28 C
Dhaka
Sunday, September 26, 2021
Home News & Analysis কিভাবে ভিয়েতনাম টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সফলতা অর্জন করেছে

কিভাবে ভিয়েতনাম টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সফলতা অর্জন করেছে

ভিয়েতনাম কোভিড-১৯ কে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তাই তারা সামাজিক দূরত্ব তুলে দিয়েছে, অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দিয়েছে, ব্যবসাবাণিজ্য সচল হয়েছে।

রিইউনিফিকেশন ডে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের পরে ভিয়েতনামে যখন স্কুল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয় তখন হ্যানয় এবং হো মিন সিটির মত বড় বড় শহরগুলোতে ট্রাফিক বেড়ে যায়।যেটি ছিল পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে পুরোদস্তুর বিপরীত যেসব দেশ কোভিড-১৯ মোকাবিলায় লকডাউনে ছিল।

ভিয়েতনাম এপ্রিল ২২ এর শেষে সামাজিক দুরত্ব কর্মসূচি উঠিয়ে দেয় কিন্তু সতর্কতাসরুপ জনসমাগম সীমিত করে, মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করে। দেশটি মে ৫ তারিখ পর্যন্ত ২৭১ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করে কিন্তু কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ভিয়েতনাম এই কৃতিত্ব অর্জন করে দ্রুত কন্টাক্ট ট্রেসিং,টেস্টিং, জনগণকে কোয়ারেন্টাইন করে, সময়সীমা নির্ধারণ করে এবং রাষ্ট্রিয় সংস্থাগুলোর কাজে সমন্বয় করে।

ভিয়েতনাম শুরুতেই কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করেঃ

ভিয়েতনামে প্রথম দুজন রোগী শনাক্ত হয় জানুয়ারীর ২৮ তারিখে চিন থেকে আগত একটি ফ্লাইটে। এর পর পরই তারা ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখে চায়নার সাথে সকল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। ভাইরাস মোকাবিলা করতে তারা ভিসা এবং পর্যটক নেয়া বন্ধ করে দেয়। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে ভিয়েতনাম এই সকল ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়।

সিংগাপুর ও মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে যখন আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছিল এবং নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অংশ লকডাউন করছিল তখন ভিয়েতনাম বেশ ভালভাবেই করোনা ঝড়কে থামাতে সক্ষম হয়।

কোভিড-১৯ অর্থনীতিকে কিছুটা কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কিন্তু অর্থনীতি বেশ স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেঃ

কোভিড-১৯ মহামারীতে অন্যান্য দেশের মতো ভিয়েতনামের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জেনেরাল স্ট্যাটিস্টিক্স অফিস ভিয়েতনামের তথ্য অনুযায়ী জিডিপি ৩.৮% তে নেমে আসে ২০২০ এর প্রথম কোয়ার্টারে যেটা ২০১৯ এর একই সময় ছিল ৬.৮%। বছরের প্রথম তিন মাসে ৩৫,০০০ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়াত্বের স্বীকার হয়-এক দশকের মধ্যে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রার এর চেয়ে ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার হার বেশি ছিল এই সময়টাতে। আই এম এফ আগাম তথ্য দেয় যে, অর্থনীতি মাত্র ২.৭% বৃদ্ধি পাবে চলতি বছরে।

তা সত্ত্বেও এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এ ডি বি) পূর্বাভাস দেয় ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হবে কোভিড-১৯ এর প্রভাব সত্ত্বেও। এ ডি বি’র এশিয়ান আউটলুক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে ভিয়েতনামের অর্থনীতি ৬.৮% প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ২০২১ সালে যদি তারা কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে সফল হয়।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে ভিয়েতনাম সরকার বেশ কয়েক ধরনের শিল্পের জন্য ১০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, সুদের হার কমিয়ে দেয়, ট্যাক্স পরিশোধ পিছিয়ে দেয় এবং ভূমি কর কমিয়ে দেয় যার মধ্যে টেক্সটাইল খাত অন্যতম। পাশাপাশি এটি শ্রমিক ও চাকরিদাতাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান করে।

