27 C
Dhaka
Friday, June 25, 2021
Home News & Analysis বিশ্ব বাণিজ্যের সেকাল - একাল।

বিশ্ব বাণিজ্যের সেকাল – একাল।

বিশ্ব বাণিজ্য পুঁজি জাতীয় পণ্য, শিল্প কারখানার জন্য কাঁচামাল, জ্বালানি সামগ্রী ও নানা ধরনের ভোগ্যপণ্য আমদানির ওপর ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতার কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য খাতে ঘাটতি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিক থেকে বাংলা একটি রপ্তানিকারক এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছিল । রেশম, সুতিবস্ত্র এবং নানা ধরনের খাদ্যপণ্যের সস্তামূল্যের কারণে এশিয়া ও অন্যান্য মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বাংলায় আসা শুরু করে। সপ্তদশ শতকেই ব্রিটেন, হল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক ও আরও অনেক দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলায় কুঠি স্হাপন করে। সে সময় তারা মূলত সোনা ও রুপার বিনিময়ে বাংলার বিভিন্ন পণ্য কিনে নিয়ে বিদেশে রপ্তানি করত। ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় তার অফিস প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৬০৮ সালে সুরাটে তার প্রথম বাণিজ্য পোত স্থাপন করে।

রপ্তানিমুখী বৈদেশিক বাণিজ্য বাংলার অর্থনীতিতে স্থানীয় বাজার সৃষ্টি বা রপ্তানি পণ্যের বর্ধিত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদনের উন্নততর ভিত্তিগঠন কোন অর্থেই তেমন একটা প্রভাব ফেলে নি। অথচ এ সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য নানাবিধ সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। সে তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি, বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলার আমদানি চাহিদা। ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বাংলা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে থাকে এবং একই সঙ্গে বিদেশি পণ্য আমদানির ওপর অধিকতর নির্ভরশীল হতে থাকে। এই প্রক্রিয়া ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের শেষ অবধি অব্যাহত থাকে এবং এর সব কুফল নিয়েই পূর্ব পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। ১৯৪৭-এর পর পাকিস্তান সরকার যে বাণিজ্য নীতি পরিচালনা করে তার মূল প্রতিপাদ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য জাতীয় সকল প্রাথমিক পণ্য রপ্তানি করা। পাকিস্তান সরকারও পূর্ব পাকিস্তানে স্থানীয় শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার দিকে তেমন নজর দেয় নি।

বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য খাতের অংশ সর্বদাই খুব কম ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে, ১৯৬১-৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান মোট ৩৫ কোটি ডলার মূল্যের রপ্তানি করে এবং ঐ বছর তার আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৮.১ কোটি ডলার। এই হিসাবে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের বাণিজ্যের পরিমাণ ধরা হয় নি। মুক্তিযুদ্ধের বছরে ব্যাপক মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতির কারণে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক পরবর্তী বছরগুলিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি খাতে বাংলাদেশের ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ যেসব পণ্য রপ্তানি করে সেগুলির মধ্যে প্রধান হচ্ছে গার্মেন্টস সামগ্রী, হিমায়িত খাদ্য এবং চামড়া। আমদানি ব্যয়ের এক তৃতীয়াংশই যায় মূলধন জাতীয় পণ্য ক্রয়ে। অন্যান্য প্রধান আমদানি পণ্য হচ্ছে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, তুলা, পেট্রোলিয়াম, কাপড় এবং সিমেন্ট।

এবার আলোচনা করব বাণিজ্য কি, বাণিজ্যের ধারণা নেয়া করা যাক।

বাণিজ্য হলো পণ্য ও পরিসেবা বিনিময়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রতিনিধিত্ব করে।এটি মূলত বিশাল বিনিয়োগে দেশীয় বাণিজ্য থেকে পৃথক হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাণিজ্য পরিচালনা করার পদ্ধতি।অনেক কর্পোরেট জায়েন্ট এশীয় বাজারগুলি দখলের চেষ্টা করছে। যা এই জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য শিল্পকেন্দ্রীক হয়ে উঠেছে।অর্থনৈতিক উদ্বারকরণ বিগত দুই দশক ধরে অনেক উন্নয়নশীল দেশের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি বহুজাতিক সংস্থাগুলির দুর্বল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও বৈদেশিক মুদ্রা উৎপাদন করার চেষ্টা করে, যা সর্বদা অর্থনীতির পক্ষে ভাল। যদি কোন দেশ পেট্রোলিয়ামে সমৃদ্ধ থাকে, তবে প্রাকৃতিকভাবে যে দেশগুলি পেট্রোলিয়াম উৎপাদনে সমৃদ্ধ নয় তাদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করা হবে বিশ্ব বাণিজ্যর মাধ্যমে । এজন্য মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি সমৃদ্ধ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বতন্ত্র।
সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদের উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে উৎপাদনশীল সম্ভাবনার বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয় । যখন কোন দেশ কোননির্দিষ্ট পণ্যকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য শুরু করে, তখন এটি স্বল্পমূল্যের উৎপাদক হতে পারে।

