29 C
Dhaka
Wednesday, October 28, 2020
Home Interviews Industry Expert "মার্চেন্ডাইজার'স ডায়েরি, এপিসোড-১" অনলাইন সাক্ষাৎকার

“মার্চেন্ডাইজার’স ডায়েরি, এপিসোড-১” অনলাইন সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশে টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমেই দ্রুত বিকাশ ঘটে চলেছে এবং বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদন্ড হচ্ছে বস্ত্রশিল্প আর যেহেতু এটা এক বিশাল ও বহুমাত্রিক সেক্টর, এই শিল্পের জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞান সমৃদ্ধ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের যাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে “Made In Bangladesh ” ট্যাগ।

আর, এতসব বাস্তবিক সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই, টেক্সটাইলের জব-সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন পেশাদারদের সাথে ফেইসবুকে লাইভ সাক্ষাৎকার করে থাকে“বুনন” পরিবার। এরই ধারাবাহিকতায় আসিফ বিন আসগর এর সাথে বুনন পরিবারের লাইভ সাক্ষাৎকারে অনুষ্ঠিত হয় “মার্চেন্ডাইজার’স ডায়েরি-পর্ব ১ “। বলাবাহুল্য যে, তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি ইন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং সম্পূর্ন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বহুজাতিক ট্রেডিং অফিসে মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টে এ চাকুরীরত আছেন,পাশাপাশি তিনি বুনন টেক্সটাইল ম্যাগাজিনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। উল্লেখ্য যে, বুননের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভ প্রোগ্রামটি হোস্টিং করেন, বুনন পরিবারের চিফ-কোর্ডিনেটর ওয়েজ আহমাদ রিপন। আমাদের পাঠকদের জন্য বুননের সাথে আসিফ বিন আসগর এর সাক্ষাৎকারের বিশেষ মূহুর্তগুলো তুলে ধরা হলো।

বুনন: আসসালামু আলাইকুম দর্শক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা বুননের লাইভ প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত রয়েছেন, তাদের সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকের অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমি যুক্ত আছি, বুননের চিফ-কর্ডিনেটর, ওয়েজ আহমাদ রিপন। আপনারা সকলেই জানেন, বুনন টেক্সটাইল সম্পৃক্ত জ্ঞান আহরনের একটি প্লাটফর্ম যা টেক্সটাইল সেক্টরের শিক্ষার্থী ও পেশাদারদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের আজকের প্রোগ্রাম, মার্চেন্ডাইজার’স ডায়েরি-পর্ব ১ “।মারর্চেন্ডাইজিং সম্পর্কে একটি পর্বে সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়া সম্ভবপর নয়, যার কারনে কয়েকটি পর্বে হবে ”মার্চেন্ডাইজার’স ডায়েরি ” প্রোগ্রামটি এবং আজকের প্রথম পর্বটিতে আমাদের সাথে যুক্ত রয়েছেন আসিফ বিন আসগর ভাই, যিনি একটি বহুজাতিক ট্রেডিং অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়াও উনি বুনন এর একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বুনন এর পথচলায় প্রতিটি পদক্ষেপের সাক্ষী। বুনন পরিবারের পক্ষ থেকে আসিফ ভাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি।

আসিফ বিন আসগর: ধন্যবাদ, আজকের প্রোগ্রামে আমাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য। যারা বুননের সাথে থেকে লাইভ প্রোগ্রামটি দেখছেন, সবাইকে জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

বুননঃ ধন্যবাদ আপনাকে। অনুষ্ঠানের শুরুতে আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে দর্শকদের যদি সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আমি আসলে সাধারণ একজন ছেলে। ঢাকার বিসিআইসি স্কুল থেকে এস.এস.সি ; বি.সি.আই.সি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইলে গ্রাজুয়েশন সম্পূর্ণ করেছি।

বুননঃ ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি যখন এইচএসসি সম্পূর্ণ করলেন, তারপর এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এতগুলো বিষয় থাকতে, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং বিষয়কে কেনো বেঁছে নিলেন?

আসিফ বিন আসগর: আমি যখন এইচ এস সি পাস করি, ঐসময়ে অনেক সি.এস.ই, ই.ই.ই বা আই.টি বিষয় সম্পৃক্ত ছাএরা পড়াশোনা করতো, কিন্তুু আমার আলাদা কিছু নিয়ে পড়ার ইচ্ছে ছিলো। সেসময় চাকরির বাজারে সিএসই,আইটি সম্পৃক্ত চাকুরীর সুযোগ এখনকার মতো এতো ব্যাপক ছিলো না, যেদিকে তখন থেকেই শুনতাম টেক্সটাইল থেকে পড়াশোনা করে বের হলেই চাকুরি, যেটা আসলে তখন বা এখন কখনই সত্যি না, সবজায়গাই যোগ্যতার প্রমান দিয়ে টিকে থাকতে হয়। আমার ক্ষেএে যেটা হইছে যে, আমি আগেই বলে রাখি যে আমি খুব বেশি ভালো ছাএ ছিলাম না, ম্যাথ করতে ভালো লাগতো না, যার কারনে ইন্জিনিয়ারিং এ কোচিং করি নাই, আবার মেডিক্যালে কোচিং করার একমাস পরেই বুঝতে পারলাম পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ব্লাড সার্কুলেশন, কোষের ইতিহাস গুলাে যে আছে, সেগুলো আমার পক্ষে মনে রাখা সম্ভব না। তাই, আমি ভার্সিটিতে কোচিং করা শুরু করি এবং মোটামুটি অনেক জায়গায় চান্স পেয়েছিলাম এবং ভাইভা দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমার মনে আছে, আমার সময়ে, ২৬ নভেম্বর বুটেক্স, ডেন্টাল ও ঢাবি-ঘ ইউনিট এর পরীক্ষা একসাথে ছিলো। আমি জানতাম যারা ইন্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নিয়েছে, তারা বুটেক্সে পরীক্ষা দিবে, যারা মেডিক্যাল এর জন্য প্রস্তুুতি নিয়েছে তারা ডেন্টালে যাবে আর আমার মতো সাধারণ মানুষরা ঢাবি-ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে যাবে। যদিও পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দেয়, কিন্তুু বুটেক্সের ফর্ম আগে তোলা হয়নি, শুধু ঢাবি-ঘ ইউনিট এর ফর্ম তুলছিলাম। তো, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমি জানতে পারি যে আমার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও চান্স হয়েছে এবং আমি সি.এ.সি বা আই.টি বা টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে পারবো। আমার প্রথম দুইটা পছন্দ ছিলো না, এমনকি বাসা থেকেও মানা ছিলো, বাসার সবাই বিশ্বাস করতো যে, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং পাস করে বের হলেই ৪০-৫০ হাজার টাকার চাকুরি পাওয়া যাবে। ওই লোভে পড়েই আমি আসলে টেক্সটাইলে ভর্তি হইছি।

