33 C
Dhaka
Wednesday, August 17, 2022
Home News & Analysis করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা -১৭

করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা -১৭

আমাদের প্রত্যেকটা পোশাক প্রস্তুতকারক কারখানায় ছোট্ট একটা জিনিষের অনুপস্থিতি প্রায়ই খেয়াল করেছি বিগত দশ বছরে। নিটিং, ডাইং, কাটিং, সুইং, এমব্রয়ডারি, প্রিন্টিং, ওয়াশিং, ফিনিশিং, প্যাকিং ডিপার্টমেন্টে প্রতি ঘন্টায় কত গুলো মালামাল উৎপাদন করছে তার সঠিক হিসাব কেউ রাখেনা। ঝামেলায় পড়লে মাঝে মাঝে রাখে।

কেন এই কথা বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছি তার একটা প্রমান নেবেন ? যখনই শিপমেন্ট নিয়ে কোন বিপদে পড়বেন দেখবেন কোয়ান্টিটি, এসোর্টমেন্ট, কান্ট্রি, সাইজ, রেশিও কিছুই মিলছেনা। সকলেই শুধু চরকি পাক দৌড়াচ্ছে।

কোথা ও কোন ডাটা সংরক্ষণ করা হয় নাই, কোন ডিপার্টমেন্ট কত পিস্ করে কি প্রোডাকশন করেছে। ডিপার্টমেন্ট ইনচার্জ কে প্রশ্ন করুন, উনার কাছে একটা প্রিন্টেড অথবা ম্যানুয়াল শীট পাবেন সেখানে উনার টিম আজকেই শুধু ডাটা দেয় নাই, সন্ধ্যার সময় পেয়ে যাবেন বলে আপনাকে আশ্বস্ত ও করবেন।

সমস্যা টা কোথায় জানেন, বিপদে না পড়লে আমাদের কোন ডেটার দরকারই হয়না। বিপদের সময় একটু রুটিন মাফিক গালিগালাজ চলে, পরে আবার সব কিছু আগের মতন।

নিটিং, ডাইং, এওপি ডিপার্টমেন্টঃ নিটিং, ডাইং, এওপি ডিপার্টমেন্ট এ ব্যাচ অনুযায়ী একটা শীট মেইনটেইন করা হয়। অসংখ্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়না। যে প্রোডাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কাজ হওয়ার কথা সেটা হয়না, সেই ডেটাও দেখে বুঝার উপায় থাকেনা। জিজ্ঞাসা করলে বলে, আগামী কাল দেয়ার ব্যবস্থা করছি। এমডি সাহেব এর কমপ্লেইন বিগত দশ বছরে আমার নিজের টেক্সটাইল মিল আমাকে সঠিক কাপড়, সঠিক সময় দিতে পারেনাই। আগে যখন বিদেশ থেকে ইম্পোর্ট করতাম তখনি ভালো ছিল। সমস্যা হচ্ছে কিন্তু সমাধানের কোন রাস্তা আমরা বের করতে পারছিনা। মাঝে মাঝে অবশ্য সন্দেহ হয় ! ইচ্ছা করেই ঝুলিয়ে রাখছি কি না!

কাটিং ডিপার্টমেন্টঃ কাটিং ডিপার্টমেন্ট সারাদিন পর একটা এক্সেল শীট প্রদান করে, কিন্তু যে কোয়ান্টিটি গুলো আজকে বা আগামী কাল জরুরী ছিল তা কাটিং করতে পারেন নাই, হাজারো সমস্যা ও অজুহাত মিলিয়ে। কিন্তু উনি উনার ডিপার্টমেন্টের ডেইলি টার্গেট কিন্তু সঠিক বেঠিক মিলিয়ে পরিপূর্ণ করে রেখে দিয়েছেন। আমাদের দেশের কারখানা গুলোর ৯৫% কাটিং ডিপার্টমেন্ট এই সমস্যায় জর্জরিত। সুইং, প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি ডিপার্টমেন্টের সমস্ত প্ল্যান প্রোগ্রাম ভেস্তে দেয়ার জন্য উনার ডেইলি টার্গেট মিলানোর মানসিকতাই যথেষ্ঠ। সুইং লাইনের প্রতিনিয়ত প্রয়োজন অনুপাতে কাটিং করতে পারা শুধু মাত্র সম্ভব যদি বিচক্ষণতার সাথে প্লানিং এবং সাপ্লাইচেন ডিপার্টমেন্টের সাথে যথাযথ সমন্বয় সাধন করে চলতে পারেন।

এই সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় হল প্রতি দুই ঘন্টায় উনি কি কি কাটিং করছেন তার একটা আপডেট দেয়ার জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থা করে দেয়া। এর জন্য যত টাকা খরচ হয় করুন। প্ল্যান নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিপদ থেকে আপনার কারখানা রক্ষা পাবে গ্যারান্টি দিচ্ছি।
১। প্রিন্টেড এক্সেল শীটে ডাটা এন্ট্রির ব্যবস্থা করা।
২। প্রিন্টেড শীট টা থেকে অবশ্যই প্লানিং সল্যুশন অথবা ইআরপি তে ডাটা এন্ট্রির বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে।
৩। কোন কিছু যদি না থাকে, তাহলে ফ্রি গুগল এক্সেল শীটে অন্তত ডাটা এন্ট্রির ব্যবস্থা করুন।
৪। মাঝে মাঝেই ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চেক করে নিতে হবে, ঈমানের সাথে উনার টীম কাটিং অনুযায়ী ডেটা এন্ট্রি দিচ্ছে কি না ! তিন দশকের পুরাতন অভ্যাস নিশ্চয়ই সহজে বদলাবেনা।