বিশ্ব ব্যাংক বিবৃতি দেয় যে, এর অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টস(FTAs)এর আওতায় ভিয়েতনাম শ্রম বাজারে অনূকূল অবস্থায় থাকবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় ভিয়েতনামের বড় বড় শিল্প কারখানায়গুলো তাদের অর্থনীতির শক্ত পুনর্জাগরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রয়টার্সের ২৫ ফেব্রুয়ারি,২০২০ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বছরের প্রথম কোয়ার্টারে টেক্সটাইল র ম্যাটেরিয়ালসের জন্য ভিয়েতনাম কোন সমস্যায় না পড়লেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চাপে পড়বে। কারণ তাদের ৫০% র ম্যাটেরিয়ালস আমদানি হয় চায়না থেকে।প্রায় একমাস পর মার্চ ২৪ এর আর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আনুমানিক ১৫ দিন এর মত সময় লাগতে পারে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় ২০২০ এর প্রজেক্টেড প্ল্যান থেকে ভিয়েতনাম মাত্র ৩-৩.৫০% পিছিয়ে থাকবে। ভিয়েতনাম এক্ষেত্রে যে সুবিধাটি ভোগ করছে তা হল, খুব দ্রুত কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সফলতা অর্জন করা এবং চায়না-ভিয়েতনাম বর্ডার চালু হয়ে যাওয়া। যেহেতু চায়না কার্যকরভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সফলতা অর্জন করে সেহেতু চায়নার সাথে বর্ডার খুলে দিতে তাদের কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি।সুতরাং এ কথা বলা যায় গার্মেন্টস নির্ভর বাংলাদেশ কিংবা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভিয়েতনামের অর্থনীতি অনেক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশ দক্ষতার সাথে ভিয়েতনাম এগিয়ে রয়েছে।

Writer:
Muhammad Alauddin
CTEC
Campus Ambassador, Bunon

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

এওপিটিবি’র মিলনমেলা

সমগ্র বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং সেক্টর নিয়ে কাজ করা সকল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজিস্টদের প্রাণের সংগঠন “অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ”।সংগঠনটির...

ভিয়েতনামের বিকল্প খুজঁছে বিশ্বের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান

সাধারনত যে সকল খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জুতা ও পোশাকের জন্য ভিয়েতনামের কারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল তারা ভিয়েতনামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত। যদিও...

অনাবিল প্রশান্তির মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে ফতুল্লা এপারেল

তৈরী পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। দেশের মোট রফতানি আয়ের  ৮৪% আসে পোশাক খাত থেকে। তাই দিন দিন দেশে...

রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাণিজ্য নীতির সংস্কারের বিকল্প নেই : বিশেষজ্ঞরা

ব্যাপক বাণিজ্য কূটনীতির সংস্কার এবং অর্থনৈতিক নীতির উন্মুক্ততা ভিয়েতনামকে আজ সেরা ২০ টি দেশের তালিকায় আসতে সাহায্য করেছে। উদাহরনসরূপ ১৯৮০-৯০ সালের...

পোশাক খাতের ৫০ বিলিয়ন সম্ভাবনা ও আমাদের অবস্থান

বিশ্বের পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্হানীয় দেশ হলো বাংলাদেশ। দেশের পোশাক খাত অর্থনীতিকে শক্ত হাতে ধরে রেখেছে। ৩৫-৪০ বিলিয়ন ডলারের...

সিটেকে (CTEC) ‘হাল্ট প্রাইজ’- ২০২১ প্রোগ্রামের সফল পরিসমাপ্তি

“হাল্ট প্রাইজ” বছর জুড়ে চলতে থাকা একটি প্রতিযোগিতা যেখানে লক্ষ লক্ষ প্রতিযোগীদের থেকে প্রতি বছর জাতিসংঘের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) অনুযায়ী...

পোশাক এবং টেক্সটাইল প্রযুক্তির আবিস্কারের টাইমলাইন | Timeline of clothing and textiles technology

টেক্সটাইল ফাইবার এবং ফেব্রিকের আদী থেকে বর্তমান ইতিহাসঃ ১. ২৭০০ খ্রিস্টপূর্ব - টেক্সটাইল উপকরণ এবং ঝুড়ি এবং...