বুনন: আপনি টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার হয়ে যখন চাকুরী জীবন শুরু করলেন, এরপরের আপনার পেশাদার জীবন নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: প্রথমেই বলি,আমার পেশাদার জীবন খুব একটা লম্বা হয় নি। আসলে আমার পেশাদার জীবন বা মার্চেন্ডাইজিং ক্যারিয়ার যাই বলি না কেনো, শুরুটা করেছিলাম হা-মীম গ্রুপে মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টে চাকুরী করে। সেখানে তিন বছরের বেশি সময় কাজ করেছি। তারপর নারায়ণগন্জে পিডিএস মাল্টিন্যাশনাল গ্রুুপে ছিলাম এবং এখন একটি বহুজাতিক ট্রেডিং অফিসে অফিসে মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টে এ চাকুরীরত আছি।

বুনন: আমরা জানি যে, একজন টেক্সটাইল গ্রাজুয়েটের সামনে ক্যারিয়ারে অনেকগুলো পথ খোলা থাকে। কেউ হয়ত ডায়িং, কেউ হয়ত ওয়াশিং, কেউ হয়ত প্রিন্টিং সহ বহুমাত্রিক সেক্টরে কাজে নিয়োজিত রয়েছে, অনেকে হয়ত সরকারি চাকুরী করছে। এতো গুলো বিকল্পের মধ্যে আপনি মার্চেন্ডাইজিংকে কেনো পেশা হিসেবে গ্রহণ করলেন?এর পিছনের গল্পটা যদি বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা, খুবই ভালো একটি প্রশ্ন এটি। টেক্সটাইলের গ্রাজুয়েটদের মূলত তিনটি ক্যারিয়ার পথ বাঁচাই করতে দেখা যায়, যেমন একদল খুব ভালো সিজিপিএধারী হয়, তারা শিক্ষকতা এবং উচ্চশিক্ষার সাথে সংযুক্ত হয় ; আরেকদল সরকারি চাকুরীর জন্য প্রস্তুুতি নেয় এবং সিংহভাগ টেক্সটাইল সেক্টরের জবকে জীবিকা নির্বাহের পথ হিসেবে বাছাই করে নেয়। প্রথমত, ভার্সিটিতে যাদের সিজিপিএ ৩.৫ থেকে ৩.৭ হয়ে থাকে, তারা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বাছাই করে থাকে। বন্ধুবান্ধব নিয়ে মজ-মাস্তি করতে ভালোলাগতো, সিজিপিএ বেশি ছিলো না, তাই শিক্ষকতার চিন্তা করা বাদ দিছিলাম আমি।দ্বিতীয়ত, সরকারি চাকুরী করার বিষয়টা একেক জনের কাছে একেক রকম। আমার বাবা আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন, তো বাবার সাথে তার অফিসে যেতাম। দেখতাম, মাথার উপর পাখা ঘুরে,টেবিলের রং চটচটে, ৯-৫ টা অফিস-ডিউটি, লাইফে কোনো চার্ম নাই। আমার কাছে এইটা মনে হয়ছে। অনেকের কাছে অবশ্য সরকারি চাকরি মানেই আরামের চাকরি। আর, বিসিএস দিয়ে নবম বা দশম গ্রেডের বেতনও খুব একটা বেশি না, সৎভাবে চাকুরি করলে একটা গতানুগতিক জীবন যায় আর কি। আমার তাই মনে হয়ছে, তাই টেক্সটাইলে চাকুরি করার মনস্থির করেছিলাম। আর, কথা হলো কেনো মার্চেন্ডাইজিং এ আসলাম, কেনো অন্য সেক্টরে না! যেমন শুনতাম সবার কাছ থাকে,আসলে সবাই যখন চাকুরি করে তখন টেক্সটাইলের সব ডিপার্টমেন্টের মানুষ চিন্তা করে, দুনিয়ায় সর্ব সুখ মার্চেন্ডাইজিং এ আমার বিশ্বাস। কেনো?মানুষ চিন্তা করে, মার্চেন্ডাইজাররা অনেক ভালো স্যালারি পায়, বিদেশ-ট্যুরে যায়,বায়ারের সাথে ডিল করে-সব মিলিয়ে একটা ক্লাসি জব আর কি। ফ্রেশারদের এমনই ধারনা থাকে এবং আমিও সেসব গতানুগতিক ধারনা থেকেই মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টে আসি। আল্লাহ রহমতে ইন্টার্নশিপের আগেই হা-মিম গ্রুপের সার্কুলার দেখে এপ্লাই করেছিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ হয়ে যায় মার্চেন্ডাইজিং এর চাকুরি।আর এভাবেই মার্চেন্ডাইজিং এ আসা।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা জানি যে আপনি মার্চেন্ডাইজিং চাকুরির পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত আছেন। বুনন টেক্সটাইল ম্যাগাজিনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বুননের পথচলার অংশীদারত্বের গ্রহনের গল্পটা যদি বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা, বুননের কথা বলতে হলে আমাদের আগে বলতে হবে টেক্সটাইল এন্ড মার্চেন্ডাইজিং গ্রুপটার কথা। আমার দেখা মতে এটা টেক্সটাইলের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম যেটাতে আশি হাজারেরও বেশি মানুষ যুক্ত রয়েছেন। টেক্সটাইল এন্ড মার্চেন্ডাইজিং পেইজটার অন্যতম কোর পার্সন হচ্ছেন মাজেদুল ইসলাম শিশির ভাই। আমি যখন তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষে ছিলাম, প্রজেক্টের বিষয়গুলো কি হতে পারে খুঁজতাম, ইন্টার্নি কোথায় কিভাবে করা যেতে পারে খুঁজতাম, তখন থেকেই আমরা সার্চ করে পড়তাম শিশির ভাইয়ের লেখাগুলো। এছাড়া, তখনকার বহুল প্রচলিত টেক্সটাইল ব্লগস্পটে পড়তাম শিশির ভাইয়ের কনটেন্টগুলো। আমারও টুকটাক লেখার অভ্যাস ছিলো এবং যেহেতু গ্রুপটাতে মোটামুটি অনেক মানুষ লেখালেখি করতেন টেক্সটাইল সম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে, আমিও লেখালেখি শুরু করি। ভালোই লাগতো লেখালেখি। এরপর থেকে চেষ্টা করতাম, আমি মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে যা শিখছি সেটা নিয়ে লিখতে। হয়ত অনেকেই উপকৃত হবে। মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে হয়ত অনেক বই আছে, কিন্তুু বাস্তবিকঅর্থে শেখাটা ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়েই সম্পূর্ণ হয়, আর সেজন্যই আমি লেখালেখি শুরু করি। নিলক্ষেতে হয়ত অনেক বই পাওয়া যাবে যেখানে ইয়ার্ন কি, ফ্যাব্রিক কি, ডাই কি, এদের প্রকারভেদ ও প্রয়োগ এসব হয়ত থাকে কিন্তুু মার্চেন্ডাইজিং এর কোর-প্রসেসটা কি?কিভাবে কি হচ্ছে? -এসব হয়ত পাওয়া যাবে না। আরেকটা কথা বলি,যেসব বড় বড় জায়গায় আমাদের দেশীয় টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদের থাকার কথা সেসব জায়গা ভারতীয় এবং শ্রীলঙ্কানদের দখলে, কেননা তাদের প্রেজেন্টেশন এবং কোনো কিছু উপস্থাপন করার ক্ষমতা আমাদের চেয়ে ভালো। তাহলে, আমরা যদি নিজেদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাগুলো আদান প্রদান না করি, তাহলে আমরা আরো পিছিয়ে পড়বো। সেজন্যই আমি লেখালেখি শুরু করি, আমার সাথে আরও অনেকে আছে। শিশির ভাই এর পর সৈকত, তুমি রিপন,নয়ন, বাবর ভাই -তোমরা এসেছো। আসলে এভাবেই টেক্সটাইল এন্ড মার্চেন্ডাইজিং গ্রুপ এ আসা, যেটা আমাদের মূলভিওি এবং সেইটার উপরেই ভিওি করে আমি এবং আমাদের বুননের পথচলা শুরু হয়। আর, আমাদের তখন মনে হয়ছে টেক্সটাইলের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানের বিকাশ করতে অনলাইন প্লাটফর্ম হিসেবে বুনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বুনন এক্ষেত্রে সফল।

