28 C
Dhaka
Monday, September 27, 2021
Home News & Analysis Association News ডিজিটাল অল-অভার প্রিন্টিং এর সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক এওপিটিবির আলোচনা সভা

ডিজিটাল অল-অভার প্রিন্টিং এর সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক এওপিটিবির আলোচনা সভা

“অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস বাংলাদেশ – এওপিটিবি” সংগঠন ডিজিটাল অল-ওভার প্রিন্টিং এর সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে, বিগত শুক্রবার (৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এওপিটিবি এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

আলোচনায় অতিথি হিসেবে ছিলেন ডিজিটাল প্রিন্টিং সেক্টরের স্বনামধন্য ৪ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। তারা হচ্ছেন আবদুল্লাহ আল মামুন ( আবেদ টেক্সটাইল লিমিটেড এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়াশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট), দিলিপ কুমার বৈদ্য (আনোয়ার গ্রুপের সহকারী পরিচালক),  ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নাসিমুজ্জামান নাসিম (রবিনটেক্স গ্রুপের জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট) এবং সাথে আরও ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আলমগির হোসাইন  (ডিজিটাল প্রিন্টিং নীট কনসারন গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার এন্ড হেড অফ ডিপার্টমেন্ট)। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন,  ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আনোওয়ার হোসাইন (ঝংসাসি আইডিয়াল নিউ ম্যাটেরিয়াল কম্পানি লিমিটেডের টেকনিক্যাল মানেজার)।

পৃথিবীর এমন কোন আবিষ্কার নেই, যা ২০ বছর আগে যেমন ছিল ২০ বছর পর তেমনই আছে। প্রত্যেকটি সেক্টর তার নিজ গতিতে ডেভোলপ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রিন্টিং সেক্টরটিও অনেক আধুনিকায়ন হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজন ডিজিটাল প্রিন্টিং এর কাজ শুরু করেন। তাদেরই
মধ্যে অন্যতম একজন হল আবদুল্লাহ আল মামুন। তাকে তার শুরুর গল্প জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি যখন ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে আসি তখন আমাদের দেশে কয়েকটা ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিন ছিল। যেসকল ফ্যাক্টরিতে ছিল তারাও এসকল মেশিনের সাথে খুব বেশি পরিচিত ছিল না। তাই প্রথম দিকে এটি অনেক চ্যালেঞ্জিং
হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শুরুতে এটি সকলে মেনে নিতে পারছিল না। তারা সকলে বলেছিল যে-ডিজিটাল প্রিন্টিং এ ডিজাইন পাওয়া যাচ্ছে না,সকলে গ্রহন করবে না। ,নতুন কিছু শুরু করতে গেলে বাধা বিপত্তি আসে, এটাকে অতিক্রম করে ডিজিটাল প্রিন্টিং কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রিন্টিং এর কালি প্রস্তুত করা সম্ভব,তবে এর লিমিটেশন হচ্ছে এর কালার গুলোর পিএইচ ড্রপ হওয়া। আমি যেটা মনে করি যে, টেকনোলোজি বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আপনি যদি টেকনোলোজির সাথে না থাকেন ভবিষ্যতে আপনি খুব বড় ধরনের ধ্বসের সম্মুখীন হবেন। সেই বাস্তবতা থেকেই আমি ৬-৭ বছর আগে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এটি নিয়ে কাজ শুরু করি।”

তিনি তার শুরুর চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরও বলেন, ”আমি আমার ম্যানেজমেন্টের বিপরীতে
গিয়ে দেশে ডিজিটাল প্রিন্টের সিদ্ধান্ত নেই। কেননা কোন নতুন জিনিস মার্কেট প্রথম প্রথম কেউ গ্রহন করে না। এক প্রকার জোর করেই এই সিদ্ধান্ত নেই। ডিজিটাল প্রিন্টিং এ খরচ বেশি, দক্ষ ডিজাইনারের অভাব, ডিজিটাল প্রিন্টিং করলে ওয়াশ আউট হয়ে যায় এ ধরনের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পরেছি এবং ধীরে ধীরে তা মোকাবিলা করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। নিজেকে এখন প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস বলতে বড়ই ভাল লাগে।“

