32 C
Dhaka
Sunday, October 25, 2020
Home Technology ওয়েট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ দূষণ এবং সমাধান

ওয়েট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ দূষণ এবং সমাধান

বর্তমান সময়ে ব্যবসায় কেবল Profit এর দিকে ভাবলে চলবে না, ভাবতে হবে PEOPLE, PLANET, PROFIT সবগুলো নিয়ে। কিন্তু এদিকে আমাদের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস সেক্টর অনেক পিছিয়ে আছে। একটি গবেষণার রিপোর্ট অনু্যায়ী টেক্সটাইল সেক্টর ২য় সর্বোচ্চ পরিবেশ দূষণকারী সেক্টর ও ওয়েট প্রসেস তার মধ্যে অন্যতম। ওয়েট প্রসেসিং ইন্ডাস্টি একধারে মাটি, পানি, বাতাস ইত্যাদি দূষণের কারণ। এখন আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশ এ সেক্টর ছেড়ে দিলে কর্মহীন হবে কোটি কোটি মানুষ। যেটা আমাদের জন্য সম্ভব নয়। আবার এভাবে  লাগাতার পরিবেশ দূষণ এর কারণে যে দুর্যোগ (প্রাকৃতিক বিপর্যয়) আসছে সেটাও তো আমাদের কাম্য নয়।

তবে উপায় কি? আমাদের কি করনীয়। কি পদ্ধতি অবলম্বন করলে আমরা উভয় দিকই ব্যালেন্স রাখতে পারব। প্রিয় পাঠক, আর সমস্যার কথা নয় আমরা কথা বলব সমাধান দিয়ে।

আলোচনা করব নতুন নতুন সাইন্টিফিক টুলস এন্ড টেকনিকস নিয়ে। যার ধারাবাহিকতায় আজকে আলোচনা করব ওয়েট প্রসেস ইন্ডাস্টির পরিবেশ দূষণ রোধ কল্পে একটি সাইন্টিফিক টেকনিকস নিয়ে যাতে আমাদের ইন্ডাস্টি গুলো টেকসই হতে পারে পরিবেশের ক্ষতি না করে। ওয়েট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি যদি ৩ টি বিষয়ের (Energy Saving, Eco-Friendly, Cost Effective)উপর লক্ষ্য করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে তবে সেটা সাসটেনেবল প্রডাকশন হবে। তবে চলুন পয়েন্টগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।

১। এনার্জি সেভিং(Energy Saving):

এই আলোচনায় আমরা এনার্জি বলতে– Electricity, Heat, Gas, Water, H.P ইত্যাদিকে বুঝাব এবং সেভিং বলতে পূর্বে যে পরিমাণ এই শক্তি গুলো ব্যবহার হত তার হতে কম ব্যবহার কে বুঝাব।

মনে করুন, ”তানভির ডাইং মিলে” প্রতিদিন রিনজিং সেকশনে ২০,০০০ লিটার পানি একটি নির্দিষ্ট পরিমান কাপড় ওয়াশ করতে ব্যয় হয়। এখন যদি নতুন প্রযুক্তি  ব্যবহার বা প্রসেস অপটিমাইজেশন করে একই পরিমান কাপড় ওয়াশ করা হল ১৮,০০০ লিটার পানি ব্যয় করে। তবে এই যে ২,০০০ লিটার পানির সেভিং হলো এটাই এনার্জি সেভিং।

অনেক ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা যায় লোকাল বেঞ্চ মার্কের চেয়ে অনেক বেশী গ্যাস ব্যবহার করছে ও দক্ষতা অনেক কম। এদিকে নজর দিয়ে গ্লোবাল বেঞ্চ মার্ক না হলেও অন্তত লোকাল বেঞ্চ মার্ক অর্জন করতে সচেষ্ট থাকা দরকার ।এক্ষেত্রে মালিক ও টপ লেভেল ম্যানেজমেন্টকে মূল ভূমিকা নিতে হবে । অনুরূপ উদাহরণ হিট, ইলেক্ট্রিসিটি, গ্যাস, এইচ পি ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য।

আমাদের এই অল্প পরিমাণ এনার্জি সেভিংস ই দিন, মাস, বছর শেষে বৃহৎ পরিমাণ সেভিংস হবে। কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হবে তবে বড় বিষয় হল এরকম এনার্জি সেভ যদি হাজার হাজার ইন্ডাস্ট্রি করে তবে পরিবেশের উপর নীতিবাচক প্রভাব কমবে। এটাই হবে আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব পালন।

২। ইকো ফ্রেন্ডলি (Eco-friendly):

