28 C
Dhaka
Monday, September 27, 2021
Home Interviews Industry Expert টেক্সটাইল সেক্টরে নারী প্রকৌশলীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে বুননের প্রোগ্রাম

টেক্সটাইল সেক্টরে নারী প্রকৌশলীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে বুননের প্রোগ্রাম

বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরের অন্যতম ডিজিটাল প্লাটফর্ম “বুনন” আর এম জি সেক্টরে নারী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ক্ষমতায়ন এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। গত ২২ শে আগস্ট রবিবার রাত ৯ঃ০০ টায়, বুননের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এ আলোচনা সভা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন আর এম জি সেক্টরে সফলতার সাথে কাজ করা স্বনামধন্য চারজন নারী।তারা হচ্ছেন ইসরাত জাহান (বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশন এর ডিরেক্টর), আলেয়া আক্তার শিলা (এপেক্স ফ্যাশন ওয়্যার লিমিটেড এর এইচ আর এবং এডমিন জেনারেল ম্যানেজার), ডলি থাই (ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্লথর্স “আর” ইউ এস লিমিটেড)। সাথে আরও ছিলেন মাকসুদা চৌধুরী মিশা (ম্যানেজিং ডিরেক্টর-স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেড, সালাহ রায়মন্ড এবং বাংলাদেশ-ফিলিপাইনস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সম্মানিত ডিরেক্টর)।

আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন মোঃ সালাউদ্দিন (চেয়ারম্যান আস্ক অ্যাপারেল এন্ড টেক্সটাইল সোর্সিং লিমিটেড এবং হেড অফ অপারেশন – বুনন)। তিনি বাংলাদেশের আর এম জি সেক্টর এর প্রথম রপ্তানিকারক মিঃ রিয়াজ উদ্দিন এর সুযোগ্য পুত্র। এছাড়াও উক্ত আলোচনা সভায় সহকারি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ওয়েজ আহমেদ রিপন (বিজনেস হেড, বুনন), জোবায়ের হোসাইন নয়ন (প্রধান সম্বন্বয়ক, বুনন) ও হুমায়রা আনজুমি হক (রিসার্চ এ্যাসিটেন্ট, বুনন)।

“বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”

বর্তমানে আর এম জি এবং মার্চেন্ডাইজিং সেক্টরে নারীদের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে, মিসেস ইসরাত জাহান তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে একজন সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে বলেন, ইন্টারভিউ বোর্ডে যেটা লক্ষ করেছি সেটা হল আগের থেকে বর্তমানে এই মার্চেন্ডাইজিং সাইটে নারীর সংখ্যা বেড়েছে। যেটা এক সময় খুবই কম ছিল। বেশিরভাগ ইন্ডাস্ট্রির মালিকদের ধারণা ছিল নারীরা সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে কাজ করতে পারবে কিনা। কিন্তু বর্তমানে নারীরাই তাদের এই ধারনা বদলে দিয়েছে নিজেদের কাজের মাধ্যমে।