“দেশে ডিজিটাল প্রিন্টিং করা হয় এমন ফ্যাক্টরির আনুমানিক সংখ্যা ৩০-৩৫ টি। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির আগে ১০-১৫ টি ফ্যাক্টরিতে ডিজিটাল প্রিন্টিং শুরু হয়। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং টেকনোলজির সাথে খাপ খাওয়ানোর ব্যাপার এসব কিছু মিলে নতুন ফ্যাক্টরিগুলো কিছুটা সমস্যায় আছে,”বলেন আবদুল্লাহ আল মামুন।

তরুনদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ”ডিজিটাল প্রিন্টিং সেক্টরে ডিজিটাল ডিজাইনারদেরও অভাব আছে। ভবিষ্যতে এই সেক্টরটি আরও অগ্রগামি হবে।“ তাই যেসকল তরুণ উদ্দক্তাদের ডিজিটাল প্রিন্টিং সেক্টরে আসার ইচ্ছা তারা জানো ডিজাইন সফটওয়্যারে (ফটশপ, ইলাসট্রেশন, ক্যাড) নিজেকে অভিজ্ঞ করে তুলে সে ব্যাপারে উপদেশ দেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন শেষের দিকে চমৎকার একটি ঘোষণা দেন। তিনি আগামী বছর থেকেই দেশেই ডিজিটাল প্রিন্টিং ইঙ্ক তৈরি এবং ম্যানুফ্যাকচারের কাজ শুরু করবেন যা ডিজিটাল প্রিন্টিং সেক্টরকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

ফ্যাশন প্রিন্টেড মাগাজিনের মতে, গ্লোবাল টেক্সটাইল প্রিন্টিং এর আউটপুট হচ্ছে ৩০ বিলিয়ন বর্গমিটার। এর মধ্যে ডিজিটাল প্রিন্টিং হল ৩%, ফ্লাট বেড প্রিন্টিং ২৫% এবং রোটারি প্রিন্টিং ৬৫%। তবে আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে, ২০১৩ সালে ডিজিটাল প্রিন্টিং করা হয়েছে ৬৩৩ মিলিয়ন বর্গমিটার এবং ২০২০-এ এই পরিসংখ্যান দাড়ায় ২.২ বিলিয়ন বর্গমিটার। তার মানে প্রতি বছর ২৪% করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে বিশ্বে এখন ডিজিটাল প্রিন্টিং এর গ্রহনযোগ্যতা বাড়ছে।

এই গ্রহন যোগ্যতার কারন ব্যাখা করতে গিয়ে আনোয়ার গ্রুপের সহকারী পরিচালক
দিলিপ কুমার বৈদ্য বলেন যে, “আমাদের ট্রেডিশনাল প্রিন্টিং এ যেমন রোলার, রাবার, স্ক্রিন, ব্লেড দরকার হয় তবে ডিজিটাল প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে এই জিনিস গুলার দরকার হয় না। এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণগুলো হলঃ ডিজিটাল প্রিন্টিং এ কালার এবং রিপিটের কোন লিমিটেশন নেই, কালারের শার্পনেস খুবই ভাল, যেকোনো ধরনের 2D, 3D ইফেক্ট সম্পন্ন ডিজাইন প্রিন্ট করা সম্ভব। ডিজিটাল প্রিন্টিং খুবই স্মার্ট একটি প্রিন্টিং প্রক্রিয়া। যার জন্য এটি সামনে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।“

