24 C
Dhaka
Wednesday, December 8, 2021

তাঁত । Loom

“তাঁত ” হচ্ছে এক ধরনের যন্ত্র যার মাধ্যমে তুলা বা তুলা হতে উৎপন্ন সুতা দিয়ে কাপড় বানানো যায়। তাঁত বিভিন্ন রকমের হতে পারে । খুব ছোট আকারের হাতে বহন যোগ্য তাঁত থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির স্থির তাঁত দেখা যায়। আধুনিক বস্ত্র কারখানা গুলোতে স্বয়ংক্রিয় তাঁত ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সাধারণত তাঁত নামক যন্ত্রটিতে সুতা কুণ্ডলী আকারে টানটান করে ঢুকিয়ে দেয়া থাকে । লম্বালম্বি সুতাগুলিকে টানা বা ওয়ার্প এবং আড়াআড়ি সুতাগুলিকে পোড়েন বা ওয়েফ্ট ইয়ার্ন বলা হয়। যখন তাঁত চালু করা হয় তখন নির্দিষ্ট সাজ অনুসারে সুতা টেনে নেয়া হয় এবং সেলাই করা হয়। তাঁতের আকার এবং এর ভেতরের কলা-কৌশল বিভিন্ন রকমের হতে পারে। বাংলা তাঁত যন্ত্রে ঝোলানো হাতল টেনে সুতো জড়ানো মাকু বা স্পিন্ডল আড়াআড়ি ছোটানো হয়। মাকু ছাড়াও তাঁতযন্ত্রের অন্যান্য প্রধান অঙ্গগুলি হল – শানা, দক্তি ও নরাজ । শানার কাজ হল টানা সুতার খেইগুলিকে পরস্পর পাশাপাশি নিজ নিজ স্থানে রেখে টানাকে নির্দিষ্ট প্রস্থ বরাবর ছড়িয়ে রাখা। শানার সাহায্যেই কাপড় বোনার সময় প্রত্যেকটি পোড়েনকে ঘা দিয়ে পরপর বসানো হয়। শানাকে শক্ত করে রাখার কাঠামো হল দক্তি। একখানি ভারী ও সোজা চওড়া কাঠে নালী কেটে শানা বসানো হয় আর তার পাশ দিয়ে কাঠের উপর দিয়ে মাকু যাতায়াত করে। শানাটিকে ঠিক জায়গায় রাখার জন্য তার উপরে চাপা দেওয়ার জন্য যে নালা-কাটা কাঠ বসানো হয় তার নাম মুঠ-কাঠ। শানা ধরে রাখার এই দুখানি কাঠ একটি কাঠামোতে আটকে ঝুলিয়ে রাখা হয় । এই সমগ্র ব্যবস্থাযুক্ত যন্ত্রটির নাম দক্তি ।শানায় গাঁথা আবশ্যকমত প্রস্থ অনুযায়ী টানাটিকে একটি গোলাকার কাঠের উপর জড়িয়ে রাখা হয়, একে বলে টানার নরাজ । আর তাঁতি যেখানে বসে তাঁত বোনে , সেখানে তার কোলেও একটী নরাজ থাকে- তার নাম কোল-নরাজ । টানার নরাজের কাজ হল টানার সুতাকে টেনে ধরে রাখা আর কোল-নরাজের কাজ হল কাপড় বোনার পর কাপড়কে গুটিয়ে রাখা ।

