31 C
Dhaka
Friday, October 22, 2021
Home News & Analysis টেক্সটাইল মার্কেটিং। Textile Marketing

টেক্সটাইল মার্কেটিং। Textile Marketing

টেক্সটাইল মার্কেটিং এর কথা শুনলেই স্বাভাবিক ভাবে মাথায় কিছু প্রশ্ন আসে যেমন: টেক্সটাইল মার্কেটিং কি? কেনো করা হয়? কোন প্রসেসে করা হয়? টেক্সটাইল মার্কেটিং এ জব করতে চাইলে কোন কোন বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। একজন মার্কেটিং ম্যানেজার এর কাজ কি? মার্কেটিং জবের সুবিধা অসুবিধা বা এতে ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার সুযোগ কেমন ? ইত্যাদি।

স্বাভাবিকভাবেই প্রথমেই আমার মাথায় ও এই প্রশ্ন গুলিই এসেছিলো। আমি এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর নিয়ে ধাপে ধাপে নিচে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। স্বাভাবিকভাবে মার্কেটিং বলতে আমরা পণ্য বিক্রয়ের জন্য সেই পণ্যের সুবিধা অসুবিধা মানুষের কাছে তুলে ধরে তা বিক্রয়ের পথ সুগম করাকেই বুঝি কিন্তু টেক্সটাইল মার্কেটিং কিছুটা ভিন্ন। এখন আসি টেক্সটাইল মার্কেটিং সিস্টেম অন্যান্য মার্কেটিং থেকে কেনো ভিন্ন ?

সাধারণত ভালো আউটকাম বা ফলাফল পাওয়ার জন্যেই আমরা মার্কেটিং এর বিভিন্ন কৌশল বা প্রসেস তৈরি করি এবং বাস্তবায়ন করি। যা বিজনেস টু বিজনেস মার্কেটিং, রিলেশনশিপ মার্কেটিং, প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর সাথে সর্ম্পকিত। সাধারণত এই সমস্ত মার্কেটিং একই টাইপ এটা  ট্রাডিশনাল মার্কেটিং এর অধীনে চলে কিন্তু টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস ব্যবসায় মার্কেটিং  সিস্টেম টি একটু ভিন্ন যেটি সাধারণত বাংলাদেশের কম্পোজিট গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল কোম্পানি গুলি ব্যাবহার করে থাকে।

টেক্সটাইল সেক্টরেই একমাত্র সেক্টর যেখানে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর পূর্বে আসে প্রোডাকশন প্রসেস, ক্যাপাসিটি, মেশিনারি, কমপ্লায়েন্স ইত্যাদি।

আমরা অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির কথা যদি বিবেচনা করি যেমনঃকসমেটিকস, লাক্সারিয়াস ফুড ইত্যাদি এদের ক্ষেত্রে  সবসময় প্রথমে  ফিনিশড প্রোডাক্ট এর ওপর ফোকাস করা হয়। প্রডাকশন প্রসেস এবং মেশিনারি পরে বিবেচনা করা হয়।

অন্য সব ইন্ডাস্ট্রির জন্য ব্র‍্যান্ড ভেল্যু একটি লিফট হিসাবে কাজ করে। ফলে একটি স্ট্রং ব্র‍্যান্ড নেইম এবং স্ট্রং প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর জন্যে যথেষ্ট। কিন্তু বিপরীতে গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল খাতে প্রোডাক্ট আসে প্রসেস,ক্যাপাসিটি এবং মেশিনারির পরে।

যদিও ব্রান্ড নেইম এই সেক্টরেও গুরুত্বপূর্ণ তবে  গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল ম্যানুফেকচারার এর পক্ষে বাজার দখল করার জন্যে যথেষ্ট নয়।

এজন্য এর মার্কেটিং পলিসি টা ভিন্ন।

What is marketing বা মার্কেটিং কি?

এক কথায় যদি বলতে যাই তাহলে মার্কেটিং হচ্ছে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী অন্য কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে পণ্য বা সেবা আদানপ্রদান বা বিনিময় এর পথ সুগম করে এবং এর মাধ্যমে তাদের চাহিদা পূরণ করে থাকে ।

প্রকারভেদ:

বিভিন্ন প্রকারের টেক্সটাইল  মার্কেটিং  হয়ে থাকে যেমন: ফেব্রিক মার্কেটিং, ক্যামিকেল মার্কেটিং, মেশিন মার্কেটিং, একসেসরিজ মার্কেটিং।

মার্কেটিংকে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:

