30 C
Dhaka
Sunday, October 25, 2020
Home News & Analysis টেক্সটাইল রিসাইক্লিং

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং হলো অব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী হতে প্রক্রিয়াজাত করণের পর ফাইবার, ইয়ার্ণ বা ফ্যাবিক অবস্থায় ফিরে আনা, যা সম্পর্ণরূপে টেক্সটাইল র-ম্যাটেরিয়াস হিসাবে ব্যবহার করা যাবে অথবা টেক্সটাইলের পণ্য সামগ্রী ছাড়াও অন্য ব্যবহারযোগ্য প্রোডাক্ট তৈরি করা যাবে। টেক্সটাইল রিসাইক্লিং পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলির অপচয় রোধ করতে এবং কাঁচামালের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করে।টেক্সটাইল রিসাইক্লিং পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক উভয়ের জন্য সুবিধাজনক। ইহা প্রসেসিং এর জন্য এক দিকে যেমন পরিবেশ দূষনকারী রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার কমিয়ে দেয় এবং অপর দিকে অধিক শক্তি সম্পন্ন প্রসেসিং এর পরিমান কমিয়ে দেয়, ফলে অল্প পরিমান প্রসেসিং প্রক্রিয়ায় ফাইনাল প্রোডাক্ট তৈরি করা সম্ভাব হয়।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টেক্সটাইল রিসাইক্লিং এর প্রয়োজনীতা

মানব জীবন চক্রের উপর টেক্সটাইল শিল্পগুলি একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। প্রচুর পরিমাণে পানি ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের কারণে বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পকে বিশ্বের অন্যতম দূষণকারী ও বর্জ্ উৎপাদনকারী শিল্পে পরিণত করেছে। টেক্সটাইল রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে এই সব দূষণকারী পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবহার করে নতুন কোনো ম্যাটেরিয়াল প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

পোশাক শিল্পে টেকসইতা বাড়াতে ফাইবার এবং বর্জ্য পদার্থ পুনরায় ব্যবহার করা একটি কার্যকর পদ্ধতি। টেক্সটাইল দ্রব্য গুলি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করার জন্য, টেক্সটাইল রিসাইক্লিং বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।  

টেক্সটাইলের অপদ্রব্যগুলি রিসাইক্লিং না করে যে সমস্থ টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিক ফাইবারগুলি ক্ষয় হতে কয়েক বছর সময় নেয়, যেখানে মানবসৃষ্ট ফাইবারগুলি পচে যায় না। উলের তৈরি কাপড়গুলি পচে যায় তবে বায়ুমণ্ডলে মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয়, অপরদিকে সিনথেটিক কাপড়গুলি নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি করে যা একটি শক্তিশালী গ্রীনহাউস গ্যাস। এছাড়াও বিষাক্ত পদার্থগুলি ভূগর্ভস্থ পানি এবং আশেপাশের মাটি দূষিত করে। টেক্সটাইল বর্জ্যের বৃদ্ধি রোধ করতে টেক্সটাইল রিসাইক্লিং করা একমাত্র বিকল্প উপায়, যা অনেক পরিবেশগত সুবিধা দেয়।

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং পদ্ধতি

বর্তমানে অনেক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি তাদের পোশাক সংগ্রহে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ফাইবার এবং ফেব্রিক ব্যবহার করতে এগিয়ে আসছে। সেই ইন্ডাস্ট্রিগুলো তিন পদ্ধতিতে টেক্সটাইল রিসাইক্লিং করছে।

প্রথম পদ্ধতিটি হলো, রিসাইক্লিং ফাইবার বা ম্যাটেরিয়াল থেকে টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী প্রস্তুত করা, যেমন ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল থেকে পলিয়েস্টার ফাইবার প্রস্তুত করা।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো, ফেব্রিক রিসাইক্লিং , ইহা “আপসাইক্লিং” নামেও পরিচিত। এর উদহারণ হলো, সাধারন ভাবে যেসব পণ্য একবারে ফেলে দেওয়া হয়, তেমন কাজে লাগে না সেগুলো আসাইক্লিং করে রিসাইক্লিং এর উপযোগী করা।