বুননঃ জ্বি ভাই, ধন্যবাদ আপনাকে। ভাই, বুনন এর পথচলার শুরু থেকেই আমাদের প্রচেষ্ঠা ছিলো টেক্সটাইল বিষয়ক জ্ঞান সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সেখানে আপনার ভূমিকা ছিলো অনস্বীকার্য। অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে এবং সহজ ভাষায় যদি কিছু বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা,আগেই বলে রাখি, অনেক সিনিয়ররা প্রোগ্রামটি দেখছেন, কিন্তু মূলত আমি সহজভাবে কথা বলতে চাই, শিক্ষার্থী যারা আছেন অথবা যারা ফ্রেশারস আছেন তাদের জন্য। তো, মার্চেন্ডাইজিং এর প্রধান কাজ হচ্ছে বায়ারের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে আসতে হবে এবং সেই অর্ডারটা বায়ারের দেওয়া টাইমলাইনের মধ্যে গুনাগুন ও পরিমান ঠিক রেখে শিপমেন্ট করে দিতে হবে। একজন মার্চেন্ডাইজারের কাজ হচ্ছে অনেকটা ইভেন্ট-ম্যানেজমেন্টের মতো। একটা কোম্পানিতে যখন অর্ডার আসে, তখন বায়ারের কাছ থেকে অর্ডার আসে এবং তখন একজন মার্চেন্ডাইজারকে একইসাথে অনেকগুলো ডিপার্ট্মেন্টের সাথে কাজ করতে হয়,সম্পূর্ণ প্রসেসটা ফলো-আপ করতে হয়। অরর্ডারটা যদি কোনো পুরাতন বায়ার এর হয়, যার সাথে অর্ডার রানিং ছিলো, তারসাথে হয়ত দিকনির্দেশনা মত কাজ শুরু করে দেই, কিন্তুু নতুন কোনো বায়ার হলে, ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করি কিংবা বাংলাদেশে কোনো লিয়াজু অফিস বা ট্রেডিং অফিস থাকলে সেখানে গিয়ে সরাসরি কথা বলে আসি অথবা মেইলেই আমার কোম্পানির প্রোফাইলটা শেয়ার করি যে আমাদের কি কি বিশেষত্ব আছে, প্রোডাক্ট-স্ট্রেন্থ কেমন? কতলাইনের ফ্যাক্টরি? কি কি কমপ্লায়েন্স-সার্টিফিকেট আছে?ডেনিম নাকি নন-ডেনিমের কাজ করি? মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা কিরকম,আমি এতটুকু কাজ করতে পারবো ইত্যাদি,আর এসকল বিষয়ের উপর নির্ভর করে কোনো কোম্পানিতে অর্ডার-প্লেস করা হয় এবং সেখানে একটি স্যাম্পল দিয়ে আসতে হয়। একজন মার্চেন্ডাইরের একইসাথে স্যাম্পল ডিপার্টমেন্ট যেমন কাটিং সেকশন, সুইয়িং সেকশন; ওয়াশিং ডিপার্টমেন্ট ; ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট আবার অর্ডার হয়ে আসার সময় ফিনিশিং ডিপার্ট্মেন্টের সাথে থাকা লাগে। এটা গেলো ডেভেলপমেন্ট-স্টেজের কাজ।আবার দেখা গেলো যখন একটা অর্ডার কনর্ফাম হয়,তখন একজন মার্চেন্ডাইজারকে কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্ট,এক্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট, প্লানিং ডিপার্টমেন্ট, ক্লোয়াটি-কনট্রোল ডিপার্টমেন্ট, মোটকথা সব ডিপার্ট্মেন্টের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। একজন মার্চেন্ডাইজার হচ্ছেন সকল ডিপার্ট্মেন্টের মধ্যে সমন্বয়কারী এবং সেতুবন্ধনস্বরূপ আর একজন মার্চেন্ডাইজারের কাজই হচ্ছে, ধারাবাহিকভাবে এক ডিপার্টমেন্ট থেকে আরেক ডিপার্ট্মেন্টে অর্ডারটা যাচ্ছে কিনা? সবাই ঠিকমতো সময়ের মধ্যে কাজ করছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা। আমরা যখন একটা অর্ডার নেই, ধরো কোনো বায়ার এক লাখ পিস বানিয়ে দেওয়ার অর্ডার দিয়েছে এবং বলেছে ১১০ দিনের মধ্যেই শিপমেন্ট দিতে হবে, তখন একজন মার্চেন্ডাইজারের কাজ হচ্ছে সঠিক সময় মানে ঐ ১১০ দিনের মধ্যে সেই এক লাখ পিস জামার অর্ডার গুনাগুন ও মান ঠিক রেখে শিপমেন্ট দেওয়া। মানে,সংক্ষেপে সম্পূর্ন কাজ ও প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সমন্বয়কারী হচ্ছেন মার্চেন্ডাইজার।