“তাঁত বোনা” শব্দটি এসেছে “তন্তু বয়ন” থেকে। তাঁত বোনা যার পেশা সে হল তন্তুবায় বা তাঁতী। সংস্কৃত ‘তন্তু’ থেকে বাংলা ‘তাঁত’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত তাঁতযন্ত্রের নানা রকম প্রকারভেদ আছে। যেমন পিট লুম বা গর্ত তাঁত, ফ্রেম লুম, চিত্তরঞ্জন বা জাপানি তাঁত, কোমর তাঁত ইত্যাদি। প্রাচীনতার দিক দিয়ে পিট লুম বা গর্ত তাঁতকে বাংলা অঞ্চলের আদি তাঁত বলা যেতে পারে। বাংলার বিখ্যাত মসলিন ও অন্যান্য বস্ত্র এই পিটলুম বা গর্ত তাঁতেই তৈরি হতো। সাধারণ বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি সহজলভ্য জিনিস দিয়েই এই তাঁত তৈরি হতো। ঢাকার কাছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে রূপগঞ্জ-সোনারগাঁও অঞ্চলে এখনো সাধারণ গর্ত তাঁতেই নকশাদার জামদানি শাড়ি বয়ন করা হয়।বাংলাদেশে ফ্রেম লুম, চিত্তরঞ্জন বা জাপানি তাঁত এবং সেই সঙ্গে ফ্লাই সাটল, ডবি বা জ্যার্কাড মেশিন ইত্যাদির প্রচলন ঘটেছে অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালে।মোটামুটি বিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বঙ্গীয় শিল্প ও কৃষি বিভাগের নানা তৎপরতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁতযন্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটেছে। শাড়ি তৈরির কৃৎকৌশলেও এই আধুনিকতার প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে নরসিংদী, টাঙ্গাইল কিংবা সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব শাড়ি ও অন্যান্য বস্ত্র বয়ন করা হয়, তা এই সব ভিনদেশি কৃৎকৌশল রপ্ত ও আত্মস্থ করে বাংলাদেশের তাঁতিরা তাঁদের কাজের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।পিট লুম বা গর্ত তাঁত আমাদের দেশে প্রচলিত সবচেয়ে পুরানো তাঁতযন্ত্র, যা দিয়ে এখনো ঐতিহ্যবাহী জামদানি তৈরি করা হয়। এই তাঁতের সঙ্গে পরে যুক্ত হয়েছে ‘ফ্লাই সাটল’, অর্থাৎ যেখানে মাকুকে আর হাত দিয়ে ছুড়তে হয় না, বরং মাকুটি একটি টানেলের মধ্যে থাকে এবং একটি দড়ির হাতলের সাহায্যে তাঁতি কম সময়ে এবং দ্রুতগতিতে টানা সুতোর ভেতর দিয়ে মাকুটি চালিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে কাপড় বোনা দ্রুততর হয়। এটা ‘ঠকঠকি তাঁত’ নামেও পরিচিত। এই ‘ফ্লাই সাটল’ অবশ্য ফ্রেম লুমের সঙ্গেও যুক্ত করা যায়। টাঙ্গাইল-সিরাজগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শাড়ি বুনতে এই ঠকঠকি তাঁত বা ফ্লাইসাটল লুম ব্যবহার করা হয়। তবে বর্তমানে শাড়ি বয়নে প্রচুর পরিমাণে চিত্তরঞ্জন বা জাপানি তাঁত ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর উৎপাদনক্ষমতাও অপেক্ষাকৃত বেশি।

এইসব তাঁতযন্ত্রের সঙ্গে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে আরও যুক্ত হয়েছে নকশার জন্য ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিন। এই দুটি মেশিনের সাহায্যে দ্রুত ও সহজে বিভিন্ন ধরনের জটিল ডিজাইন বয়ন করা সম্ভব হয়। সাধারণ নকশার জন্য ডবি এবং অপেক্ষাকৃত জটিল নকশার জন্য জ্যাকার্ড মেশিন ব্যবহৃত হয়।তাঁতের শাড়ি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অবধারিতভাবে ঢাকাই শাড়ির কথা এসে পড়ে। ঢাকাই শাড়ির উদাহরণ হিসেবে আমরা জামদানির উল্লেখ করতে পারি, যা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এখনো টিকে আছে। যদিও জামদানি ছাড়াও ঢাকায় আরও বহু ধরনের শাড়ি তৈরি হতো। তবে,বুননকৌশলের দক্ষতা ও মিহি বস্ত্রের জন্য ঢাকাই শাড়ির খ্যাতি সর্বজনবিদিত।