তৃতীয় পদ্ধতিটি হলো, ব্যবহারকারীদের নিকট থেকে পোশাক সংগ্রহ করে সেগুলো রিপিয়া্রিং বা রি-ফ্যাশনিং করে পুনরায় গ্রাহকের নিকট সাপ্লাই দেওয়া। এক গবেষাণায় দেখা গেছে বিশ্বের ৭০% লোক সেকেন্ড হ্যান্ড এই পোডাক্ট ব্যবহার করে। যুক্তরাজ্যে টেক্সটাইল রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতি বছর ১৭০০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় আর ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড বর্জ্য ব্যবহৃত হয় যা পরিবেশ দূষন থেকে রক্ষা করে।  

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং প্রক্রিয়া

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং এর জন্য ফাইবারের ভৌত এবং রাসায়নিক গুনাবলির উপর ভিত্তি করে  প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ফাইবারের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া আছে।

ন্যাচারাল টেক্সটাইল

  • প্রথমে, অব্যবহৃত টেক্সটাইল সামগ্রীকে ম্যাটেরিয়ালের বৈশিষ্ট্য ও কালার উপর ভিত্তি করে বাছায় করা হয়। কালার উপর ভিত্তি করে বাছায় করার মূল উদ্দেশ্য হলো রি- ডাইং না করার জন্য এতে পরিবেশ দূষণের রক্ষা করে এবং এনার্জি সেভিং হয়।
  • উক্ত টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রীকে টান টান অবস্থায় কাটা হয় ,এবং ফাইবারে পরিনত করা হয়, এইসব ফাইবারের শক্তি তুলনামুলকভাবে কমে আসে, সেজন্য অন্যান্য ফাইবারের সংমিশ্রণ করা হয় ফলে প্রয়োজনীয় শক্তি সম্পন্ন ইয়ার্ণ প্রস্তুত করা হয় ।
  • এরপর এইসব ফাইবার গুলো ক্লিনিং করে, কার্ডি সেকশনে প্রেরণ করা হয়। তারপর কটনের মতো স্পিনিং প্রক্রিয়ায় ফাইবার থেকে ইয়ার্ন প্রস্তুত করা হয়।
  • পরবর্তীতে উইভিং বা নিটিং প্রক্রিয়ায় উক্ত ইয়ার্ন গুলো ব্যবহার করে টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়।
টেক্সটাইল রিসাইক্লিং মেশিন

প্রাকৃতিক ফাইবার রি-সাইক্লিং এর পর যে সমস্থ ফাইবারের স্ট্যাপল লেংথ তুলনামূলক খুবই ছোট যা ইয়ার্ন প্রস্তুতির জন্য উপযোগী নয়, সেগুলো নন-ওভেন ম্যাটেরিয়াল বা গদি প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।

কৃত্রিম টেক্সটাইল

পলিয়েস্টার-ভিত্তিক টেক্সটাইল সামগ্রীর বা প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ সংগ্রহ করার পর, প্রথমে সেগুলো কাটা হয় এরপর পলিমার চিপস বানানো হয়, তারপর  পলিস্টার চিপগুলিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দানাদার করা হয়। এগুলি পরবর্তীতে গলানো হয় এবং নতুন রিসাইক্লিং টেক্সটাইল সামগ্রী প্রস্তুতির জন্য নতুন ফাইবার তৈরি করা হয়।

বর্তমানে সিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল সহ প্রচুর পরিমানে প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রাথমিক কাজে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলো পরিবেশ দূষিত করছে যা পানি স্রোতের সাথে ভেসে গিয়ে নদী, সমুদ্র এর পরিবেশ মারাত্নক ভাবে ক্ষতি করে, এসব সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষেত্রে হুমকিস্বরুপ। এগুলো থেকে টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী প্রস্তুত জন্য রি-সাইক্লিং করলে পরিবেশ দূষণ এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে ওয়েস্টেজ এবং টেক্সটাইল রিসাইকিং ইন্ডাস্ট্রির নাম

  • Filotex Limited. Old Elephant Rd, Dhaka
  • Nice & Rich Creation Trading Co. Dhaka, Bangladesh
  • Jong Hyun Hi-Tech Ind, Co, Ltd. Dhaka, Bangladesh.
Writer- 
Raihan Kabir 
DUET 
Research Assistant, Bunon

51 COMMENTS