প্রত্যেক জাতিকে অবশ্যই সেই পণ্যগুলির উৎপাদন ও রফতানিতে বিশেষীকরণ করার চেষ্টা করতে হবে। যেসব পণ্য প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং উৎপাদনে এ জাতীয় পণ্যগুলি আমদানি করতে হবে যার উৎসের অভাব রয়েছে। এটি মনে রাখা উচিত যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেমন রফতানি শুল্ক, কোটা, বিনিময় বিধিনিষেধ ইত্যাদিতে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করে, যা পণ্যের অবাধ চলাচলে বাধা দেয়। তবুও, কোনও দেশের পক্ষে দেশীয়ভাবে প্রতিটি ধরণের পণ্য উৎপাদন সম্ভব নয়। এই সমস্ত সংযত কারণগুলি সত্ত্বেও, যোগাযোগ এবং দ্রুত পরিবহণের ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তিগত দিকগুলির জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সমৃদ্ধ হচ্ছে। দূরত্ব যেখানে কোন বাঁধাই নয় এবং বিশ্ব একটি ছোট গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে।

ভারতের মতো দেশে রুপির পরিমাণ হয়, যা দেশের আইনী দরপত্র। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের মতো অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্যে, পেমেন্টগুলি যথাক্রমে ডলার, চিহ্ন, ইয়েন, ফ্রাঙ্ক এবং পাউন্ডে দরপত্র দিতে হয়। বিভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থা সম্পন্ন দুটি দেশের মধ্যে যে পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থ প্রদান কার্যকর হয় তাকে বৈদেশিক মুদ্রা বলা হয়।বিশ্ব বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাই হলো প্রধান লক্ষ্য।

বৈদেশিক মুদ্রার হার ও তুলনামূলক দাম নেট রফতানিকে প্রভাবিত করতে পারে। জাতীয় অর্থনীতিতে বিনিময় হারের উল্লেখযোগ্য প্রভাবের কারণে দেশগুলি আন্তর্জাতিক আর্থিক চুক্তিতে চুক্তি করে থাকে।

বাণিজ্য সাধারণত ২ ধরনের।
১.স্হানীয় বাণিজ্য।
২.আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।

স্হানীয় বাণিজ্য বলতে একটি দেশের অভ্যন্তরে পণ্য ও সেবার বিনিময়কে বুঝায়।
আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলতে দুই বা অধিক দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার বিনিময়কে বুঝায়।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একক।
দেশ থেকে দেশ।
অঞ্চল থেকে অঞ্চল।
একদেশের ব্যাক্তির সাথে অন্য দেশের ব্যাক্তি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অবশ্যই বৈধ বাণিজ্য হতে হবে। বাণিজ্য মূলত আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে হয়ে থাকে।আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পণ্য, সেবা অথবা মুদ্রার বিনিময় হতে পারে।

দুই বা অধিক দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ হয়, GAT,আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠিান যেমন সার্ক বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইত্যাদি।

বৈদেশিক বানিজ্যর সাথে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত।বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আরেকটি বিষয় সামনে চলে আসে সেটি হলো বিশ্বায়ণ।এই বিশ্বায়ণ কি মার্শাল ম্যাকলুহানের গ্লোবাল ভিলেজের মতোই না কি সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

বাণিজ্যকে বাধাহীনভাবে বিশ্বব্যাপী পরিচালনা করার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালাই হলো বিশ্বায়ন।আবার বিশ্বায়ন বলতে বোঝায় সারা বিশ্বে পণ্য ও পুজির অবাধ প্রবাহ।বিশ্বায়ণ হল সারা বিশ্বকে এক কেন্দ্র থেকে শাসন করার নতুন অথনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কৌশল। বিশ্বায়ণ হল দূর্বল রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ন্ত্রনের জন্য ধনী রাষ্ট্রগুলোর অথনৈতিক ধারণা। বিশ্বায়ণ হল উপনিবেশের নব্য রূপ।

