30 C
Dhaka
Friday, October 22, 2021
Home Interviews Industry Expert "প্রতিটি ধাপে তোমার যোগ্যতাই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে" - সালাউদ্দিন

“প্রতিটি ধাপে তোমার যোগ্যতাই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে” – সালাউদ্দিন

সম্পাদকীয়ঃ
লেখক- জনাব সালাউদ্দিন
হেড অফ অপারেশন, বুনন
চেয়ারম্যান, আস্ক এপারেল এন্ড টেক্সটাইল সোর্সিং লিমিটেড

সদ্য টেক্সটাইল পাশ করা অনেক টেক্সটাইল গ্রাজুয়েট এই পেন্ডেমিকে আমার কাছে চাকরী চেয়েছে বা চাচ্ছে। তাদের উদ্দ্যেশ্যেই মূলত আমার আজকের এই লিখা।

কমবেশি প্রায় সকলেই হয়তো আমার পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানেন। আমার বাবা টেইলরিং শপ থেকে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে উনার ব্যবসায়ীক দক্ষতা দ্বারা ব্যবসা পরিচালনা করে তৎকালীন সময়ে রিয়াজ শার্টের একটি ব্রান্ড ভ্যলু তৈরী করেছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রথম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবেও রিয়াজ গার্মেন্টস সর্বসাকুল্যে সমাদৃত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করে যদিও রিয়াজ গার্মেন্টস বর্তমানে বন্ধ রয়েছে তবুও আমি অনেক ত্যাগ শিকার করে বাবার গার্মেন্টস ব্যবসার ৭০ বছরে ঐতিহ্য ধরে রেখেছি খুব সল্প পরিসরে, করোনা প্যান্ডেমিক এ ব্যবসায়িক দিক থেকে আমিও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তাই আমার কাছে নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরী করে দেওয়ার সুযোগ বর্তমানে নেই কিন্তু আমি তোমাদের আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি। এই লিখাটা সম্পূর্ণ আমার অভিজ্ঞতার আলোকে লিখলাম। এছাড়া যে কোন ধরনের পরামর্শের জন্য আমি তোমাদের বুননের মাধ্যমে সাহায্য করবো। যতটুকু পারি গাইড করবো।

আমাদের দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হচ্ছে। দেশে চাকরির বাজার অত্যন্ত সীমিত তথা দেশের বেকারত্বের উচ্চহার হওয়ায় চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তারা হতাশ হচ্ছে। হতাশ না হয়ে সবার আগে দেশীয় মার্কেট নিয়ে কাজ করো, উদ্যোক্তা হও, বিশ্বাস করো ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট সহজেই ধরতে পারবে, নিজেদের ব্রান্ড তৈরি করতে পারবে। এখন আমাদের আভ্যন্তরীণ বাজার ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, শুধু বাইং এ চাকরি করবো মাথায় লুকিয়ে রাখলে হবে?? এখন যেমন আড়ং, রিচম্যন, গ্রামীন চেক, ইজি, ইয়োলোসহ বেশ কিছু লোকাল ব্রান্ড তৈরি হয়ে গিয়েছে এভাবেই কিন্তু তোমরা ব্রান্ড তৈরি করে ইন্টান্যাশনাল মার্কেটও ধরতে পারো। ছোট পরিসরে শুরু করেই কিন্তু সকলে আজ সফল। তোমরা যদি উদ্যোক্তা হও তাহলে দেশের অর্থনীতির চাকা আরো বেগবান হবে। দেশীয় মার্কেটে ভালো ফলাফল পেলে এই দেশীয় প্রোডাক্ট নিয়ে বিদেশি বায়ারদের কাছেও এপ্রোচ ও করতে পারবে। আমি যেহেতু টেক্সটাইল নিয়ে কাজ করছি তাই টেক্সটাইল বিজনেস এর চিন্তাভাবনা আগে আসে। আমরা একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাই প্রতি বছরই ইদে বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম হিসেবে থাকে “ঈদের বাজার সয়লাব ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকে”। যেখানে ইদের সময় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা চলে, সেখানে দেশীয় পোশাক থেকে আসে মাত্র চার হাজার কোটি টাকা। বাকি পুরোটাই চলে ভারতীয় ও পাকিস্তানি পোশাকের আধিপত্য। কিন্তু গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে অনেক ফ্যাশন হাউস। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ফ্যাশন হাউসের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের বেশি। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো কী পিছিয়ে আছে না আমাদের নিজস্ব গণ্ডী থেকে বের হতে পারছি না? আমাদের এই দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতেও কাজ করার বিশাল জায়গা রয়েছে যা আমাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পরামর্শ দিয়েছি কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনাদের। আরেকটি চিন্তা করতে পারো,  বিএসসি ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে যারা বর্তমানে চাকরি অভাবে ভুগছো তাদের জন্য সম্ভাবনা হতে পারে টেক্সটাইল ট্রেডিং করা। বাংলাদেশে টেক্সটাইল ডেভেলপমেন্ট হতে আরো ২ যুগ লাগতে পারে। কিন্তু অলরেডি বাংলাদেশ সুইং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেক বড় বড় টেক্সটাইল ইকোনমিক জোন হচ্ছে। ওখানেও অনেক সুইং সেগমেন্ট থাকবে, নতুন মেশিন লাগবে, কেমিক্যাল লাগবে। টেক্সটাইল পাশকৃতরা বিনা পুঁজিতে বিভিন্ন দেশ থেকে মেশিন, ফেব্রিক ও কেমিক্যাল সোর্সিং করতে পারো। মালয়েশিয়া, তুর্কি, জর্ডান, ভারত, চীন এসব দেশে বিভিন্ন আইটেমের কাপড় তৈরি হচ্ছে। এসব এনে চায়নিজরা আমাদের দেশে ব্যবসা করতেছে এবং অনেক বিএসসি টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের চাকরী দিচ্ছে। এই সুযোগটা তোমরা নিতে পারো। সবাই বায়িং হাউস এ জব করবে ও ব্যবসা করবে এটা নিয়ে ব্যস্ত৷ কিন্তু তোমরা চাইলে টেক্সটাইলের বায়িং হাউসের ব্যবসা করতে পারো। বায়িং হাউস মানেই যে শুধু বাহিরে রপ্তানি করা এমনটা নয়। আমাদের দেশেও টেক্সটাইলের অনেক বড় মার্কেট বিদ্যমান। দেশে ও দেশের বাহিরে উভয় মার্কেটেই ব্যবসা করা যাবে।