ডিজিটাল প্রিন্টিং-এ প্রি-ট্রিটমেন্ট প্রসেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। প্রি-ট্রিটমেন্ট প্রসেসে একটু হের ফের হলেই ফেব্রিকের কালার আশানুরুপ দেখায় না বা ডিজাইন শার্পনেস নষ্ট হয়ে যায়। নীট এবং ওভেন ফেব্রিকের জন্য প্রি-ট্রিটমেন্ট প্রসেস এবং কম্পজিশন নিয়ে আলোচনা করেছেন ডিজিটাল প্রিন্টিং নীট কনসার্ন গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার এন্ড হেড অফ ডিপার্টমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আলমগির হোসাইন। তিনি বলেন, “সঠিক প্রি-ট্রিটমেন্ট প্রসেস এবং কম্পজিশন জানলে ব্লেনডেড ফেব্রিক ব্যাতিত যেকোনো ফেব্রিকেই ডিজিটাল প্রিন্ট করা সম্ভব।”

“যারা জানি না ব্লেনডেড ফেব্রিক কি তাদের জন্য বলি, যেসকল ফেব্রিক এক বা একাধিক ভিন্ন সুতা দিয়ে তৈরি তাদেরকে ব্লেনডেড ফেব্রিক বলে অনুষ্ঠানে আরও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন রবিনটেক্স গ্রুপের জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার নাসিমুজ্জামান নাসিম। তিন সাবমিশন প্রিন্টিং এবং ডিসপার্স প্রিন্টিং এর ব্যাসিক পার্থক্য আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “ডিজিটাল
প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে ভাল মানের ইংক বা ফিনিশিং কেমিক্যাল ভাল মানের ইউস করা হলে সেক্ষেত্রে কাপড় থেকে রঙ উঠে জায় না,বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেয়েরা অভিযোগ করে থাকে যে ৪ /৫ বার ধোয়া হলে এর রঙ উঠে যায়, এ সম্পর্কে তিনি তার চমৎকার জ্ঞান শেয়ার করেন,এবং এইটার একটা লিমিটেশন ও বলেন-যে সাদা রঙ এর কাপড়ে ডিজিটাল প্রিন্টিং করা যায় না।” এছাড়াও ট্রেডিশনাল পিগমেন্ট প্রিন্টিং এবং ডিজিটাল পিগমেন্ট প্রিন্টিং নিয়েও ব্যাসিক আলোচনা করেন।

রিপোটার:
মাসুম আহমেদ
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সটাইলস (বুটেক্স)
ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর,বুনন

Most Popular

এওপিটিবি’র মিলনমেলা

সমগ্র বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং সেক্টর নিয়ে কাজ করা সকল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজিস্টদের প্রাণের সংগঠন “অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ”।সংগঠনটির...

ভিয়েতনামের বিকল্প খুজঁছে বিশ্বের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান

সাধারনত যে সকল খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জুতা ও পোশাকের জন্য ভিয়েতনামের কারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল তারা ভিয়েতনামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত। যদিও...

অনাবিল প্রশান্তির মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে ফতুল্লা এপারেল

তৈরী পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। দেশের মোট রফতানি আয়ের  ৮৪% আসে পোশাক খাত থেকে। তাই দিন দিন দেশে...

রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাণিজ্য নীতির সংস্কারের বিকল্প নেই : বিশেষজ্ঞরা

ব্যাপক বাণিজ্য কূটনীতির সংস্কার এবং অর্থনৈতিক নীতির উন্মুক্ততা ভিয়েতনামকে আজ সেরা ২০ টি দেশের তালিকায় আসতে সাহায্য করেছে। উদাহরনসরূপ ১৯৮০-৯০ সালের...

ডেনিমের পুনর্জাগরণ

আমরা প্রায়সই বলে থাকি "পৃথিবী কতই না বিচিত্র" "কত কিছুই না দেখার আছে"। হ্যাঁ , এই বিচিত্রিতার কমতি নেই ফ্যাশন স্টোরগুলোতেও।...

বিজিএমইএ ও স্রেডার মধ্যে সমঝোতা স্মারক

টেকসই ও নাবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারারস এন্ড এক্সপোর্টারস এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জ্বালানি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংক্রান্ত...

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতে অনন্য মাত্রা -‘মার্চেন্ট বে’

দেশের তৈরি পোশাক খাত সম্পর্কিত খাতে নতুন এক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘মার্চেন্ট বে’ যাত্রা শুরু করে ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এবং এক...