আঠারো শতকের শেষার্ধে পশ্চিমবাংলার মুর্শিদাবাদে জিয়াগঞ্জ এলাকার একাংশে বিশেষ ধরনের নকশাযুক্ত রেশমি কাপড়ের উদ্ভব ঘটেছিল। এই বিশেষ রীতির বস্ত্র ‘বালুচরি’ নামে খ্যাতি অর্জন করে। বালুচরির মূল বৈশিষ্ট্য এর নকশা। সে সময় তাঁতে ইচ্ছেমতো নকশা করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু বালুচরির বয়নশিল্পীরা দেশীয় তাঁত ব্যবহার করেই এমন একটি পদ্ধতি বা কৌশল আবিষ্কার করেছিলেন যে অনেক জটিল ডিজাইনও তাঁতে বোনা সম্ভব হয়েছিল। উনিশ শতকের মধ্যেই, বড়জোর বিশ শতকের প্রথমার্ধে প্রকৃত বালুচরি শাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এখনো বালুচরি শাড়ি তৈরি হয় জ্যাকার্ড মেশিনের মাধ্যমে। উন্নত বয়নকৌশলের পাশাপাশি, নকশার নানামুখী আত্তীকরণ ও সংযোজন টাঙ্গাইলের শাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য।জামদানি ও বালুচরি ছাড়া নকশার নিরিখে টাঙ্গাইলের শাড়ি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির প্রাথমিক খ্যাতি এর বুননকৌশল ও কাপড়ের সূক্ষ্মতার জন্য এবং এজন্য বসাক তাঁতিরা বিশেষ কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন। টাঙ্গাইলের বসাক তাঁতিরা আসলে দেশান্তরি তাঁতি, যাঁদের আদিবাস ঢাকা ও ধামরাই। সম্ভবত উনিশ শতকে ঢাকাই মসলিনের দুর্দিন শুরু হলে তাঁরা টাঙ্গাইলে দেশান্তরি হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৪৭–এর দেশভাগের অভিঘাতে এই টাঙ্গাইলের তাঁতিদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ পশ্চিমবাংলার ফুলিয়া, সমুদ্রগড়, ধাত্রীগ্রাম ইত্যাদি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন উপনিবেশ গড়ে তোলে। এভাবে টাঙ্গাইল শাড়ির নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে পশ্চিমবাংলায়। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাঁত শাড়ির নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

তাঁতের শাড়ির সাধারণত শক্ত, চওড়া পাড় ও আঁচল থাকে, জমিন তুলনামূলক স্বচ্ছ হয় এবং জমিনে নানা নকশা কাটা হয়। বিভিন্ন ফুলের মোটিফ, জ্যামিতিক মোটিফ, জামদানি মোটিফ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় নকশা। ধনেখালি, ভিটি, জামদানি, ঢাকাই তাঁতসহ আরো অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে তাঁতের কাপড়ের। যতদিন যাচ্ছে ততই আধুনিকতা যুক্ত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ির সঙ্গে। তাই মডার্ন আর্টও কখনো কখনো যোগ হচ্ছে এই শাড়ির ডিজাইনে। এ সময়ে তাঁতের শিল্পের উন্নয়নে যারা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন, তারা হচ্ছেন আমাদের দেশের ফ্যাশন হাউসগুলো ও এগুলোর ফ্যাশন ডিজাইনাররা।লোকমুখে শোনা যায়, তাঁতের শাড়ির জন্ম হয়েছে টাঙ্গাইল থেকে। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় দেশভাগের আগে মোগলদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ অঞ্চলে তাঁত শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এই অঞ্চলের বহু তাঁতি হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে চলে যায়। তবে টাঙ্গাইলে কবে থেকে তাঁতের শাড়ি তৈরি শুরু তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায়নি। জনশ্রুতিতে আছে, বসাক সম্প্রদায়ের তাঁতিরাই টাঙ্গাইলের আদি তাঁতি হিসেবে পরিচিত। ভারতবর্ষে এই শাড়ির বড় বাজার ছিল কলকাতা। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বাজার থেকে শাড়ি কিনে বসাকরা কলকাতা নিয়ে যেত। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে শাড়ি কিনে নিত। তখন থেকেই ভারতবর্ষে জনপ্রিয়তা পায় এ শাড়ি।তাঁতের শাড়ি মূলত ঘরে তৈরি তাঁতের মেশিনে তৈরি হয়। সানায় সুতির সুতা চড়িয়ে তাঁতিরা হাতে তৈরি করে থাকেন। এ জন্য সাধারণত দুটি যন্ত্র সানা ও মাকু ব্যবহার করা হয়। তবে আজকাল পাওয়ারলুমের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের বোনা সুতির শাড়ির দামও যেমন থাকে নাগালের মধ্যে,একইভাবে নারীর ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে এবং বাঙালিয়ানার আটপৌঢ়ে আবেশও যেন ফুটে ওঠে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি পরিধানের মধ্য দিয়ে।