প্রডাক্ট মার্কেটিং এবং ফ্যাক্টরি মার্কেটিং।

প্রডাক্ট মার্কেটিং বলতে, ক্যামিকেল ,ইয়ার্ন , ফেব্রিক, একসেসরিজ, ডাইজ এগুলো লোকাল মার্কেটে সেল করাকে বুঝায়।

ফ্যাক্টরি মার্কেটিং: এরা ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরীণ  লোক যারা বাইরে থেকে কোম্পানির জন্য অর্ডার নিয়ে আসে এবং বায়ার এর কাজ করে দেয়।

একজন মার্কেটিং ম্যানেজার হতে হলে কোন কোন বিষয়ে জ্ঞান এবং দক্ষতা থাকা প্রয়োজন বা যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন :

১. এনালাইটিক্যাল এবং ক্রিয়েটিভ মাইন্ডের হতে হবে।

২.কমিউনিকেশন এবং প্রেজেন্টেশন দক্ষতা ভালো থাকতে হবে।

৩.শিক্ষিত, ভদ্র এবং আইটি দক্ষতা সম্পন্ন হতে হবে।

৪. মানব সম্পদ ম্যানেজমেন্ট স্কিল ভালো থাকতে হবে।

৫.মার্কেটিং টেকনিক এবং কনসেপ্ট এর ওপর বিস্তারিত ধারণা থাকতে হবে।

৬.  অনেক চাপের মধ্যেও ক্রিয়েটিভলি চিন্তা করতে পারে এমন হতে হবে।

৭. মানুষ যেটায় মোটিভেট হয় সেই বিষয়ে আগ্রহী হতে হবে।

৮. টিম পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে।

৯. প্রো-এক্টিভ এবং উদ্যোগ নিতে সক্ষম।

১০. একটি টিমকে মোটিভেট এবং ইন্সপায়ার করতে সক্ষম এমন হতে হবে।

১১. আচার-আচরণ প্রফেশনাল হতে হবে। বিজনেস সর্ম্পকে ভালো নলেজ থাকতে হবে।

 ১২. ইংলিশে সুন্দরভাবে কথা বলতে শিখতে হবে,  শুদ্ধ উচ্চারণ সহ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারতে হবে তাছাড়া অন্যান্য দেশ এর ভাষা যেমন ফ্রান্স, জার্মান, চায়না ভাষা জানা থাকলে আপনার জন্যে আরো ভালো।

১৩.মার্কেটিং এর জন্য আপনার ডকুমেন্টেশন দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যখন বায়ার কে মেইল করবেন তখন যেনো এটি আকর্ষণীয় এবং ফরমাল হয় এবং সুন্দর ফিড ব্যাক দেওয়াও শিখে নিতে হবে।

মার্কেটিং ম্যানেজার এর কাজ বা দায়িত্ব :

প্রতিটি শিল্পখাতে মার্কেটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই শর্টফর্মটির মাধ্যমে গ্রাহক বা ক্রেতার চাহিদা পূরনের সাথে সাথে সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সার্বাধিক মুনাফা হয়। এবং এটিই একজন মার্কেটিং ম্যানেজার এর মূল দায়িত্ব বা উদ্দেশ্য।একজন মার্কেটিং ম্যানেজার এর কাজ মূলত নির্ভর করে তার কোম্পানির ওপর কোম্পানির গঠন, সাইজ, শিল্পখাতের ওপর।

তবে তার দৈনন্দিন কাজে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে :

১. পর্যবেক্ষণ এবং চলমান মার্কেট এর কি অবস্থা সেটা যাচাই করা৷

২. প্রতিযোগীদের পণ্য এবং সার্ভিস নিয়ে স্টাডি করা।

৩. বিদ্যমান পণ্য এবং সেবার  মান উন্নত করা এবং লাভ বৃদ্ধির বিভিন্ন উপায় অনুসন্ধান করা।

৪.মার্কেট কি চাচ্ছে এবং কোন পণ্য লাভ ভালো দিবে সেটা চিহ্নিত করা।

৫. মার্কেটিং প্ল্যান এবং বাজেট প্রস্তুত করা এবং পরিচালনা করা।

৬. বিক্রয় এবং ডিসট্রিবিউশন এর মতো অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিভাগগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখা।

 ৭. শেষে মনিটরিং রেজাল্ট প্রস্তুত করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা সিনিয়র ম্যানেজার এর কাছে প্রদান করা।

৮.একজন মার্কেটিং ম্যানেজার ক্রিয়েটিভ চিন্তাভাবনা করে এবং বিভিন্ন টেকনিক ব্যাবহার করে এবং সম্ভাব্য গ্রাহকের সাথে যোগাযোগের নতুন নতুন  উপায় খুজে বের  করে।

