি। 

সালা উদ্দিন: আমিও বুনন পরিবারের সদস্যদেরকে রিয়াজ গার্মেন্টস এবং ASK Apparel & Textiles Sourcing এর পক্ষ থেকে শুভকামনা  জানাচ্ছি এবং সাথে দর্শকবৃন্দের জন্যও রইলো আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন। আমি ইনশাআল্লাহ বুননের সাথে আছি এবং থাকবো। 

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে এবং দর্শকবৃন্দকে। আশাকরি, সবাই বুননের সাথে থাকবেন। সকলের সুস্থতা এবং সফলতা কামনা করে আমরা আজকে বিদায় নিচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম।

Reporter: Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador,BUNON

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিভিং অর্গানিজম থেকে টেকসই টেক্সটাইলের উদ্ভাবন: পরিবেশ বান্ধব টেক্সটাইলের দিকে অগ্রযাত্রা

টেক্সটাইল শিল্প হল ভোক্তা পণ্য উৎপাদনের বিশ্বের প্রাচীনতম শাখা। এটি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যময় সেক্টর যেখানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ফাইবার (যেমন:...

করোনা প্রতিরোধে গাঁজার মাস্ক!

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশ্বজোড়া আন্দোলন চলছে। তবুও পরিবেশ রক্ষায় মানুষ এখনও অনেকটাই সচেতন নয়। এতদিন মানুষই পরিবেশের ক্ষতি করতেন। এবার সেখানেও...

ডুয়েটে মাইক্রোসফট এক্সেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের "ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার এন্ড রিসার্চ ক্লাব ( DTCRC) "শিক্ষার্থীদের সফটস্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষে মাইক্রোসফট...

করোনা মোকাবেলায় অসচ্ছলদের জন্য ইসাথির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ “মানবিক উপহার”

সারা বিশ্ব যখন করোনার মহামারিতে আক্রান্ত, স্থবির হয়ে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা, ভেঙ্গে গেছে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তখন বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং হলো অব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী হতে প্রক্রিয়াজাত করণের পর ফাইবার, ইয়ার্ণ বা ফ্যাবিক অবস্থায় ফিরে আনা, যা সম্পর্ণরূপে টেক্সটাইল...

Spandex Fibre | স্প্যানডেক্স ফাইবার | ইলাস্টেন ফাইবার | LYCRA fiber Spandex

স্প্যানডেক্স, লাইক্রা বা ইলাস্টেন ব্যতিক্রমী সিন্থেটিক ফাইবার। এটি পোলিইথার-পলিইউরিয়া কো-পোলিমার যা ১৯৫৮ সালে ভার্জিনিয়ার ওয়েইনস্বরোতে রসায়নবিদ জোসেফ শিভারসেট ডুপন্টের বেঞ্জার তার...