বুননঃ ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা অনেক সময় বিভিন্ন মার্চেন্ডাইসিং সম্পর্কে শুনে থাকি যেমন ফ্যাক্টরি-মার্চেন্ডাইজার বা বায়িংহাউজ-মার্চেন্ডাইজার, এই শ্রেণীবিন্যাসটা কিভাবে করা হয়-সেটা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা, এটা ভালো একটা প্রশ্ন। আসলে এটা নির্ভর করে। আমরা যদি প্রোডাক্ট রেন্জের কথা চিন্তা করি, তাহলে নিট প্রোডাক্ট যিনি পরিচালনা করে সে নিট-মার্চেন্ডাইজার, ওভেন-প্রোডাক্ট যিনি পরিচালনা করে সে ওভেন-মার্চেন্ডাইজার, সোয়েটার-প্রোডাক্ট যিনি পরিচালনা করেন, সে সোয়েটার-মার্চেন্ডাইজার। আবার আমরা যদি অর্ডার-প্লেসের কথা চিন্তা করি,যারা লিয়াজু অফিস বা বায়িং হাউজে মার্চেন্ডাইজিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন, তারা বায়িং-অফিস মার্চেন্ডাইজার ; আবার যারা বায়িং হাউজের কাছ থেকে অর্ডারটা নিয়ে কাজ করে,অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ, তারা হচ্ছে ট্রেডিং অফিসের মার্চেন্ডাইজার ; আবার যারা এসব ট্রেডিং অফিস বা সরাসরি বায়িং-হাউস থেকে অর্ডার নিয়ে ফ্যাক্টরিতে কাজ করছে, তাদের আমরা বলি ফ্যাক্টরি মার্চেন্ডাইজার। আবার, আমরা যদি একটি “প্রোডাক্ট -সাইকেল ” এর কথা চিন্তা করি, অর্ডারটি নেওয়া থেকে শুরু করে কনফার্ম না হওয়া পযন্ত যারা কাজ করছেন, তারা হচ্ছেন ডেভেলপমেন্ট মার্চেন্ডাইজার এবং তারা বায়ারের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে কাজ করে, টিএনএ নিয়ে কাজ করে, কস্টিং নিয়ে কাজ করে এবং একটা স্যাম্পল দিয়ে সে অনুযায়ী অর্ডার কনফার্ম করে। এরপরে অর্ডার কনফার্ম হলে শিপমেন্ট পযর্ন্ত বাকি কাজটা যিনি করেন তিনি হচ্ছেন প্রডাকশন মার্চেন্ডাইজার। অনেক কোম্পানিতে একজনই একইসাথে ডেভেলপমেন্ট মার্চেন্ডাইজার এবং প্রোডাকশন মার্চেন্ডাইজারের ভূমিকা পালন করে থাকেন, অনেক জায়গায় দুইটি ভূমিকা পালনের জন্য আলাদাভাবে দুইজন মার্চেন্ডাইজার কাজ করেন। এটা আসলে নির্ভর করে ফ্যাক্টরির উপর।মোটামুটি এই হলো মার্চেন্ডাইজিং এর শ্রেণীবিন্যাস।