৯.একজন ভালো মার্কেটিং ম্যানেজার হওয়ার জন্য ভোক্তা বা ক্রেতাকে ভালো ভাবে বুঝতে হবে, বর্তমান এবং আসন্ন ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে।

১০. সম্ভাব্য গ্রাহক শনাক্ত করে স্মার্ট বায়িং এবং দক্ষ মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে মুনাফা সার্বাধিক করা।

১১. একটি নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে কাজ করতে  হবে।

১২.  ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্ট, মেশিন, ক্যামিক্যাল এগুলো নিয়েও কন্টিনিউয়াসলি  স্টাডি করতে হবে ও অন্য কোম্পানি গুলির প্রসেস প্রসিডিউর ও তাদের কাজের ধরন গুলি নিয়েও স্টাডি করতে হবে।

১৩. মার্কেটিং সেক্টরে আপনার পরিচিতির ব্যাপার টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেকোন ভাবেই হোক আপনার পরিচিতি বাড়াতে হবে।

একটা চেইন মেইনটেইন করা যেতে পারে। সেটা কর‍তে পারেন আপনার সিনিয়র জুনিয়র অথবা বন্ধু বান্ধবের সহায়তায়।

১৪.প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আপনাকে এগিযে যেতে হলে কম মূল্যে কম সময়ে ভালো প্রোডাক্ট সাপ্লাই দেওয়ার পলিসি জানা থাকতে হবে অথবা কম মূল্য বা লিড টাইম কম বা কোয়ালিটি সম্পন্ন প্রোডাক্ট যেকোনো একটি সুবিধা দিতে হবে।

১৫. ভালো সার্ভিস এর মাধ্যমে কাস্টমার ধরে রাখা।

টেক্সটাইল মার্কেটিং প্রসেস :

  • মার্কেটিং এর মূল কাজ হচ্ছে বয়ার বা অর্ডার কালেক্ট করা এ জন্য আপনাকে বায়িং হাউজ অথবা ফেক্টরি মার্চেন্ডাইজার এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। মূলত এদের মাধ্যমেই অর্ডার গুলো করা হয়ে থাকে তবে অনেক সময় সরাসরি কারখানার পরিচালক ও অর্ডার করে থাকেন।
  • কোন অর্ডার পাওয়ার জন্যে প্রথমে বায়ার এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে তাদের কাছে আপনার ফ্যাক্টরির  ডিটেইলস , প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি, মেশিন প্রসেস ইত্যাদি তুলে ধরতে হবে ।
  • কোন অর্ডার পাওয়ার সাথে সাথে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে তাদের কাছে আপনার ফ্যাক্টরির সম্পর্কে ডিটেইলস তুলে ধরতে হবে যেমন: প্রোডাকশন প্রসেস, প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি, মেশিনারিজ,আপনার কাছ থেকে প্রোডাক্ট নেওয়ার সুবিধা গুলো তুলে ধরতে হবে।
  • সব বিষয় উপস্থাপন করার পর তাদের কাছে শুনতে হবে তারা কি চায় কি অর্ডার করে কোন কোয়ালিটির প্রোডাক্ট  অর্ডার করে, কি পরিমান অর্ডার করে এবং তাদের লিড টাইম কত ইত্যাদি ।  টাইমলি ডেলিভারি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • ইতি পূর্বে আপনি ভালো বায়ার এর কাজ করে থাকলে বা রানিং অবস্থায় থাকলে  তাদের সামনে তুলে ধরুন কারন এটি অর্ডার পাওয়া জন্যে অনেক হেল্প করে।
  • শুরুতে আমি কতটা ভালো সার্ভিস দিতে পারব তা তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে। তাদের ফ্যাক্টরি ভিজিটের সুযোগ করে দিতে হবে। তারা স্বচক্ষে দেখবে কোথায় কিভাবে কোন প্রসেসে তাদের কাজটি হতে যাচ্ছে।
  • কস্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার কস্টিং করা প্রাইস অবশ্যই  যুক্তিসংগত এবং মান সম্মত হতে হবে।
  • অনেক সময় ছোট ফ্যক্টরি এবং ঢাকার বাইরের ফ্যক্টরি কিছুটা কম মূল্যে প্রোডাক্ট দিয়ে থাকে তাদের কাছে অর্ডার দেওয়ার অসুবিধা গুলো বায়ারের কাছে তুলে ধরতে হবে।
  • অনেক সময় ডেমারেজ হলে তা কিভাবে রিকোভার করা যায় সে বিষয়ে জেনে নিতে হবে। ফেব্রিক নষ্ট হলে বায়ার ক্লেইম করে। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্যে তাদের কাছে আপনি পূর্বে তাদের কি সুবিধা দিয়েছেন, কি কি উপকার করবেন তা তুলে ধরতে পারেন,  দোষ আপনার না সেটি বুঝাতে পারেন তারপরও না মানলে কারখানার পরিচালককে জানাতে হবে সে প্রোডাকশন এর কারো বেতন কেটে হোক নষ্ট ফেব্রিক বিক্রি করে হোক যেভাবে হোক ম্যানেজ করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবে।
  • মার্কেটিং এর মূল কাজ হচ্ছে বায়ার এর কাছ থেকে পেমেন্ট সময়মত কালেক্ট করা। কাজটি সময়মত করে ফেলতে হবে।
  • স্ট্যান্ডার্ড প্রসেস না হলেও আমাদের দেশে অনেক ফেক্টরিতে যেটা চলে সেটা হচ্ছে আপনি কত করে অর্ডার নিলের আর কত করে করালেন টাকা বেচেঁ গেলে সেই লভ্যাংশের একটা পারসেন্টেজ পাবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট ডাইং, প্রিন্টিং, মার্কেটিং এবং পার্টির রিপ্রেজেনটেটিভ। এদের সমন্বয়ের মাধ্যমেই করা হয়।
  • সার্ভিস যত ভালো তার ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি, ক্লায়েন্টের চাহিদা ঠিক মত পূরণ করতে পারলে আফটার সেল সার্ভিস ভালো হলে ক্লায়েন্ট বেশি থাকে।