বুয়েট থেকে পাশ করে অনেক আর্কিটেকচার ইন্জিনিয়ার, কয়েকজন বন্ধু মিলে আর্কিটেকচার ও ডিজাইনের ফার্ম দেয়৷ তোমরাও চাইলে কয়েকজন বন্ধু মিলে টেক্সটাইলের বায়িং এর উদ্দোক্তা হতে পারো৷ ছোট থেকে শুরু করো। কর্মসংস্হান তৈরি হবে এবং তোমাদেরকেও চাকরীর পিছনে ঘুরতে হবে না৷ এভাবে নতুন উদ্দোক্তা হতে পারবা। চাকরীর খোজ করতে হবে না। নিজের কিছু করতে পারবা। বসে না থেকে শুরু করো। চেষ্টা করে দেখো।

চাকুরী অথবা ব্যবসা যাই করতে চাওনা কেনো, প্রতিটি ধাপে তোমার যোগ্যতাই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখা যাবেনা। ফাইবার থেকে শুরু করে তৈরী পোশাক এর সম্পূর্ণ ধাপের সকল কিছু নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পূর্ণ যুগোপযোগী নয়, তাই নিজের জ্ঞান এর পরিধি বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ওয়েবনিয়ার, সেমিনার এবং ট্রেইনিং এ অংশগ্রহণ করবে। এতে করে নিজেকে আপডেট রাখতে পারবে। আসন্ন চতুর্থ শীল্প বিপ্লব তোমরাই মোকাবিলা করবে এবং চতুর্থ শীল্প বিপ্লবে সকল প্রসেস এ বাড়বে আধুনিকতার ছোয়া যার ফলে দেখা যাবে যে কাজ এখন কয়েকজন এ করে তখন তা প্রযুক্তির আধুনিকায়নে কয়েকজন এর কাজ একজন করবে। তাই নিজেকে প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আপডেট করতে হবে, নইলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে। আমি বিশ্বাস করি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে কখনো কারো পরিপূর্ণ বিচার করা সম্ভব নয়। কেননা অনেক সময় দেখা যায় স্টুডেন্টরা বই মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফলাফল করে ঠিকই কিন্তু প্রকৃতভাবে টপিকগুলো বুঝে পড়েনা এতে করে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন হয়না এবং এর ফলে দেখা যায় চাকুরীর ইন্টারভিউ তে অনেক উচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী স্টুডেন্ট ব্যসিক খারাপ থাকায় জব পায়না। চাকুরির ইন্টারভিউতে একজন প্রার্থীর কয়েকটি দিক বিবেচনা করা হয়, যেমনঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যসিক নলেজ, উপস্থিত বুদ্ধি, ইংরেজির দক্ষতা, আইকিউ, কম্পিউটার এ দক্ষতা, স্মার্টনেস(পোশাক+আচরণ), কমিউনিকেশন স্কিল, লিডারশীপ স্কিল ইত্যাদি।  তাই কেউ যদি দীর্ঘদিন জব সার্চ করে অথবা অনেক ইন্টারভিউ দিয়ে জব না পায় তবে তাকে বুঝতে হবে তার কিছু ঘাটতি রয়েছে। রেফারেন্স ছাড়া জব হয়না এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, আপনার যোগ্যতাই আপনার রেফারেন্স। মনে রাখবেন ইন্টারভিউ বোর্ড এ যারা থাকেন তারা কখনো যোগ্য প্রার্থীকে হাতছাড়া করতে চায়না। আর সিভি সঠিকভাবে ইমেইল না করা এবং বিডিজবস একাউন্ট ঠিকমতো না গুছানো ও অনেকাংশে ইন্টারভিউ কল না পাওয়ার কারন।

