32 C
Dhaka
Thursday, August 5, 2021
Home News & Analysis বাংলাদেশ থেকে আবারও পোশাক কিনবে ওয়াল্ট ডিজনি

বাংলাদেশ থেকে আবারও পোশাক কিনবে ওয়াল্ট ডিজনি

দীর্ঘ ৮ বছর পর বাংলাদেশ থেকে আবারও পোশাক কিনতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্র‍্যান্ড ‘ওয়াল্ট ডিজনি’!! পূর্বের মতোই ওয়াল্ট ডিজনি তাদের পোশাক ক্রয়ের উৎস তালিকায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারটি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধ্বস ও ২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরিন ফ্যাশনে আগুন— বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বড় দুটি বিপর্যয়ের ঘটনা। যার দরুন, সেই পরিস্থিতিতে ‘ওয়াল্ট ডিজনি’ বাংলাদেশ থেকে পোশাক ক্রয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের ক্রয়াদেশ ভিয়েতনামে সরিয়ে নেয়। বিশ্বে বাহারি পোশাকের অন্যতম বড় পোশাক ক্রেতা মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ থেকে মূলত শিশু-কিশোরদের পোশাক ক্রয় করত। ওয়াল্ট ডিজনি ব্র‍্যান্ড তাদের পোশাক ক্রয়াদেশ বন্ধের পূর্বে বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক ক্রয় করেছে। যার মধ্যে জার্সি, টি-শার্ট, লেগিংস উল্লেখযোগ্য ছিল।

বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে যথাযথ গৃহীত হয়েছে যা ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ এর সভাপতি ফারুক হাসান জানান “‘আমরা আমাদের কাজের পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মান উন্নত করায় ওয়াল্ট ডিজনি বাংলাদেশে ফিরে আসছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াল্ট ডিজনির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোনে আমাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।” তবে পোশাক ক্রয়ের বিষয়টি বিশ্বস্ত একটি সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেলেও এখনোও ডিজনির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ বলছে, গত কয়েক বছরে দেশের পোশাক শিল্পে অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিকদের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য অভূতপূর্ব প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সুরক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের পুরো কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকার, আইএলও, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ড, উৎপাদক ও বৈশ্বিক ইউনিয়নগুলোর সমর্থন ও সহায়তায় স্বচ্ছভাবে হয়েছে।যা কর্তৃপক্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘ওয়াল্ট ডিজনির ফিরে আসাটা আমাদের পোশাকশিল্পের জন্য সুখবর। কারণ, সম্প্রতি ভারত থেকে প্রচুর পোশাক আমদানি করত তারা। মিয়ানমারের সঙ্গেও ব্যবসা শুরু করেছিল। ফলে আশা করছি, আমাদের উদ্যোক্তারাও ওয়াল্ট ডিজনি থেকে শিগগিরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রয়াদেশ পাবে।’

মূলত সামাজিক ও সুরক্ষা মান রক্ষার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিজিএমইএ ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এছাড়াও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব কারখানার অবস্থান বাংলাদেশেই। ১৪৪টি কারখানা লিড গ্রিন সনদ পেয়েছে, যার মধ্যে ৪১টি প্লাটিনাম স্তরের। এসব ব্যবস্থা ও পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ডিজনির মতো নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিয়ে সচেতন ব্র্যান্ডগুলোর পছন্দের সোর্সিং অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে বলে পারবে বলে আশাবাদী বিজিএমইএ।

রিপোর্টারঃ
সাদিয়া রহমান 
ন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স টিম,বুনন 
ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

Most Popular

গার্মেন্টস এ “কার্বন লেবেল” প্রয়োগের জন্য আইন পাস করেছে ফরাসী পার্লামেন্ট

ফরাসী পার্লামেন্ট সম্প্রতি একটি জলবায়ু বিল অনুমোদন দিয়েছে যা পোষাক, টেক্সটাইলসহ সকল ধরণের পণ্য এবং পরিষেবায় "কার্বন লেবেল" এর প্রয়োগ বাধ্যতামূলক...

ভিয়েতনাম ফ্যাক্টরি শাটডাউনে বৈশ্বিক ফ্যাশন সাপ্লাই চেইনে নেতিবাচক প্রভাব

ভিয়েতনামে কোভিড-১৯ এর জন্য চলমান লকডাউন বৈশ্বিক ফ্যাশন এবং ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড গুলোর অবকাশকালীন পণ্য মজুদকে বাধা দিতে পারে এবং এটি তাদের...

হোম টেক্সটাইলে নতুন বিপ্লবের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য বলতেই সবার আগে চলে আসে তৈরি পোশাক শিল্প। কখনো কখনো পাট, হিমায়িত চিংড়ি, চামড়া রপ্তানি নিয়েও আলোচনা হয়।...

অবশেষে বাড়ছে পোশাক ক্রয়াদেশ

দীর্ঘদিন পর ইউরোপ আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি উন্নতি ও পরিবর্তিত ভু-রাজনিতিসহ ৬ কারনে তৈরি পোশাকের প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে বাংলাদেশে। আগামী ২ বছরের...

করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা -১৭

আমাদের প্রত্যেকটা পোশাক প্রস্তুতকারক কারখানায় ছোট্ট একটা জিনিষের অনুপস্থিতি প্রায়ই খেয়াল করেছি বিগত দশ বছরে। নিটিং, ডাইং, কাটিং, সুইং, এমব্রয়ডারি, প্রিন্টিং,...

চায়নায় উচ্চশিক্ষা | Higher Study In China

উচ্চ শিক্ষার কথা ভাবলে অধিকাংশ মানুষ এর মাথায় ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, লন্ডন এসব দেশের কথা চলে আসে। এর প্রধান কারণ হিসেবে...

কিভাবে ভিয়েতনাম টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সফলতা অর্জন করেছে

ভিয়েতনাম কোভিড-১৯ কে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তাই তারা সামাজিক দূরত্ব তুলে দিয়েছে, অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দিয়েছে, ব্যবসাবাণিজ্য সচল হয়েছে।