টেক্সটাইল মার্কেটিং জবের কিছু সুবিধা :

১. এখানে কাজের চাপ এবং হয়রানি তুলনামূলকভাবে কম।

২. মার্কেটিং জব গুলি টার্গেট ভিত্তিক, টার্গেট ফিলাপ এর পর একটি কমিশন পাওয়া যায়,  যেটা অন্য ক্ষেত্রে পাওয়া যায়না।

৩. আপনার পরিচিতির নেটওয়ার্ক আপনার কাজের চাপও কমাতে সাহায্য করবে।

৪. বিদেশে ভ্রমণ এর সুযোগ হয়, চাপ এবং হয়রানি কম।

৫. বায়ার বা ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করতে পারলে ভালো রকম ভ্যালু পাওয়া যায়।

৬. ব্যাবসা সম্পর্কে জ্ঞান পাওয়া যায় ভবিষ্যৎ এ নিজের ব্যাবসা দাড় করানোর সুযোগ হতে পারে।

৭. নিজের ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর পূর্ণ সুযোগ থাকে।

৮. ক্লায়েন্টের দাবিদাওয়া গুলো ঠিক মত পূরণ করতে পারলেই হয় এখানে জাবাব দিহিতার পরিমান কম।

৯. মার্কেটিং এ জব ফ্যাসিলিটি তুলনামূলক বেশি।

১০. ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটি বা ট্রান্সপোর্ট বিল, লান্স ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।

১১.ডিউটি ডিউরেশন লিমিটেড না আর্থাৎ কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

১২.অনেক বিষয়ে স্কিল ডেভেলপ করা যায় যেমনঃ স্পিকিং, প্রেজেন্টেশন, মোটিভেশন, পাবলিক স্পিকিং,  বিভিন্ন সেমিনার ট্রেইনিং  ইত্যাদির মাধ্যমে এদের স্কিল ডেভেলপ করা হয়।

১৩. রেপুটেটেড কোস্পানি, ফরেইন কোম্পানি বিশেষ করে ইউরোপ এর কোম্পানি গুলোতে জব করলে সহজেই ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা যায়।

১৪. কোম্পানির বড় বড় কর্মকর্তা যেমন MD,ED,Marketing head, director এর সাথে ভালো রিলেশন বিল্ডাপ হয়।  

১৫. টেক্সটাইল থাকলে মার্কেটিং থাকবে সুতরাং ক্যারিয়ার নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

কিছু অসুবিধা :

১.আপনি যদি কমিউনিকেশন, প্রেজেন্টেশন, পাবলিক স্পিকিং এবং ধৈর্য্যে দুর্বল হয়ে থাকেন তাহলে এই জব আপনার জন্যে নয়।

২.আপনি যদি রেপুটেটেড কোম্পানিতে জয়েন করতে না পারেন তাহলে আপনার সারভাইব করা কঠিন হয়ে যাবে।

৩. মার্কেটিং জব গুলি টার্গেট বেসিস। টার্গেট ফিল না করতে পারলেও বিপাকে পড়তে পারেন।

৪. কোম্পানি অথবা প্রোডাক্ট যদি নতুন হয় তাহলে সেটি আপনার জন্যে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।

৫. একসাথে অনেক গুলি কাজ ফলো আপ করতে হয় প্রেসার নেওয়া মত মেন্টালিটি এবং এবেলিটি থাকতে হবে।

৬. যথেষ্ট ক্রিয়েটিভ হতে হবে এবং আপনার পরিচিতি বা নেটওয়ার্ক ভালো না থাকলে সুবিধা করে ওঠতে পারবেন না।

৭.  অনেক সময় কাজের চাপের কারনে কোম্পানির GM বা বড় কোন কর্মকর্তা সময় দিতে পারেন না তাদের জন্য আপনার অপেক্ষা করতে হবে বিরক্ত হওয়া যাবে না। 

৮. নতুন কোম্পানিগুলির মার্কেট ডেভেলপ করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার, জব সিকিউরিটি কম।

৯. একের পর এক অর্ডার এর পেছনে দৌড়াতে হবে টার্গেট পূরণ করতে হবে ভাবা যাবেনা একটি অর্ডার পেলাম হয়ে গেলো। চেলেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে।

১০. আবার অনেক সময় আপনার নতুন প্রোডাক্ট নিতে চাইবেনা ব্যাপারটি ধৈর্য্যর সাথে হ্যান্ডেল করতে হবে ।

১১. যেকোন সময় যেকোনো জায়গায়  ট্রাভেল করতে হতে পারে এটি যদি ইনজয় করতে পারেন তাহলে ভালো অন্যথায় এখনি অভ্যাস করে নিন।

মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট এর মাধ্যমে আপনি কার্যকরী পণ্য পরিকল্পনা, প্রমোট/প্রচার এবং ডিস্ট্রিবিউট সহ এপ্যারেল প্রোডাক্ট সম্পর্কে দক্ষতা পেয়ে যাবেন । আপনি ফাইবার, সুতা, কাপড় এবং পোশাক উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিতে বাজার গবেষণা, পণ্য বিকাশ এবং বিক্রয় কার্যাদি সম্পর্কে জানতে পারবেন ।

writer:
Rakibul Islam

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে পিসিআইইউ ভলেন্টিয়ার্সের এর উদ্যেগ Skill for Career Progression (SCP)

পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন "PCIU Volunteers" আয়োজন করতে যাচ্ছে কর্পোরেট দক্ষতা বিষয়ক প্রোগ্রাম "Skill for Career Progression" (SCP)।

“প্রতিটি ধাপে তোমার যোগ্যতাই তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে” – সালাউদ্দিন

সম্পাদকীয়ঃ লেখক- জনাব সালাউদ্দিন হেড অফ অপারেশন, বুনন চেয়ারম্যান, আস্ক এপারেল এন্ড টেক্সটাইল সোর্সিং লিমিটেড সদ্য টেক্সটাইল পাশ করা অনেক টেক্সটাইল...

এওপিটিবি’র মিলনমেলা

সমগ্র বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং সেক্টর নিয়ে কাজ করা সকল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজিস্টদের প্রাণের সংগঠন “অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ”।সংগঠনটির...

ভিয়েতনামের বিকল্প খুজঁছে বিশ্বের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান

সাধারনত যে সকল খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জুতা ও পোশাকের জন্য ভিয়েতনামের কারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল তারা ভিয়েতনামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত। যদিও...

Textile Industry Evolution ( টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির ক্রমবিকাশ)

এই বিষয়ে মোটামুটি সবাই জানি। তারপরেও আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়া। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির বিবর্তন /ক্রমবিকাশ ঘটলো কেনো ও...

পলিয়েস্টার(Polyester) পরিচিতি

পলিয়েস্টার হচ্ছে একটি সিনথেটিক ফাইবার। এর নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে ৮৫% এস্টারের মিশ্রনযুক্ত পলিমারের দীর্ঘ চেইন এবং ডাইহাইড্রিক অ্যালকোহল এবং...

গালিচার(কার্পেট) একাল-সেকাল | Past & Present of Carpet

Red carpet welcome বা লাল গালিচার সর্ম্বধনা কথাটি শুনলে মনের পর্দায় ভেসে উঠে রাজা - বাদশা, মন্ত্রি ও গন্যমান্য ব্যক্তি ও...