বুননঃ ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা দেখি যে ফ্রেশাররা যখন চাকুরিতে যোগদান করে, প্রাথমিকভাবে ট্রেইনি-মার্চেন্ডাইজার উপাধি পায়,মার্চেন্ডাইজিং এর উপাধির এই শ্রেণীবিন্যাস নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা, এটা আরেকটা ভালো প্রশ্ন। আমাদের দেশের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে কোনো সুনিদিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করে না। এটা আসলে ফ্যাক্টরিভেদে নির্ভর করে। কোথাও কোথাও হয়ত ফ্রেশার হিসেবে যারা মার্চেন্ডাইজিং এ জবে ঢুকছে, তাদের ট্রেইনি-মার্চেন্ডাইজার, কোথাও হয়ত এ্যাসিটেন্ট মার্চেন্ডাইজার আবার কোথাও কোথাও জুনিয়র মার্চেন্ডাইজার উপাধি দেওয়া হয়ে থাকে এবং এটা আসলে ফ্যাক্টরিভেদে নির্ভর করে থাকে। তবে, আমি যদি উপাধির একটা মানদণ্ডের কথা বলি, তবে প্রথমে ট্রেইনি-মার্চেন্ডাইজার থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে এ্যাসিটেন্ট মার্চেন্ডাইজার, মার্চেন্ডাইজার, সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার, এ্যাসিস্টেন্ট মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার,সিনিয়র মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজিং এ.জি.এম এবং মার্চেন্ডাইজিং জি.এম।দুই এক জায়গায় এর উপরেরও পোস্ট থাকে, তবে সেটা খুবই সীমিত ক্ষেএে পরিদৃশ্যমান। মোটামুটি এভাবে মার্চেন্ডাইজিং এর উপাধিকে আমরা ভাগ করতে পারি, তবে অনেক কোম্পানিতে কিছু উপাধির ধাপ স্কিপও করতে পারে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা বিভিন্ন ধরনের মার্চেন্ডাইজিং উপাধির কথা শুনলাম, উপাধি ভেদে কাজের বৈচিত্র কেমন হয়? -এই বিষয়ে যদি কিছু বলতেন।

আসিফ বিন আসগর: আসলে, আমি বরাবরই বলে এসছি, আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে সাধারণ কোনো প্যাটার্ন নেই। এটা কোম্পানি বা ফ্যাক্টরির ভিওিতে একেক জায়গায় একেকরকম। ট্রেইনি বা এ্যাসিটেন্ট মার্চেন্ডাইজারের কাজই হচ্ছে মার্চেন্ডাইজারকে সহায়তা করা, ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার স্যাম্পলের কাজ,কাগজপত্র ফটোকপি থেকে শুরু করে সকল খুটিনাটি বিষয়গুলোতে মার্চেন্ডাইজারকে সহায়তা করে থাকে,ফ্যাক্টরি বা কর্মাশিয়ালে গিয়ে সশরীরে কাজ করে থাকে। এ্যাসিটেন্ট মার্চেন্ডাইজারদেরও কাজ অনেকটা এরকমই।আবার প্রডাকশন মার্চেন্ডাইজার হয়ত প্রডাকশন দেখে, ডেভেলপমেন্ট মার্চেন্ডাইজার হয়ত ডেভেলপমেন্ট দেখে, অনেক জায়গায় দুইটা দায়িত্ব বা ভূমিকাই একজন পালন করে থাকে। তারপর,যারা সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার তারা দুই-তিনজন মার্চেন্ডাইজারকে ফলো-আপ করে থাকেন। এদের উপরে থাকেন মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার, তার কাজই হচ্ছে প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা, বায়িংহাউজের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, অর্ডার এক্সিকিউট করা, ফ্যাক্টরির টপ ম্যানেজমেন্টের সাথে অর্ডারের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা ইত্যাদি। আর, মার্চেন্ডাইজারদের কাজ ও উপাধি দুই ক্ষেএেই ফ্যাক্টরিভেদে পার্থক্য আছে।

বুননঃ ধন্যবাদ আপনাকে। একজন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার যদি মার্চেন্ডাইজিংকে পেশা হিসেবে নেয়, তাহলে তার ক্যারিয়ারের পথচলায় জুনিয়র লেভেল থেকে সিনিয়র লেভেল যেমন এ.জি.এম বা জি.এম এর পর্যায়ে যেতে কেমন সময় লাগতে পারে?

আসিফ বিন আসগর: আসলে,এক্ষেত্রেও একই কথা বলবো, কোনো নিদিষ্ট কাঠামো বা প্যাটার্ন নেই। অনেক জায়গায় খুব তাড়াতাড়ি যেমন ৪/৫ বছর বা তারও বেশি একই উপাধি নিয়ে চাকুরি করে, উন্নতি হয় না, আবার অনেক জায়গায় ১/২ বছরেই ক্রমান্বয়ে উচ্চতর উপাধি অর্জন করতে থাকে পরপর। এটা কোম্পানিগুলোর পলিসির উপর নির্ভর করে। তবে, তুলনামূলক ভাবে ছোটো ফ্যাক্টরিগুলোতে জুনিয়র লেভেল থেকে ম্যানেজারিয়াল লেভেলে যেতে কম সময় লাগে, দেখা যায় পারফরম্যান্স ভালো থাকলে একজন ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার ৮-১০ বছরের মধ্যেই মার্চেন্ডাইজার ম্যানেজার হয়ে গেছে। তবে,আমি বলবো, এটা ফ্যাক্টরিভেদে এবং তাদের পলিসির উপর নির্ভর করে সবসময়।