Eco-friendly এর শাব্দিক অর্থ- পরিবেশের অনুকূল। যার মানে হল-আমরা ইন্ডাস্ট্রিতে যে প্রসেসগুলো করব সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না। আমরা কাপড় স্কাওয়ারিং, ব্লিচিং, ডাইং, প্রিন্টিং যাই করি না কেন সেই কেমিক্যালগুলো কিন্তু প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে। তবে প্রিয় পাঠক, আপনারাই বলেন -ইন্ডাস্ট্রির প্রসেসগুলো কি ইকো ফ্রেন্ডলি হলো? নিশ্চই না। তবে দেখে আসি ইকো ফ্রেন্ডলি করার কিছু উপায়ঃ

  • Dye Chemistry Enhance করার মাধ্যমে আমরা প্রসেস কে আরো ইকো ফ্রেন্ডলি করতে পারি। যেমনঃ ডিরেক্ট ডাই এবং রিয়েকটিভ ডাইয়ের বেসিক কেমিক্যাল স্ট্রাকচার কিন্ত একই রকম কেবল রিয়েকটিভ ডাইয়ে অতিরিক্ত রিয়েকটিভ ফাংশনাল গ্রুপ যুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে অসাধারণ ওয়াশিং ফাস্টনেস ও ডাই বাথে অত্যাধিক ডাই মলিকুল থেকে যাওয়ার সমস্যাটি দূর হয়েছে।
  • Enzyme এর ব্যবহার প্রসেস কে ইকো ফ্রেন্ডলি করতে অবদান রাখছে। যেমন-স্কাওয়ারিং এর প্রধান কেমিক্যাল  কস্টিক সোডা (NaOH) যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু এর বিকল্প এনজাইম ব্যবহার করলে কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে না। এনজাইমের কিছু সমস্যা যেমনঃ উচ্চ মূল্য, প্রসেস প্যারামিটার মেইন্টেইন হার্ড, নির্দিষ্ট পরিবেশে সংরক্ষন ইত্যাদি উন্নত করে অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে ইকো ফ্রেন্ডলি করার উদ্দেশ্য অনেকাংশে অর্জন সম্ভব।
  • বিভিন্ন ন্যচারাল উৎস যেমনঃ মেহেদী পাতা, মেহগনির ছাল, পেয়ারা পাতা, ঘাস ইত্যাদি ডাইং করণকে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। দেশের বিভিন্ন ভার্সিটি ও কলেজে কিন্ত এ নিয়ে ছাত্ররা থিসিসে কাজ করে। এগুলোকে মূল্যায়ন করে আরও অধিকতর গবেষণার ফান্ডিং দিয়ে এগিয়ে নেয়া কিন্তু এখন সময়ের দাবী। এদিকে আমাদের পাশের দেশ ভারত ভালো করছে, তাদের ন্যচারাল ডাইং এর ইন্ডাস্ট্রি আছে এবং ভার্সিটির সাথে ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক ভাল।
  • Organic Chemical ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা ওয়েট প্রসেসকে ইকো ফ্রেন্ডলির করার দিকে নিতে পারি। 

৩। কস্ট ইফেকটিভ (Cost Effective):

যে উৎপাদন রিলেয়েড রিসোর্সগুলো রয়েছে তার অপটিমাম ব্যবহার করতে পারলে উক্ত প্রসেসটি Cost Effective হয়েছে বলে বলা যায়। কিছু প্যরামিটার নিয়ে কিন্তু আমরা কাজ করতে পারি যেমনঃ প্রচলিত ডাইং এ আমরা সল্ট ব্যবহার করি, এটা সল্ট ছাড়া করা যায় কিনা। আবার M:L, তাপমাত্রা ,কেমিক্যাল ইত্যাদি কমিয়ে/বাড়িয়ে আমরা অপটিমাম লেভেলটি খুজতে পারি।

কেবল আপনার কেমিক্যাল কোম্পানি কি বলল তার উপর নির্ভর করে বসে থাকলে এই কভিড-১৯ পরবর্তী কঠিন সময়ে ইন্ডাস্ট্রি সাস্টেইন করা কিন্তু কঠিন হয়ে যাবে।

কয়েকটি মডার্ন ইকো ফ্রেন্ডলি ডাইংঃ

১। ফোম ডাইং(Foam Dyeing):
আপনাকে পানি ছাড়া ডাইং করার কথা বললে কি বিশ্বাস করবেন? প্রযুক্তিটা আপনার পূর্ব হতে জানা না থাকলে অবিশ্বাস করারই কথা। এখানে মুলত ডাই মলিকুলগুলোকে পরিবহনের জন্য ফোম/বাবল ব্যবহার হয়। এই প্রযুক্তির ফলে পানির উপর চাপ অনেকটা কমানো গেছে।

২। সুপার ক্রিটিকাল ফ্লইড (Super Critical Fluid):
এই টেকনোলজিতে র’ম্যটেরিয়াল হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হয়। মূল বিষয়টি হলো কার্বন ডাই অক্সাইডকে প্রক্রিয়া করে এমন স্টেজে নেয়া হয় যেখানে-লিকুইড এর মত ডেনসিটি ও গ্যাসের মত ডিফিউজিবিলিটি হয়। এভাবে ডাইং করা হলে পানির উপর নির্ভরশীলতা কমে।

আমি একটা কথা বিশ্বাস করি- “জলে কিংবা স্থলে যা দুর্যোগ হচ্ছে তা আমাদের দুই হাতের কামাই”। চলুন একটি উদাহরণের মাধ্যমে কথাটি বুঝার চেষ্টা করি। এডিস মশার কারনে আমাদের ডেঙ্গু জ্বর হয়। যা আমাদের জন্য  একটি দুর্যোগ। আর আপনারা লক্ষ্য করবেন, এই মশা ফুলের টব, ডাবের খোসা, ভাঙ্গা পাত্র ইত্যাদিতে যে পানি জমে তাতে ডিম পাড়ে। যার ফলাফল হিসেবে আমরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হই। কিন্তু আমরা যদি সচেতন হয়ে যত্রতত্র এগুলো ফেলে না দিয়ে সবার কল্যাণের কথা ভেবে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা করতাম তবে কিন্তু আমাদের ডেঙ্গুর দুর্যোগে পরতে হত না। তাহলে বুঝা গেল, ডেঙ্গু জ্বরের দুর্যোগ আমাদের দুই হাতের কামাই। এরকম আরো অনেক উদাহরণ আপনারা চিন্তা করলে খুজে পাবেন।

মোটাদাগের কথা হল আমরা আমাদের সাময়িক লাভের জন্য পরিবেশের উপর যে চাপ ফেলছি তা কিন্তু জগত বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন এর গতির ৩য় সূত্র অনুযায়ী আমাদের উপরই দুর্যোগ হিসেবে ফেরত আসছে। তাই এখন আমাদের পৃথিবী ও আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে দরকার ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সাস্টেইনেবল প্রডাকশন এর দিকে মনোযোগ দেয়া ।

Writer-
Tanvir Hossain
DUET
Sr. Research Assistant, Bunon


1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিভিং অর্গানিজম থেকে টেকসই টেক্সটাইলের উদ্ভাবন: পরিবেশ বান্ধব টেক্সটাইলের দিকে অগ্রযাত্রা

টেক্সটাইল শিল্প হল ভোক্তা পণ্য উৎপাদনের বিশ্বের প্রাচীনতম শাখা। এটি একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বৈষম্যময় সেক্টর যেখানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক ফাইবার (যেমন:...

করোনা প্রতিরোধে গাঁজার মাস্ক!

পরিবেশ দূষণের জন্য বিশ্বজোড়া আন্দোলন চলছে। তবুও পরিবেশ রক্ষায় মানুষ এখনও অনেকটাই সচেতন নয়। এতদিন মানুষই পরিবেশের ক্ষতি করতেন। এবার সেখানেও...

ডুয়েটে মাইক্রোসফট এক্সেল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,গাজীপুরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের "ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার এন্ড রিসার্চ ক্লাব ( DTCRC) "শিক্ষার্থীদের সফটস্কিল ডেভেলপমেন্টের লক্ষে মাইক্রোসফট...

সম্ভাবনার টেক্সটাইল ক্লাব – পি.সি.আই.ইউ | Textile Club of PCIU

ইতিহাসঃটেক্সটাইল ক্লাব- পি.সি.আই.ইউ চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য একটা আবেগ, আস্থা ও ভালবাসার নাম। ক্লাবের শুরুটা ছিল...

‘রিসোনেন্স’ আমেরিকার ১০ জন ফ্যাশন ডিজাইনারকে ৫০০০০ ডলার সহয়তা প্রদান করবে | Resonance to Donate US $50,000 to 10 Black Fashion Designers.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য এবং সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরানো। দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই বলা যায় কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য চলে...

করোনা পরবর্তী ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী সম্ভাবনা, প্রস্তাবনা -১৬

আমাদের দেশের প্রথম সারির ১০০ জন স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক এর সাথে কথা বলে যা বুঝেছি, তাদের সবার এক নম্বর মাথা ব্যাথা...