সুইং ডিপার্টমেন্ট: সব চেয়ে বেশি জরুরী সুইং ডিপার্টমেন্টের প্রতি ঘন্টায়, প্রতি মেশিনে, প্রতি অপারেটর কত পিচ্ করে প্রোডাকশন দিচ্ছে সেটা একটা শীটে তুলে রাখা। উপরোল্লখিত কাটিং ডিপার্টমেন্টের নির্দেশাবলী সমূহ মেনে চলুন। দুই থেকে তিন মাসের ভিতরে নিম্নে উল্লেখিত সুবিধা সমূহ পাবেন বলে আশা করছি। না পেলে যোগাযোগ করুন।
১। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এর প্রথম শর্ত হল যে কোন কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তা শুরু হয়ে গেল।
২। কোন কোন প্রসেস বটলনেক হয়ে থাকছে তার স্বচ্ছতা।
৩। কোন প্রসেস এ কোন অপারেটর আছে তাকে দিয়েই কাজ চলবে না কি পরিবর্তন করতে হবে তা সহজেই বুঝতে পারা যাবে।
৪। লাইন ব্যালান্সিংয়ের কাজটা সহজ হয়ে গেল।
৫। প্রত্যেক অপারেটর এর স্কিল ইনভেন্টরি ডেটাবেজ তৈরী করতে পারবো।
৬। প্রতি অপারেটর এর ব্যক্তিগত ইফিসিয়েন্সি জানা টা সহজ হবে।
৭। নন প্রোডাক্টিভ টাইম এনালাইসিস/বের করার সুবিধা হবে।
৮। সুপারভাইজারদের কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে। কোয়ান্টিটি লুকিয়ে রাখার একটা বস্তাপঁচা মানসিকতা আছে , তা থেকে মুক্তি মিলবে।
৯। আমরা প্রসেস ভেদে ক্যাপাসিটি জানতে পারবো। সেই অনুযায়ী প্ল্যান করলে আউটপুট টা ও সঠিক হবে।
১০। যে সকল প্রতিষ্ঠানে “প্রোডাকশন ইন্সেন্টিভ বোনাস” প্রদান করা হয় তাদের ডেটা স্বচ্ছতা নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকবেনা।
১১। সর্বোপরি কৃচ্ছতা সাধন, লিন কালচারের অপব্যয় , অপচয় রোধের কাজ টাও শুরু হয়ে গেলো
১২। নিশ্চিত বলে দিতে পারি, প্রতি ঘন্টায় প্রোডাকশন বাড়বেই।

ওয়াশিং ও ফিনিশিং ডিপার্টমেন্টঃ এই ভাবে ওয়াশিং ও ফিনিশিং ডিপার্টমেন্টের ডেটা সংরক্ষণ এ ভীষণ জরুরী। আবারো ধাপগুলো উল্লেখ করলাম।
১। প্রিন্টেড এক্সেল শীটে ডাটা এন্ট্রির ব্যবস্থা করা।
২। প্রিন্টেড শীট টা থেকে অবশ্যই প্লানিং সল্যুশন অথবা ইআরপি তে ডাটা এন্ট্রির বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে।
৩। কোন কিছু যদি না থাকে, তাহলে ফ্রি গুগল এক্সেল শীটে অন্তত ডাটা এন্ট্রির ব্যবস্থা করুন।
৪। মাঝে মাঝেই ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চেক করে নিতে হবে, ঈমানের সাথে উনার টীম কাটিং অনুযায়ী ডেটা এন্ট্রি দিচ্ছে কি না ! তিন দশকের পুরাতন অভ্যাস নিশ্চয়ই সহজে বদলাবেনা।

আপনার কারখানার প্রোডাকশন বেড়ে গেলে, তা দেশের রপ্তানীতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

Writer:
Habibur Rahman
Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে “টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

৩ জুলাই বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি এর টিইএম (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) বিভাগ এর সহযোগিতায় টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে টেকসই উন্নয়ন...

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অভিনব উদ্যোগ

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন নির্ভর অন্যতম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি জন্মলগ্ন থেকেই উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়ার...

সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ্যোগে মার্চেন্ডাইজিং বিষয়ক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

গত ৫ ও ৬ জুলাই ২০২২ রাত ৯:৩০-১১:০০ টায় সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের উদ‍্যোগে “Basic knowledge on Merchandising” শীর্ষক ভার্চুয়াল ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়।...

বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সিটেকে বার্ষিক ইসলামিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

গত ২৪ জুন ২০২২ এ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগঞ্জ, চট্টগ্রাম এর মুসলিম শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কলেজ অডিটোরিয়ামে "সিটেক বার্ষিক ইসলামিক কনফারেন্স ২০২২" শীর্ষক...

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন-বিজেএমসি

অএ দেশের সকল জাতীয়করণকৃত পাটকলসমূহ নিয়ন্ত্রণ, পরিদর্শন ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান (জাতীয়করণ) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ২৭, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ-১০...

পলিয়েস্টার(Polyester) পরিচিতি

পলিয়েস্টার হচ্ছে একটি সিনথেটিক ফাইবার। এর নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে ৮৫% এস্টারের মিশ্রনযুক্ত পলিমারের দীর্ঘ চেইন এবং ডাইহাইড্রিক অ্যালকোহল এবং...

রেশমের রহস্য | Silk Fibre

এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রোটিন তন্তু, যার কয়েকটি ধরন বস্ত্রশিল্প বয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়। রেশমের সর্বাধিক পরিচিত ধরন বম্বিক্স মোরি নামের...