24 C
Dhaka
Wednesday, December 8, 2021
Home News & Analysis করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা-০৯

করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা-০৯

দেশের নামকরা একটা ফ্যাক্টরীতে চারদিনের হেলথ চেক ভিজিট করছি খেয়াল করলাম দেড় কোটি টাকা ছিল গত বছরের ওভারটাইম বিল এবং আশ্চর্যজনক ভাবে, বারো কোটি টাকা খরচ হয়েছে এক্সট্রা ওভার টাইম এর পিছনে। নিম্নোক্ত কয়েকটা বিষয় একটু লক্ষ্য করবেন!

১। ওভার টাইম মানেই দেড়গুণ বেশি টাকা দিতে হল। কিন্তু কাজ কি দেড় গুন্ বেশি হল? বরং নরমাল সময়ের চেয়ে কাজ আরো কম হয়। সারাদিনের অবসাদগ্রস্ত কর্মী বাহিনীর কাছে ঐ এক্সট্রা সময় ভালো কিছুর আশা করাটা ও নিতান্তই অপরিণামদর্শিতা।

২। অপারেটর কে জোর করে বা অনুরোধ করে রাখতে হল, তাতে উপকার এর চেয়ে অপকার বেশি হল কিন্তু। পরের দিনেই অনুপস্থিতি থেকে তা সহজে অনুমেয়। এই অপারেটর পরের মাস থেকে যখন আসা বন্ধ করে দিবে, তখন দোষ দেয়া হবে আবার তাকেই।

৩। আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের এথিক্যাল কমপ্লায়েন্স ভঙ্গ করলাম নিজেই। রিস্ক ও নিলাম। নিজের পকেট থেকে টাকাও দিলাম।

৪। স্বাভাবিক ভাবে যে কাজ গুলো প্ল্যান করেছিলাম তা পুরোটাই ব্যাহত হল। হয়তো সেই প্ল্যান মোতাবেক কাজের অগ্রগতি হচ্ছিলনা, যার ফলশ্রুতিতে এই ঝামেলার শুরু, আমাদের আরো আগেই বোঝা উচিত ছিল, কারণ এই ঘটনা কিন্তু প্রথম ঘটছেনা!

৫। এই বারো কোটি টাকা কিন্তু প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশে যুক্ত হতে পারতো। পক্ষান্তরে অপরিকল্পিত ব্যায় ও হল এবং অন্য অর্ডারের প্লানিং টাও নষ্ট করে দিল।

সমাধানের জন্য কি কি করণীয় :
ওভারটাইম অথবা এক্সট্রা ওভারটাইম অনিবার্য হয়ে পরে কি কি কারণে, এবং অবশ্যই তা ঘটে আপনার কারখানা কেন্দ্রিক নিদৃষ্ট কয়েকটা মাত্র কারণের জন্য বারংবার।
১। সমস্যা গুলো লিপিবদ্ধ করে অপারেশন ভিত্তিক, ম্যানেজার ভিত্তিক, ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে টাইম লাইন বেঁধে দিন, অত্যন্ত আকর্ষণীয় পুরস্কার ঘোষণা করুন এবং যে দল নিদৃষ্ট টাইম লাইনের ভিতরেই সুদূরপ্রসারী ও টেকসই সমাধান এনে দিতে পারবে তাদের সকলকে পুরস্কৃত করুন। যদি সকলেই ভাল করেন তাহলে প্রত্যেককে পুরস্কৃত করা বাঞ্চনীয়। আজকে তাদের পুরস্কৃত করতে যদি লক্ষ টাকা ও এককালীন খরচ করতে হয়, তাও করুন, বারো কোটি টাকার কিন্তু আজীবনের জন্য সমাধান হয়ে যাবে। সমস্যার সমাধানে আপনার সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

২। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের ২০% সমস্যা কিন্তু ৮০% ভোগান্তির জন্য দায়ী থাকে। আমার আগের আর্টিকেল গুলোতে ও লিখেছি। এই সমস্যার কার্যক্রম গুলো যে যে ডিপার্টমেন্টে বেশিক্ষন অবস্থান করে সে ডিপার্টমেন্ট এর সকল অপারগতা, অসামঞ্জস্যতা, কখনো গাফিলতি, অন্য ডিপার্টমেন্টের সাথে সমন্বয়হীনতা মূলত আমাদের সকলকেই ভোগায়। এবং গত তিন দশক ধরেই ভুগছি। তাহলে ২০% সমস্যার সমাধানে আপনার সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

৩। এই ওভারটাইম এর সাথে কিছুটা হঠকারী, কিছুটা অপরিপক্ক এবং পুরোটা অপরিণামদর্শী ম্যানেজমেন্ট দায়ী। দুঃখ জনক হলেও সত্য যে এই কাতারে স্বয়ং উদ্যোক্তা সহ, সকল বড় বড় স্যারেরা আছেন । প্রতিদিন ফায়ার ফাইটিং করে কারখানা চালানোর পরিণতি কতখানি ভয়াবহ তা এই মহামারী তে নিশ্চয়ই কিছুটা হলে ও উপলব্ধি করেছি। এই বারো কোটি টাকা হাতে থাকলে কিন্তু তিন মাসের বেতন দেয়া যেত। তাই এই তিন দশকের সমস্যার সমাধানের জন্য স্বয়ং উদ্যোক্তা সহ, সকল বড় স্যার দের কাজ করতে হবে। সমস্যার সমাধানে আপনার সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

৪। এই ওভারটাইম করার ফলে অন্যান্য সকল অর্ডার গুলো প্রতিদিন পিছিয়ে পড়ে, সকল প্রায়োরিটি গুলোকে পিছিয়ে ফেলে আমরা এক লাইনের কাজ আজকেই রাতে শেষ করার কথা বলে চার লাইনে বিভক্ত করে দিয়ে মূলত চার লাইনের অর্ডারের ক্ষতি করি। এবং ওই চার লাইনের জন্য আবার দুইদিন পরি ওই লাইন গুলোর জন্য ওভারটাইম প্ল্যান করি। পকেটের টাকা নষ্ট করি, অপারেটরদের মানসিকতা নষ্ট করি। পরিশেষে দেশের ক্ষতি করি। আমরা এমন কেন!

৫। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোতে কিন্তু এই প্র্যাকটিস নাই , তারা অতিরিক্ত ওভারটাইম করা কে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে অনেক বছর আগেই। তারা আমাদের চেয়ে ১০ লক্ষ কম মানুষ নিয়ে আমাদের সমান রপ্তানি করছে, শুধুই তারা সিস্টেমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে। তাদের শেখার আগ্রহ ও দ্বিগুন, তাই আমাদের পরে এই ব্যবসায় এসে তারা আমাদের সমান রপ্তানী করছে এবং এই বছর নিশ্চিত আমাদের পিছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে যাবে।

৬। সকল কিছুতেই বার বার নিজেদের ডিজিটাইজ করার মানসিকতা, সময় ব্যয় করা, নিজে বুঝে নিয়ে ইমপ্লিমেন্টেশন করতে পারা, সঠিক টুলে খরচ করা ইত্যাদি বিষয় এই সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারবে।

আপনার কারখানার সমস্যার সমাধান মানেই, আপনার কাছ থেকে অনেকেই এই শিক্ষা গ্রহণ করবে, ইন্ডাস্ট্রি উপকৃত হবে। দেশ উপকৃত হবে, দেশের রপ্তানী আয় ২% তো অন্তত বাড়বে।

Writer:
Habibur Rahman
Smart Factory 4.0 Consultant for Textile Apparel Industries.
Follow Him on LinkedIn:
https://www.linkedin.com/in/habibur-rahman-15b21b125

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

” জাতীয় বস্ত্র দিবসে টেক্সটাইল বিষয়ক কুইজের আয়োজন করেছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব”

৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২১ উপলক্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগন্জ,চট্টগ্রাম (সিটেক) এর ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব "সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" কর্তৃক সকল...

লিখিত অনুমোদন পেয়েছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের নতুন কমিটি

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগন্জ, চট্টগ্রাম এর ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব " সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" এর ২০২১-২২ সেশানের গঠিত নতুন কমিটিকে লিখিত অনুমোদন...

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সপ্তাহব্যাপী অল ওভার প্রিন্টিং ওয়েবিনার সম্পন্ন : মূল্যায়ন পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর

অল ওভার প্রিন্টিং (All Over Printing) এবং ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট (Design Development) এর ওপর চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজে (সিটেক) AOPTB (All Over...

অধ্যক্ষের সাথে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সিটেক) এর ক্যারিয়ার বিষয়ক সংগঠন সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের ২০২১-২০২২ সেশনের নবগঠিত কমিটির সাথে অত্র কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ...

তৈরী পোশাক রপ্তানি দিবস

আমাদের বাংলাদেশ এর প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সেক্টর টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস সেক্টর। এই সেক্টর হতে প্রায় ৮০% এর বেশি বৈদেশিক মুদ্রা...

কোভিড – ১৯ শনাক্তকারী মাস্ক

করোনা ভাইরাস মহামারী বিশ্বজুড়ে সর্বনাশা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং বেশিরভাগ দেশেই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রচারণা শুরু হলেও, ভাইরাস এর বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের আশঙ্কা এখনও...

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে একাডেমিক ক্ষেত্রে নিটারের বিশেষ অর্জন

কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতির জন্য সারা দেশের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত রয়েছে। কিন্তু ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ (নিটার) দেশের এই...