পৃথিবীর সকল সেক্টরে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অগ্রগণ্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল সেক্টরের অগ্রযাত্রায় এর প্রভাব অনেকটাই বেশি। বর্তমানে এ সেক্টরে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন শ্রমিক কর্মরত আছেন। তার মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৬০%। এই সংখ্যা গরিষ্ঠতা রাতারাতি হয়েনি। এর পিছনে রয়েছে নারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং হার না মানা মনোভাব। পোশাক শিল্প কারখানায় ইতিবাচক এবং নেতিবাচক সব কিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে নারীরা আজ এই খাতকে শুধু বাঁচিয়েই রাখেনি বরং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে মিসেস আলেয়া আক্তার বলেন, যদিও এ সকল সেক্টরে নারীদের আগমন বেড়েছে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে এখনো কম। এছাড়াও কারণ হিসেবে বলতে গেলে নারী ক্যান্ডিডেটদের এই সেক্টর সম্পর্কে ধারনা খুব একটা বেশি নয়। তাছাড়া পারিবারিকভাবে নানা প্রতিবন্ধকতা তো রয়েছেই। এছাড়াও অন্য ভাবে দেখতে গেলে যদিও গার্মেন্টস সেক্টরে ৭০-৮০ শতাংশই নারী কর্মী কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো সেটা শুধুমাত্র কর্মী লেভেল। মিড লেভেল ম্যানেজমেন্টের পদগুলো বিশেষ করে মার্চেন্ডাইজিং সাইটে নারীদের অগ্রযাত্রা এখনো কম। সুপারভাইজার থেকে শুরু করে মালিক পর্যন্ত প্রায় ৯৫% ই পুরুষ কাজ করে। এজন্য মিড লেভেলে কাজ করতে গেলে নারীরা অনেক সময়ই কমফোর্ট ফিল করে না। তাই নারীদের এক্ষেত্রে কাজের সুযোগ আরো বাড়াতে হবে। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের অভিজ্ঞতা আরো বাড়াতে হবে। তাহলেই তারা উপরের লেভেলের কাজ করতে গেলে ভালো অনুপ্রেরণা পাবে।

এছাড়াও মিসেস মাকসুদা চৌধুরী মিশা, নারীদের যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পারিবারিক সাপোর্টের ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে সেগুলো তুলে ধরেন। বুনন হেড অফ অপারেশন মোঃ সালাউদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, যেহেতু আর এম জি সেক্টর এবং মার্চেন্ডাইজিং সেক্টরে এখনো মেয়েদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তাই বর্তমানে যে সকল মেয়েরা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছে তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ রয়েছে। কারন ভবিষ্যতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া এ সকল সেক্টর চালানো সম্ভব নয়।

মিসেস আলেয়া আক্তার আর এম জি সেক্টরে নারীদের এই অগ্রযাত্রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবন্ধকতা তুলে আনেন। সেটা হলো এখনো অনেক টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে উচ্চতর পদগুলোতে কর্মী নিয়োগ দেওয়ার সময়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলে দেওয়া হয় “only male are allowed to apply”। সুতরাং কিভাবে একজন নারী আবেদন করবে? তাদেরকে তো যোগ্যই মনে করা হচ্ছে না। অথচ নারীরা যে এ সকল ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে আমরা যারা কাজ করছি তারাই এর সবচেয়ে বড় উদাহরন।

একপর্যায়ে মিসেস ইসরাত জাহান বলেন, আমাদের অনেক সংগঠন এবং বিশেষ করে “বিজিএমইএ” অনেক ভাবে কাজ করছে এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য। সেই সাথে তিনি সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন এই সমস্যা দূরীকরণে এগিয়ে আসার জন্য।

মিসেস মাকসুদা চৌধুরী মিশা একজন গার্মেন্টসের মালিক এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নারীদের ক্ষমতা এবং পারদর্শিতা নিয়ে বলেন, আর এম জি সেক্টরে নারীদের কাজ করার ক্ষমতা অনেক বেশি রয়েছে। কারন একটা টিমকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে, ভালো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে, পূর্বের বিষয় গুলো মনে রাখার ক্ষেত্রে মেয়ে বা নারীদের ক্ষমতা এবং পারদর্শিতা অনেক বেশি। তাই আরএমজি সেক্টরে নারীরা চাইলেই খুব দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।

এছাড়াও মিসেস ডলি থাই উক্ত আলোচনা সভায় তার দীর্ঘ ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও কিভাবে এই আর এম জি সেক্টরে নিজের ক্যরিয়ার গড়েছেন এবং তার এই পথচলায় সকল পজেটিভ এবং নেগেটিভ দিকগুলো তুলে ধরেছেন।যা বর্তমান নারী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মোটিভেটিভ।