এই পেন্ডেমিকে অনেক টেক্সটাইল গ্রাজুয়েট আমার কাছে চাকরী চেয়েছে। আমি তাদেরকে এই পরামর্শ দিতে পারি। এই লেখাটা আমার অভিজ্ঞতার আলোকে লিখলাম। এছাড়া যে কোন ধরনের পরামর্শের জন্য আমি তোমাদের বুননের মাধ্যমে সাহায্য করবো। যতটুকু পারি গাইড করবো।

চাকরি না পেলে তোমাকে দাওয়াত দিয়ে কেউ চাকরি দিবে না , তাই বলে তুমি বসে থাকবে বা সময় নস্ট করবে? তুমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষিত তরুন কিসের ভয় তোমার? … তোমার শশিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতা তোমার আনেক বড় পুঁজি ভুলে যাচ্ছ কেন? আর যদি দক্ষতার ঘাটতি থাকে তবে খুঁজে বের করো কোন দক্ষতার অভাব তোমার এবং তা নিয়ে কাজ করো। আর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছে বলে এ সেক্টরেই কিছু করে হবে এমন টা ভাবলো চলবে না, আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের গোড়া ইতিহাস দেখ, যাদের জন্য এ শিল্প মাথা উঁচু করে আছে তার কেউই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার নয় , তোমরা চাইলে যে কোনো সেক্টরে কাজ শুরু করতে পারো , আমার লেখায় তোমাদের মন খারাপ হলে ক্ষমা প্রার্থনা করছি আর একটা কথা চাকুরী বাজার ডিসেম্বরের মধ্যে অনেক ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আর সর্বদা নিজের সম্পর্কে নিজেকে প্রশ্ন করবে, নিজের ঘাটতি খুঁজে বের করে নিজেকে ডেভেলপ করবে, প্রয়োজনে নিজেকে নিয়ে SWOT এনালাইসিস করবে। আর সর্বদা বাবা মায়ের সাথে ভালো আচরণ করবে কেননা দিন শেষে বাবা মায়ের দোয়া ম্যাজিকের মত কাজ করবে তোমার ক্যরিয়ারে।

Most Popular

দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে পিসিআইইউ ভলেন্টিয়ার্সের এর উদ্যেগ Skill for Career Progression (SCP)

পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন "PCIU Volunteers" আয়োজন করতে যাচ্ছে কর্পোরেট দক্ষতা বিষয়ক প্রোগ্রাম "Skill for Career Progression" (SCP)।

“প্রতিটি ধাপে তোমার যোগ্যতাই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে” – সালাউদ্দিন

সম্পাদকীয়ঃ লেখক- জনাব সালাউদ্দিন হেড অফ অপারেশন, বুনন চেয়ারম্যান, আস্ক এপারেল এন্ড টেক্সটাইল সোর্সিং লিমিটেড সদ্য টেক্সটাইল পাশ করা অনেক টেক্সটাইল...

এওপিটিবি’র মিলনমেলা

সমগ্র বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং সেক্টর নিয়ে কাজ করা সকল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজিস্টদের প্রাণের সংগঠন “অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ”।সংগঠনটির...

ভিয়েতনামের বিকল্প খুজঁছে বিশ্বের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান

সাধারনত যে সকল খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জুতা ও পোশাকের জন্য ভিয়েতনামের কারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল তারা ভিয়েতনামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত। যদিও...

Mosquito Repellent Finish on Textiles | টেক্সটাইলের উপর মশা বিতাড়ক ফিনিশিং

মশা একটি ভয়ানক পতঙ্গ। গতবছর সারাদেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার কথা হয়তো সবার মনে আছে। ডেঙ্গু ছাড়াও ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া সহ অনেক ভয়াবহ রোগ...

বাঙালির গ্রামীণ চেক

প্রত্যেকটি দেশের পোশাকের একটি নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে। তেমনি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সমৃদ্ধ পোশাকের মধ্যে অন্যতম গ্রামীণচেক। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে নিজস্ব সনাতন তাঁতে...

৩ লক্ষ টাকার বালিশ!!!

একটি বালিশ আমার সর্বোচ্চ কত দিয়ে কিনি? ১ হাজার, ২হাজার  সর্বোচ্চ ৫ হাজার বাংলাদেশি মুদ্রায়? কিন্তু বালিশটির দাম যদি তিন লক্ষ...