বুনন: ধন্যবাদ ভাই। অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে আপনার কাছে জানতে চাইবো, মার্চেন্ডাইজিং এ যেসকল টেক্সটাইল গ্রাজুয়েটরা স্বপ্ন দেখছে, তারা নিজেদের কিভাবে প্রস্তুুত করবে?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা। শুধু মার্চেন্ডাইজিং এর জন্য না, আসলে টেক্সটাইলের সব জায়গার জন্যই বলি, কিছু কিছু দক্ষতা/সক্ষমতার অভাবে আমরা পিছিয়ে যাই, ভারতীয় বা শ্রীল্কনরা সেখানে এগিয়ে থাকে এবং তাদের দখলেই প্রধান দায়িত্বের জায়গাগুলো,বড় বড় পোস্ট বা উপাধি গুলো। কেনো? কারন আমরা একটা জিনিস ভালোভাবে জানলেও সেটা ঠিকমতো প্রকাশ করতে পারিনা। যেমন প্রেজেন্টেশনগুলো বা ডিলগুলো যেখানে ইংরেজিতে করতে হয়,স্পষ্টভাবে এবং ভালোভাবে কথা বলাটা সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তুু, আমরা অনেককিছু জানলেও সেটা ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারি না যার কারনে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, আমাদের অধিকারের জায়গাগুলো থাকে ভারতীয়, শ্রীলঙ্কানদের দখলে। তাই, আমি বলবো আমাদের ইংলিশ-স্পিকিং, প্রেজেন্টেশন স্কিল বাড়াতে হবে। জুনিয়রদের জন্য এগুলোই আমার দিকনির্দেশনা থাকবে। সাথে ভার্সিটির ক্লাবগুলোর সাথে সম্পর্কে সম্পৃকতা বাড়াতে হবে এবং এক্সেল এর কাজটা ও শিখে রাখতে হবে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে, এখন দর্শকদের কাছে প্রশ্ন নিবো। একজন দর্শক জানতে চেয়েছেন, নন-টেক্সটাইলের যারা আছেন তাদের জন্য মার্চেন্ডাইজিং এ সুযোগ সুবিধা কেমন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা । এখানে কিছু কথা বলে রাখি, যারা টেক্সটাইল থেকে আসে, তাদের টেক্সটাইল নিয়ে বেসিক ও কোর বিষয়গুলো জানা থাকে, যার কারনে তারা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। কিন্তুু, ম্যানেজারিয়াল পজিশনে সাধারণত নন-টেক্সটাইলের লোকেরা থাকেন যাদের ম্যানেজমেন্ট স্কিল ভালো বা ব্যাকগ্রাউন্ড কোর মার্কেটিং এ এম.বি.এ। এক্ষেত্রে, তারা মার্চেন্ডাইজিং এর উপরে একটা কোর্স করতে পারে অথবা মার্চেন্ডাইজিং কোর বিষয় নিয়ে লেখা বইগুলো পড়তে পারেন। প্রথমদিকে মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট করতে হবে, কিন্তুু নন-টেক্সটাইলদের জন্যও মার্চেন্ডাইজিং এ অনেক সম্ভাবনার দুয়ার খোলা আছে।

বুনন: অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা আপনার কাছে জানতে চাইবো, যারা মার্চেন্ডাইজিং এ চাকুরি করছেন, তারা কিভাবে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবে, সেবিষয়ে যদি কিছু পরামর্শ দিতেন?

আসিফ বিন আসগর: আসলে, পরামর্শ শব্দটা অনেক সিনিয়র লেভেলের মানুষের জন্য।আমি পরামর্শের কথা বলবো না, তবে সহায়ক কিছু কথা বলতে পারি। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি, মার্চেন্ডাইজিং এ উন্নতি করতে হলে কাজটাকে ভালোবাসতে হবে।মার্চেন্ডাইজিং এ কোনো টাইম-ব্যারিয়ার নেই। কাজটাকে ভালোবাসতে হবে এবং কোনো কাজকেই ছোটো মনে করা যাবে না। কাজটাকে ভালোবাসতে হবে এবং এমনও হতে পারে অফিস-আওয়ারের পরে বাসায়ও কাজ করতে হতে পারে। যারা মার্চেন্ডাইজার তাদের জন্য কাজটাকে ভালোবাসাই উন্নতির চাবিকাঠি, নিজে থেকেই সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের কাছে কাজ শিখে নিতে হবে, কর্মাশিয়াল টার্মগুলো শিখে নিতে হবে অথবা নিজে থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। আরেকটা কথা বলবো, যারা জুনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ শুরু করবেন, তারা প্রথম ৪-৫ বছর উচ্চ্তর শিক্ষার জন্য পরিকল্পনা করবেন না। কেননা,মার্চেন্ডাইজিং এ একজন একবছরে কিছুই শিখতে পারে না, দুই তিন বছর লেগে যায় এবং এই প্রথম দুই তিন বছরের মধ্যে সক্ষমতার প্রমান দেওয়াটা খুবই জরুরি, যেটা কাজের পিছনে সময় না সম্ভবপর হবে না। কেউ এমবিএ তে ভর্তি হলো, কোনো না কোনো দিন পরীক্ষা ক্লাস থাকবেই এবং সেই সময় কিন্তুু একই সাথে ক্লাস এবং কাজ চালিয়ে যাওয়া যায় না, সিনিয়র মার্চেন্ডাইজরের সাথে কমিউনিকেশন -গ্যাপ বা যোগাযোগে দূরত্ব চলে আসে যা মার্চেন্ডাইজিং এ ক্যারিয়ার গড়তে অনেক পিছিয়ে দিতে পারে একজন ফ্রেশার বা ট্রেইনি-মার্চেন্ডাইজারকে এবং আরেকটা কথা বলবো, চার-পাঁচ হাজার টাকার জন্য ঘনঘন চাকুরী পরিবর্তন করা যাবে না, প্রথম দুই-তিন বছর কাজ শিখতে হবে এবং শিখে নিতে সবসময় চেষ্টা করতে হবে। প্রথম যে ফ্যাক্টরিতে জব করবেন, সেখান থেকে কোর বিষয়টা শিখে প্রয়োগ করাও শিখবেন সে কোম্পানিতে থাকাকালীন অবস্থাতেই যেন অন্য কোম্পানিতে গেলে আপনে নিজেকে পরিপূর্ণ প্রস্তুুত করে নিয়ে যেতে পারেন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। তবে আমি বলবো চেষ্টা করবেন একটা ফ্যাক্টরিকে সর্বোচ্চ যে সময়টা দেওয়া যায়। আর, জুনিয়র যে টেক্সটাইল গ্রাজুয়েটরা মার্চেন্ডাইজিং এ আসতে চায়,এগুলোই তাদের জন্য আমার সহায়ক কিছু বার্তা।