মিসেস আলেয়া আক্তার তার প্রতিষ্ঠিত লার্ন টু রিড এবং এইচ আর ক্লাবগুলো প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য শেয়ার করেন। তিনি বলেন মূলত তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর এবং তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা গুলো দূর করার জন্যই এই ক্লাবগুলো প্রতিষ্ঠা করা। হোক সেটা মেয়ে বা ছেলে। সব থেকে বড় কথা হল আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে কি শিখেছি, কোনটা করা উচিত, কোনটা অনুচিত এসকল দিকগুলো তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ায় হলো প্রধান উদ্দেশ্য।

এক পর্যায়ে মিসেস ইসরাত জাহান তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান ফ্রেশারদের অনেক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে ফ্রেশারদের ইন্টার্নির সময়টুকু মনোযোগ দিয়ে করার অনুরোধ করেন। কারণ এতে করে তাদের ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে কম ধাক্কা খেতে হবে। এছাড়াও মেয়েরা কিভাবে তাদের প্রতিবন্ধকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে তার সম্পর্কেও দিক-নির্দেশনা দেন। এছাড়াও লিডারশিপ কোয়ালিটি অর্জন করার জন্য বিশেষ দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন উক্ত আলোচনা সভায়।

উক্ত আলোচনা সভার শেষদিকে জনাব মোঃ সালাউদ্দিন বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের পদযাত্রা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে উনার বড় বোন ফাতেমা আক্তার (যিনি বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরে পা রাখা প্রথম নারী কর্মী) ১৯৭৭ সালে কিভাবে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং তখনকার সময় নারীরা কিভাবে টেক্সটাইল সেক্টরে যুক্ত হয়েছিল তা সবার সাথে শেয়ার করেন। এছাড়াও এই টেক্সটাইল সেক্টরে নারীদের অগ্রযাত্রায় তার প্রয়াত বাবা মোঃ রিয়াজ উদ্দিন এর অবদানও তুলে ধরেন। যা সত্যিই বর্তমান নারী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য খুবই মোটিভেটিভ এবং গর্বের বিষয়।

রিপোর্টারঃ
নুরুল আফসার খালেদ
জুনিয়র রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট, বুনন।

Most Popular

এওপিটিবি’র মিলনমেলা

সমগ্র বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং সেক্টর নিয়ে কাজ করা সকল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজিস্টদের প্রাণের সংগঠন “অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ”।সংগঠনটির...

ভিয়েতনামের বিকল্প খুজঁছে বিশ্বের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান

সাধারনত যে সকল খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জুতা ও পোশাকের জন্য ভিয়েতনামের কারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল তারা ভিয়েতনামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত। যদিও...

অনাবিল প্রশান্তির মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে ফতুল্লা এপারেল

তৈরী পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। দেশের মোট রফতানি আয়ের  ৮৪% আসে পোশাক খাত থেকে। তাই দিন দিন দেশে...

রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাণিজ্য নীতির সংস্কারের বিকল্প নেই : বিশেষজ্ঞরা

ব্যাপক বাণিজ্য কূটনীতির সংস্কার এবং অর্থনৈতিক নীতির উন্মুক্ততা ভিয়েতনামকে আজ সেরা ২০ টি দেশের তালিকায় আসতে সাহায্য করেছে। উদাহরনসরূপ ১৯৮০-৯০ সালের...

বেলজিয়ামে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বুননের সাক্ষাৎকার | Interview on higher study in Belgium

বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম...

টেক্সটাইল আইকন ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা এর সাথে বুননের সাক্ষাৎকার | Interview of textile icon Engr. Salim Reza with Bunon

বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম...

টেক্সটাইল মার্কেটিং। Textile Marketing

টেক্সটাইল মার্কেটিং এর কথা শুনলেই স্বাভাবিক ভাবে মাথায় কিছু প্রশ্ন আসে যেমন: টেক্সটাইল মার্কেটিং কি? কেনো করা হয়? কোন প্রসেসে করা...