টাঈাইলের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে তৈরি হয় জামদানি, বালুচুরি, সফট সিল্ক, হাফসিল্ক, হাজারবুটি, থান, বেনারসি, সুতি পাড়, কটকি, স্বর্ণচুর, আনারকলি, দেবদাস, কুমকুম, প্রভৃতি ও সাধারণ নামের শাড়ি। শাড়ির বিভিন্ন নাম ও মানের কারণে বিভিন্ন রকম দাম হয়ে থাকে।নারায়ণগঞ্জে প্রস্তুতকৃত ৬০, ৬২, ৭৪, ৮২, ৮৪ কাউন্টের সুতাও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সময়ের পরিক্রমায় টাঙ্গাইলের তাঁতে তৈরি শাড়ির দৈর্ঘ্যওে এসেছে পরিবর্তন। এছাড়া পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চল তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। এগুলো ‘পাবনা শাড়ি’ নামে পরিচিত।পাবনা শাড়ি তৈরি করে মূলত মুসলমান তাঁতিরা। এই শাড়ি অপেক্ষাকৃত কম দামি এবং নকশার কাজও টাঙ্গাইল শাড়ির তুলনায় কম।এই তাঁতের শাড়ির নমনীয়তাকে শত বছর ধরে গায়ে মেখে নিচ্ছে এ দেশের নারীরা। তবে শাড়ি তৈরি হয় কিন্তু অনেকগুলো ধাপ পার করে। শাড়ি তৈরির জন্য শুরুতে সুতা সংগ্রহ করে তাতে মসৃণ করে রং করে নিতে হয়। তারপর ঠিক করে নিতে হয় সেই নকশাটি, যেটিকে শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা হবে। সেটিকে গ্রাফ কাগজে এঁকে তা থেকে ট্রেসিং বের করে সে নকশা অনুযায়ী সাজাতে হয় সুতা। তার পর সুতাকে মাকুতে ভরে নিয়ে শুরু হয় শাড়ি বোনার কাজ। প্রতিটা কাজই করতে হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে।চাহিদার বিপুল সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে শাড়ি তৈরির পদ্ধতিতে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন, আধুনিকায়ন ঘটেছে তাঁতিদের পরম সঙ্গী পুরনো মাকুগুলোরও। সুতা তৈরি করা, রং করা বা শাড়ি বুননের কাজগুলো আজকাল করা হয় নানা দলে ভাগ হয়ে। প্রবীণ তাঁতিদের কাছে জানা যায়, একসময় হাতেই কাঁচা রং দেয়া হতো সুতায়। এখন এ কাজেও প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়া হচ্ছে । এ ছাড়া মাকুতে যুক্ত হয়েছে নতুন ছোটখাটো যন্ত্রাংশ, যার ফলে কাজ করাটা আগের চেয়ে সহজ মনে হয় এ সময়ের তাঁতিদের।নকশা অনুযায়ী একেক শাড়ি বুনতে একেক ধরনের সময় লাগে।কোনো কোনো শাড়িতে একদিন, কোনোটিতে দুদিন, আবার কোনো কোনো শাড়ির বাহারি নকশায় একজন তাঁতির এক মাসের শ্রমও ঢেলে দিতে হয়। তবে তাঁতির শাড়িতে এই বৈচিত্র্যময় নকশার সূত্রপাত ঘটেছিল বিশ শতকের প্রথমার্ধে, যখন ডবি ও জ্যাকার্ড মেশিনের প্রচলন ঘটেছে।

সর্বশেষ তাঁতশুমারি অনুযায়ী এখানে মোট ১৮ হাজার ৫৭৩টি তাঁত রয়েছে। যার মধ্যে চালু আছে ১৪ হাজার ৭৯৫টি, আর বন্ধ ৩ হাজার ৭৭৮টি।অবশ্য বন্ধ তাঁতগুলো ঈদ, পূজা, ধান ঘরে তোলার মতো মৌসুমে চালু হয়। তবে বর্তমানে তাঁত সংখ্যা এর দ্বিগুণ হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার। তবে সর্বশেষ তাঁতশুমারির পর ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে নতুন তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছে। পাওয়ার লুমে বেড়েছে উৎপাদন। সেই সঙ্গে তাঁতির সংখ্যাও বেড়েছে।