বিশ্বায়ণের ধারণাটি অনেক পুরাতন। বিশ্বায়নের সময়কালকে বিবেচনা করে এটাকে চারটি স্তরে ভাগ করা যায়।

১ম স্তর : (বিশ্বায়নের প্রাথমিক যুগ:১২০০-১৮৫০)
এটাকে উপনিবেশিক যুগও বলা হয়। এ সময় ইউরোপের দেশগুলো উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকা আবিষ্কার করে ও সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করে। ইউরোপ থেকে আফ্রিকা ও এশিয়ার আসার পথ আবিষ্কার হয় এবং এখানেও তারা কৌশলে উপনিবেশ স্থাপন করে। এসময় থেকেই বানিজ্যের বিকাশ ঘটে ও অবাধ বানিজ্যের ধারণা সৃষ্টি হয়।এ স্তরে ভূমি দখল নিয়ে লড়াই হত । এ স্তর থেকেই বিশ্বায়ন শুরু হয়।

২য় স্তর: (বহুজাতিক কোম্পানীর যুগ:১৮৫০-১৯১৫)
এ যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। আর নতুন নতুন ব্যবসা আবিষ্কার হয়। এ যুগে এসে পুজিবাদের ধারণার উদ্ভাবন হয়। ভূমি দখলের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ ও অর্থ বৃদ্ধির ধারণা আসে। এ স্তরে এসে বিশ্বায়নের ভিত্তি তৈরি করে।

৩য় স্তর: (পলিসি মেকারদের বিশ্বায়নের যুগ: ১৯৪৫- ২০১৯)
এ স্তরে বিশ্বায়ন প্রতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ১ম ও ২য় স্তরে সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত যুদ্ধে লিপ্ত থাকলেও ৩য় স্তরে তারা একত্রিত হয়ে বিশ্বায়নের জন্য কাজ করে। এ স্তরে এসে তারা পৃথিবীকে ধনী-গরিব, পুজিবাদী-সমাজতন্ত্র, উন্নত-অনুন্নত, শিল্প নিভর-কৃষি নির্ভর দেশে বিভক্ত করে। এ স্তরে এসে তারা ভূমির নিয়ন্ত্রন ছেড়ে বানিজ্যকে নিয়ন্ত্রন করে। অর্থ দিয়ে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রন করে।

৪র্থ স্তর: (জ্ঞান বিজ্ঞানের বিশ্বায়নের যুগ:২০২০-)
পৃথিবীর বড় দেশগুলো এখন সহজেই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের দিকে যাবে না। কারণ সবার হাতেই অস্ত্র। এখন নতুনভাবে পৃথিবীর রাজা হবার যুগ। সেই যুগের প্রধান হাতিয়ার হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন জ্ঞান। চীন সেই দিক থেকে বেশ এগিয়েছে। এটা বিশ্বায়নের নব্য যুগ।

এবার আসি বিশ্বায়নে চীনের প্রভাব নিয়ে।চীন অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী দেশ।কথিত আছে পৃথিবীর কারখানা হলো এই চীন।বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের বিস্তৃত সবত্র।

তবে চীন বেশ কিছু দিন ধরেই অর্থনৈতিকভাবে চাপে আছে।কারণ এ বছরের শুরুতেই চীন ও যুক্তরাট্রের মধ্য একটা বাণিজ্য যুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো।চীনের প্রধান শক্তি হল অর্থনীতি। চীন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হচ্ছিল। হঠাৎ করে করোনা ভাইরাস আসলো। ধারণা করা হচ্ছে, যেই চীনে এটার উৎপত্তি, সেই চীনেই অনেক দেশের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ কম হবে। ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশের অর্থনীতি ভীষণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।

নভেল করোনা ভাইরাসে বিশ্ব অর্থনীতি ধাবিত হচ্ছে হুমকির মুখে। অন্তত বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাব দেখা যাবে এক থেকে দুবছর অথবা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে। মুলত ভাইরাসের প্রভাব কতদিন কাজ করে তার উপর নির্ভর করতে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ করোনা ভাইরাসে আক্তান্ত হওয়ায় বিশ্ব বানিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। যার ফলস্বরূপ বিশ্ব বানিজ্য আজ হুমকির মুখে।

ভাইরাসের প্রভাবে খাদ্যপণ্য ব্যতিত বিশ্বব্যাপী প্রতিটি সেক্টরে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে চরম ভাবে। এছাড়াও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উৎপাদন ব্যবস্থা প্রতিদিন হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে দিন দিন সংঙ্কটাপন্ন বিশ্ব অর্থনীতি।

যার ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলো প্রতিদিন ক্রেতা শুন্য হয়ে যাচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক ভাবে প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলো। একারণেই অর্থনৈতিক মন্দা ভাব দেখা দেবে নিম্ম আয়ের দেশগুলোতে। এক কথায় বলা যায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে পারে নিম্ন আয়ের দেশগুলো।

তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে যদি ভাইরাসের চরম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় তাতে যদি খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যহত হয় তাহলে নিম্ন আয়ের দেশ গুলোতে দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ। যার প্রস্তুতি স্বরুপ নিম্ন আয়ের দেশ গুলোর প্রতিকারে ব্যবস্থা এখনি নেয়া প্রয়োজন। যেহেতু উচ্চ আয়ের দেশ গুলোর অবস্থা ভাইরাসে নাজেহাল তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কমেছে ক্রয় ক্ষমতা ও উৎপাদন ক্ষমতা এর ফলে বিশ্ব বানিজ্য তাদের কমে যাওয়ার দেখা দিবে অর্থনৈতিক মন্দাভাব। যদিও তারা অর্থনৈতিক ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ তাদের খাদ্যশস্যে ঘাটতি দেখা দিলে তারা তা অর্থনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে পারবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যখন বিশ্ব অর্থনীতি হুমকির মুখে তখন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। চলতি বছরে এশিয়া মহাদেশে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশাবাদী সংস্থাটি।

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৭.৮ শতাংশ হতে পারে। তবে সরকার চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল।

এডিবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রিত গ্রাহক, বিনিয়োগের আস্থা, আমদানি, রপ্তানি ও আর্থিক সংস্থান পুনরুদ্ধার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সম্প্রসারণ নীতি, অনুকূল আবহাওয়ার কয়েকটি অনুমানের ওপরে ভর করেই ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন ২ দশমিক ৩ শতাংশ, ভারতে ৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করছে এডিবি। এছাড়া পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এডিবির তথ্য মতে, ২০২০ সালে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। যেখানে গত বছর গড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

যাইহোক মূলত বিশ্বে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়া,কৃষি উৎপাদন ব্যহত হওয়া ,আমদানি ও রফতানি চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি হুমকিতে পরতে যাচ্ছে। তবে এর উত্তরনে ভেদাভেদ ভুলে একযোগে বিশ্ব কাজ করলে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি কিছুটা পুশিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

Writer:
K M Olyullah Monir
SKTEC

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মিশেল খাদিতে কাঁথা এমব্রয়ডারি

Your browser does not support the audio element. মণীষীদের মতে, লোকশিল্পের মধ্যে অতীতের প্রতিধ্বনি,...

প্লাস্টিক বোতল থেকে ফ্যাব্রিক

প্লাস্টিক‌ বোতল থেকে ফ্যাব্রিক? এও কি সম্ভব। হ্যা। ঠিকই শুনছেন। প্লাস্টিক বোতল পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমেও সম্পূর্ণ সাসটেইনেবল বা টেকসই ফাইবার পাওয়া সম্ভব।...

টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আবারো ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আগামী ২৬ জুন ২০২১, শনিবার সকাল ১০:০০ টায় রাজধানীর তেজগাঁওস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেট...

কেয়ার লেবেলে আধুনিকতার ছোয়া

কেয়ার লেবেল হচ্ছে তৈরিকৃত গার্মেন্টসের একটি অংশ,যেখানে ভোক্তাদের উদ্দেশ্য গার্মেন্টস এর কেয়ার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দেয়া থাকে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে...

ডুয়েটে টেক্সটাইল অ্যালামনাই মিলনমেলা আগামী ২’রা এপ্রিল

অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস্, ডুয়েট কর্তৃক আয়োজিত টেক্সটাইল অ্যালামনাই মিলনমেলা 'ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়' ক্যাম্পাসে আগামী ২'রা এপ্রিল ২০২১ইং...

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রযুক্তির বিপ্লব এবং আরএমজির প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী চ্যালেঞ্জসমূহ । Technological Revolution & Innovation Challenge of Growth for BD RMG Sector.

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যাত্রা শুরু করে ষাটের দশকে। তবে সত্তরের দশকের শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে...

ঐতিহ্য আধুনিকতায় মসলিন

বাংলাদেশের সুপ্রাচীনকালের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের গৌরবময় স্মারক হলো মসলিন। মসলিন কাপড় বাঙালিরা খুব সুন্দরভাবে তৈরি করত। এটি প্রাচীন এশিয়ীয় এবং ব্যবলীয়নে ব্যাপক...