বুনন: আমাদের দর্শকদের মধ্যে থেকে আরেকটি প্রশ্ন এসেছিলো। কেউ যদি নিট-মার্চেন্ডাইজিং এ জব করে, সে কি ওভেন -মার্চেন্ডাইজিং এ জব-সুইচ করতে পারে কি না। কিংবা কেউ ওভেন মার্চেন্ডাইজিং থেকে নিট -মার্চেন্ডাইজিং জব-সুইচ করলে তাকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে কিনা?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা, প্রথমেই বলি, টেক্সটাইলে জব সুইচ করা বা এক ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তন করে অন্য ডিপার্টমেন্টে যাওয়া মানে সময় নষ্ট করা, কেনো অভিজ্ঞতার ঝুলি তখন আবার শূন্য থেকে পূরন করা শুরু করতে হবে। জব-সুইচ করা জুনিয়র লেভেলে গ্রহনযোগ্য হতে পারে, কিন্তুু একটা নিদিষ্ট সময় পরে সেটা গ্রহনযোগ্য না, এমনকি সেটা সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই না। কেউ ৫ বছর ওভেন মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজ করে নিট-মার্চেন্ডাইজিং এ আসলে, যেটুকু এগিয়ে গিয়েছিলেন বা জবের প্রমশন হয়েছিলো সেটুকু ত্যাগ করে হয়ত আবার শূন্য থেকে ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার হিসেবে জয়েন করা লাগতেই পারে।

বুননঃ ধন্যবাদ আপনাকে। দর্শকদের মধ্যে থেকে আরো একটি প্রশ্ন এসেছে, যে মার্চেন্ডাইজিংদের বেতন কাঠামো কেমন হয়ে থাকে? অনুষ্ঠানের এপর্যায়ে এ নিয়ে যদি কিছু কথা বলতেন?

আসিফ বিন আসগরঃ আচ্ছা, আবারও একই কথা বলবো। এটা আসলে ফ্যাক্টরিভেদে নির্ভর করে। তাও,আমি স্ট্যান্ডার্ড মানদন্ডের কথা যদি বলি, তবে যারা ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার হিসেবে জয়েন করে তাদের বেতন ১৫-২০ হাজারের মধ্যে হয়ে থাকে, এ্যাসিটেন্ট মার্চেন্ডাইজারদের বেতন ৩০-৩৫ হাজার টাকা, মার্চেন্ডাইজার পদে ৪৫-৫০ হাজার টাকা, সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার পদে ৬০-৬৫ হাজার টাকা, এ্যাসিটেন্ট মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার পদে ৮০-৮৫ হাজার এবং মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার লেভেলে ১ লাখের উপরে বেতন কাঠামো হয়।আমি বারবারই বলবো, এই কাঠামোটা ফ্যাক্টরিভেদে নির্ভর করে থাকে।

বুননঃ প্রত্যেকটি মানুষই তার ক্যারিয়ার জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেএে কাউকে না কাউকে রোল-মডেল হিসেবে মানে। আপনার জীবনে এমন কেউ কি আছে যাকে দেখে আপনি অনুপ্রাণিত?

আসিফ বিন আসগর: আসলে, এই প্রশ্নের উওর দেওয়াটা আমার জন্য অনেক কঠিন। আমি নিজের কাজটাকে ভালোবাসি এবং মন থেকে ডেডিকেশন দিয়ে কাজ করি। তবে আমার জীবনে কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। এখন তো ১০ বছর পরে কই যাবো বা কি করবো, এসব নিয়ে চিন্তা করি নি, আজকে আমার যে কাজটা আছে সেটাকে ভালোবেসে শতভাগ ডেডিকেশন দিয়ে সেটা করতে চাই আর কি। আমি আসলে ঐভাবে কাউকে রোল-মডেল হিসেবে কল্পনা করিনি। আল্লাহর রহমতে নিজের জায়গা থেকে প্রতিদিন নিজের সেরাটা দিতে চাই, এই আর কি।

বুনন: ধন্যবাদ ভাই। আমরা আজকের অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এমুহূর্তে আপনার কাছে জানতে চাইবো, এই যে করোনা পরিস্থিতি, তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টরের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে? – এই বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা, করোনার জন্য শুধু টেক্সটাইল সেক্টর নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সব সেক্টরই বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সারা বিশ্বে অনেক মানুষ চাকুরি হারিয়েছে, যার কারনে তারা নতুন কাপড় কিনতে পারছেন না। একারনে নতুন করে কাপড় তৈরির অর্ডারও আসতাছে না, অর্ডার ক্যান্সেল হচ্ছে। পাশাপাশি, এক সিজনের কাপড় আরেক সিজনে কাস্টমার পড়তে চায় না, নতুন ডিজাইন চায়, ভ্যারিয়েশন চায়,যার কারনেও অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে অনেক। কিন্তুু, করোনার কারনে মার্চ মাসে যে রকম ধাক্কাটা এসেছিলো টেক্সটাইল সেক্টরে, এখন আল্লাহ রহমতে অনেকটাই সামলাই নিতে পারছে। তবে,
আগামী দেড় -দুুই বছর হয়ত কম অর্ডার আসতে পারে, তবে আমার মনে হয় ধাক্কাটা আমরা সামলে উঠতে পারবো। কারন,ফ্যাক্টরিগুলো আবার এখন স্থগিতকৃত নিয়োগ কার্যক্রমগুলো শুরু করেছে, অর্ডার আসছে দেখেই কোম্পানি গুলো আবারও লোক নিতে শুরু করেছে, পূর্নশক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের টেক্সটাইল সেক্টর আবার তার জায়গা ধরে রাখতে সমর্থ হবে এবং সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারবে।

বুননঃ আমাদের দর্শকের মধ্যে একজন প্রশ্ন করেছেন,মার্চেন্ডাইজিং এ কি কি চ্যালেন্জ মোকাবিলা করতে হয়?