তাঁতের শাড়ি তৈরির সুতার একককে বলা হয় কাউন্ট। যে সুতার কাউন্ট যত বেশি, সেটি তত বেশি সূক্ষ্ম। আদিকাল থেকেই তাঁতের শাড়ি তৈরিতে ব্যবহার হয় মূলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ বিভিন্ন ধরনের ফুল, লতাপাতা, পাখি, প্রজাপতি, ময়ূর ইত্যাদি। এই ধারা আজো অব্যাহত। উন্নত বয়নকৌশলের পাশাপাশি নকশার নানামুখী আত্তীকরণ ও সংযোজনই দেশীয় তাঁতের শাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। শহরের মানুষের রুচি ও নান্দনিকবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাঁতের শাড়ি তৈরি করা হয়ে থাকে অনেক জায়গায়। উজ্জ্বল রংয়ের কম্বিনেশন, বোল্ড প্যাটার্ন, ডিজাইনে বৈচিত্র্য সঙ্গে ভ্যালু এডিশন হচ্ছে টাই-ডাই, মোম বাটিক, স্ক্রিন প্রিন্ট বা ব্লুক বাটিক ও ভেজিটেবল ডাই দিয়ে।

মূলত,বাঙালি নারীর সৌন্দর্য চেতনা বরাবরই একটু আলাদা এবং অবশ্যই শিল্পময়। তাদের সাধারণ সাজগোজ, পোশাক-আশাকে যেমন থাকে চলমান সময়ের নিপুণ প্রকাশ, তেমনি বাঙালিত্বকে ধারণ করে সব সময় নিজস্ব সংস্কৃতির বৃত্তের মধ্যে থাকতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর এখানেই বাঙালির নারী হয়ে ওঠেন অনন্য।

তাঁতের পোশাক আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এটি এমন প্রাচীন ও প্রাক-ঐতিহাসিক শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা প্রাচীনকাল থেকেই সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে আসছে। তবে, বাংলাদেশে তাঁতের সংখ্যা অতীতের তুলনায় অনেক কমে গেছে এবং ক্রমেই তাঁতিরা আধুনিক পাওয়ার-লুম মেশিনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।

writer :
Abir Mohammad Sadi
BUTEX
Sr.Campus Ambassador, BUNON

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

” জাতীয় বস্ত্র দিবসে টেক্সটাইল বিষয়ক কুইজের আয়োজন করেছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব”

৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২১ উপলক্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগন্জ,চট্টগ্রাম (সিটেক) এর ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব "সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" কর্তৃক সকল...

লিখিত অনুমোদন পেয়েছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের নতুন কমিটি

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগন্জ, চট্টগ্রাম এর ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব " সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" এর ২০২১-২২ সেশানের গঠিত নতুন কমিটিকে লিখিত অনুমোদন...

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সপ্তাহব্যাপী অল ওভার প্রিন্টিং ওয়েবিনার সম্পন্ন : মূল্যায়ন পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর

অল ওভার প্রিন্টিং (All Over Printing) এবং ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট (Design Development) এর ওপর চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজে (সিটেক) AOPTB (All Over...

অধ্যক্ষের সাথে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সিটেক) এর ক্যারিয়ার বিষয়ক সংগঠন সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের ২০২১-২০২২ সেশনের নবগঠিত কমিটির সাথে অত্র কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ...

পাটের নতুন সম্ভাবনা | New Possibilities of Jute.

বাংলাদেশের পাট কোয়ালিটির দিক দিয়ে বিশ্বে তৃতীয় অবস্হানে আছে। ভালো পাট উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল পরিবেশ আছে। আমরা চাইলে আমরা পাটখাতকে...

সরকারী টেক্সটাইল কলেজগুলোর শেষ বর্ষের ফলাফল প্রকাশ

করোনা আর লকাডাউনে যেনো থমকে আছে সবকিছুই কিন্তু এই থমকে থাকার মধ্যেও সীমিত আকারে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাপ্ত করছে সরকার।তাইতো চলতি এপ্রিল...

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রযুক্তির বিপ্লব এবং আরএমজির প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী চ্যালেঞ্জসমূহ । Technological Revolution & Innovation Challenge of Growth for BD RMG Sector.

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প যাত্রা শুরু করে ষাটের দশকে। তবে সত্তরের দশকের শেষের দিকে রপ্তানিমুখী খাত হিসেবে এই শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে...