26 C
Dhaka
Sunday, October 2, 2022
Home News & Analysis Industry News পোশাক কারখানা বন্ধে বাতিল হতে পারে বিদেশি ক্রেতাদের কার্যাদেশ

পোশাক কারখানা বন্ধে বাতিল হতে পারে বিদেশি ক্রেতাদের কার্যাদেশ

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকারএতে পোশাক কারখানাসমূহ বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছেলকডউনে বানিজ্যিক কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের অনুপস্থিতির কারনে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না

ঈদুল আযহার পর গত ২৩ জুলাই  ভোর ৬ টা থেকে ৫ ই আগস্ট দিবাগত রাত ১২  টা পর্যন্ত কঠোর লকডাউমনর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।বিগত লকডাউনে পোশাক কারখানারসমূহ সচল থাকলেও চলমান লকডাউনে পোশাক কারখানাসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। তাই কারখানা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যের খালাস নিতে পারছেন না গার্মেন্টস মালিকরা।এতে তারা ধারণা করছেন রপ্তানি আদেশ বাতিল হতে পারে। গত রোববার (২৫শে জুলাই) বিকেলে পোশাক শিল্প মালিক দের ভার্রচুয়াল এক মিটিং এ এমন আশংকার কথা জানান তারা।

চলমান এই লকডাউনের  ভেতর রপ্তানিমুখী  পোশাক কারখানাগুলো চালুর অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক শিল্পমালিকরা।এতে তাদের পক্ষে পূর্ব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

উক্ত সভায় বিজিএমইএ- এর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, “মহামারি করোনা ভাইরাস বিস্তার  রোধে সরকার কর্তৃক ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের মধ্যে পোশাক কারখানাসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক কর্মকর্তাসহ শ্রমিকদের অনুপস্থিতির কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে রপ্তানি করার জন্য অর্ধপ্রস্তুতকৃত পোশাক ফিনিশিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।এবং ক্রেতার প্রতিনিধি কর্তৃক পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষা করতে না পারার কারণে নির্ধারিত  সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উক্ত রপ্তানি আদেশ বাতিল, স্থগিত, ডিসকাউন্টসহ এয়ার শিপমেন্ট-এর আশংকা দেখা দিয়েছে”।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, “আগামী ৭ আগষ্ট থেকে ১০ আগস্টের  মধ্যে জুলাই মাসের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিলম্ব হলে শ্রম অসন্তোষের আংশকা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার  হবে।”

সৈয়দ নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, এমডি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, তানভীর হাবিব, এ.এম. সফিউল করিম (খোকন), মোঃ হাসান (জ্যাকি), এম. আহসানুল হক, মিরাজ-ই-মোস্তফা (কায়সার), প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু), প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফেরদৌস, এ.এম. চৌধুরী সেলিম, প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দসহ পোশাক শিল্পের অনেক মালিক ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।

সেখানে আরও বক্তব্য দেন,  বিজিএমইএ- এর প্রাক্তন পরিচালক মোহাম্মদ মুসা, হাসানুজ্জামান চৌধুরী, আবদুল মান্নান রানা, অঞ্জন শেখর দাশ, খন্দকার বেলায়েত হোসেন, এনামুল আজিজ চৌধুরী সহ বিভিন্ন পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকগন।

জানা গেছে, ২০২০ সালের শুরুতে চীন থেকে সারা বিশ্বে করোনার মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর মার্চ মাসে সেটা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও আঘাত হানে। ওই সময় একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল; নতুন ক্রয়াদেশ বন্ধসহ নানা সমস্যার সস্মুখীন হয়েছিল বাংলাদেশ। এমনকি রপ্তানির জন্য প্রস্তুত পণ্যগুলোও জাহাজিকরণ স্থগিত করেছিল বিদেশি ক্রেতারা। এক বছর পর আবারো বাড়তে শুরু করেছে মহামারির বিস্তার ও মৃত্যুহার। এতে শঙ্কা আরো বাড়ছে।


রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ এই ৯ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি কোনোটাই অর্জন হয়নি। বরং ঘাটতির মাত্রা আরো বেড়ে যাচ্ছে।২০২০-২১ অর্থবছরের ৯ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ৮৯৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ১৩৪ কোটি ৭ লাখ ডলার বা ৪.৪৩ শতাংশ। এ ছাড়া গত অর্থবছরের একই সময় রপ্তানি আয় হয়েছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। সে ক্ষেত্রেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.১২ শতাংশ।


জানা গেছে, গত বছর করোনার প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তখন বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের কার্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়। এ ছাড়া অন্যান্য রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি তৈরি পণ্যও বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে তখন রপ্তানি আয় ভয়াবহভাবে কমেছে।


সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাকের অবদান প্রায় ৮৪ শতাংশ। রপ্তানি আয় তৈরি পোশাক শিল্প খাত নির্ভর বলে এ খাতে আয় সামান্য কমে গেলেই পুরো খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।উদ্যোক্তারা জানান, দেশের রপ্তানি খাতে আরো একটি ধাক্কা আসন্ন। এ নিয়ে শঙ্কিত তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা।


বিকেএমইএ সূত্র জানায়, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাক্কায় কিছু আদেশ স্থগিত হয়েছিল। কিন্তু পরে ক্রেতারা সেগুলো পুনরায় দেয়।কিন্তু বর্তমান এ অবস্থা অনুযায়ী আগামীতে রপ্তানি আদেশ আরো  আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে।


বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি ও বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করোনার প্রভাবে গত বছর রপ্তানি আয়ে ধস নেমেছিল। তা আমরা কাটিয়ে ওঠার দিকে যাচ্ছিলাম। এখন দেশসহ বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার কারণে রপ্তানি আয়ে আবারো শঙ্কা দেখা দেবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে বহুবিদ সমস্যা দেখা দিতে পারে। রপ্তানি আদেশ বাতিল হতে পারে। সেই চাপ উদ্যোক্তাদের সামলানো কঠিন হবে। এ ছাড়া আগামীতে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পকে লকডাউনের বাইরে রাখতে হবে। কারণ, এ শিল্পে করোনা সংক্রমণের হার খুব কম।

রিপোটার: মোঃ নাছিফ
শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ,বরিশাল
ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর,বুনন।

Most Popular

নিটার ও ইপিলিওন গ্রুপের মাঝে সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকার সাভারে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ নিটারের সাথে ইপিলিওন গ্রুপের একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর)...

টেক্সটাইল সেক্টরের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা: মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান

বাংলাদেশের একজন সফল টেক্সটাইল প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। তিনি ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে তৎকালীন কলেজ অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি যার বর্তমান নাম...

নিটারের নব নিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জোনায়েবুর রশীদ

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ তথা নিটারের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন ড. মোহাম্মদ জোনায়েবুর রশীদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল...

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে “টেকসই উন্নয়ন” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

৩ জুলাই বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি এর টিইএম (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) বিভাগ এর সহযোগিতায় টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে টেকসই উন্নয়ন...

এপারেল মার্চেন্ডাইজিং A To Z প্রসেস | Apparel Merchandising

প্রফেশন: মার্চেন্ডাইজিং ভার্সিটিতে ভর্তির পর কেউ টার্গেট জিজ্ঞেস করলে টেক্সটাইলের একজন স্টুডেন্ট হিসেবে শুধু একটাই বলতাম যে...

পোশাক শিল্পের নতুন সম্ভাবনা বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর

সম্প্রতি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বড় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল "বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর"। চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে এবং ফেনী জেলার সোনারগাজী...

করোনা মোকাবেলায় অসচ্ছলদের জন্য ইসাথির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ “মানবিক উপহার”

সারা বিশ্ব যখন করোনার মহামারিতে আক্রান্ত, স্থবির হয়ে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা, ভেঙ্গে গেছে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তখন বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।