আসিফ বিন আসগর: আসলে বলবো, মার্চেন্ডাইজিং এর জব সম্পূর্নটাই চ্যালেন্জিং। এক্ষেত্রে আপনার কোনো টাইম ব্যারিয়র থাকবে না, একইসাথে আপনাকে একজন মাল্টি-টাস্কার হতে হবে, অনেকগুলো কাজ একসাথে করার সক্ষমতা থাকতে হবে। বাসায় এসেও ইমেইলগুলোর রিপ্লাই দিতে হবে, অর্ডার ফলোআপ করতে হবে, কোম্পানি এবং সিনিয়র এর সাথে অর্ডার নিয়ে সবসময় আপডেট বিনিময় করতে হবে এবং কোনো সমস্যা সামনে আসলে সেটার দ্রুত ও কার্যকারী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। এককথায় সম্পূর্ণ অর্ডার শিপমেন্টের প্রত্যেকটি ধাপের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে৷

বুনন: আমাদের দর্শকের মধ্যে আর একজন প্রশ্ন করেছেন,, বি.এস.সি ইন ফ্যাশন ডিজাইনিং এর উপর ডিপ্লোমা করে মার্চেন্ডাইজিং এ জব করতে পারবে কি না?

আসিফ বিন আসগর: আচ্ছা। এক্ষেত্রে, টেক্সটাইলের কোর বিষয়গুলো আপনার যেহেতু আপনার জানা থাকবে, আপনি অবশ্যই মার্চেন্ডাইজিং এ আসতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি কিছু সুযোগ সুবিধা ও পেতে পারেন।

বুনন: জ্বি ভাই, ধন্যবাদ আপনাকে। আজ আমরা অনুষ্ঠান আর দীর্ঘায়িত করবোনা। দর্শকদের জানিয়ে রাখতে চাচ্ছি, আজকে আমাদের মার্চেন্ডাইজিং ডায়েরির প্রথম পর্ব হলো, যেখানে আমরা মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে বেসিক বিষয় গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে আরও পর্ব আসবে। আমাদের আসিফ বিন আসগর ভাইকে অনেক ধন্যবাদ , ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেওয়ার জন্য।

আসিফ বিন আসগর: ধন্যবাদ বুননকে; সাথে ধন্যবাদ সবাইকে, যারা লাইভ প্রোগ্রামটি এতক্ষণ কষ্ট করে দেখেছেন। ইনশাল্লাহ, সবার সুস্থতা কামনা করছি। ভবিষ্যতে আবারও কোনো না কোনো লাইভ প্রোগ্রামে বিস্তারিত কথা হবে মার্চেন্ডাইজিং নিয়ে।

বুনন: ধন্যবাদ আপনাকে। সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের প্রোগ্রাম এখানেই শেষ করছি। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

Writer:
Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador,BUNON

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিভিং অর্গানিজম থেকে টেকসই টেক্সটাইলের উদ্ভাবন: পরিবেশ বান্ধব টেক্সটাইলের দিকে অগ্রযাত্রা

টেক্সটাইল শিল্প হল ভোক্তা পণ্য উৎপাদনের বিশ্বের প্রাচীনতম শাখা। এটি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যময় সেক্টর যেখানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ফাইবার (যেমন:...

করোনা প্রতিরোধে গাঁজার মাস্ক!

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশ্বজোড়া আন্দোলন চলছে। তবুও পরিবেশ রক্ষায় মানুষ এখনও অনেকটাই সচেতন নয়। এতদিন মানুষই পরিবেশের ক্ষতি করতেন। এবার সেখানেও...

ডুয়েটে মাইক্রোসফট এক্সেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের "ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার এন্ড রিসার্চ ক্লাব ( DTCRC) "শিক্ষার্থীদের সফটস্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষে মাইক্রোসফট...

“এসকেটেক ক্যারিয়ার ক্লাব ” অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২০ | SKCC Online Quiz Competition 2020

SKTEC career club (SKCC) এর ফেসবুক পেজে ১০০০ ফলোয়ার উপলক্ষে SKCC অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা -২০২০ এর আয়োজন করে। প্রোগ্রামটির মিডিয়া পার্টনার...

বস্ত্রের ইতিহাস : আদি থেকে অবধি | History of Cloth

মানব সভ্যতার ইতিহাসে পোশাকের আবিষ্কার নিঃসন্দেহে এক অন্যতম সফলতা। আদিম গুহাবাসী মানুষ যখন বুঝতে শিখলো যে শরীরের লজ্জা নিবারণের প্রয়োজনীয়তা আছে,...

শুরু হতে যাচ্ছে WUBDC এর বিতর্কের দ্বিতীয় অনলাইন গ্রুমিং সেশন | The second online grooming session of the debate is going to start at...

গত ৩১শে মে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং ক্লাব (WUBDC) এর উদ্যোগে আয়োজিত পূর্ববর্তী অনলাইন ডিবেট গ্রুমিং সেশনের সাফল্যের পর আবারও...