22 C
Dhaka
Thursday, December 9, 2021
Home Technology Dyeing & Printing পানি ছাড়া ডাই এর খেলা | Waterless Dyeing

পানি ছাড়া ডাই এর খেলা | Waterless Dyeing

মানুষের সৌন্দর্যতাকে পরিমার্জিত করে বস্ত্র আর বস্ত্র কে আরো আকর্ষনীয় এবং সুন্দর করে তুলতে ব্যবহৃত হয় রং। কিন্তু এই রং উৎপাদনে লুকিয়ে আছে অনেক কালো ইতিহাস, (যেমন নীল চাষ) পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি তো আছেই। বিশ্বব্যাংকের মতে টেক্সটাইল ডাইং এবং ট্রিটমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি মোট পানি দূষণের ১৭ – ২০ শতাংশ এর জন্য দায়ী। ১ কিলোগ্রাম টেক্সটাইল উপাদান প্রক্রিয়াজাত করতে প্রায় ১০০ – ১৫০ লিটার পানি খরচ হয়। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালন বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয় কাপড় রং করার জন্য যার সিংহভাগই কোন রকম ট্রিটমেন্ট ছাড়াই পরিবেশে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে কেবলমাত্র চায়নাতেই ৯০ ভাগ ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হয়ে গিয়েছে এই ডাইং ইন্ডাস্ট্রি এর জন্য। বাংলাদেশেও ইতিমধ্যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামতে শুরু করেছে এবং নদীগুলো দূষিত হয়ে গিয়েছে।

অতিরিক্ত পানি ব্যবহার এবং দূষণের সমস্যা সমাধান করতে এগিয়ে আসে তিনটি কোম্পানি। এরা হলো দুটি আমেরিকান কোম্পানি AirDye এবং colorZen এবং একটি ডাচ কোম্পানি DyeCoo। এদের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও ফলাফল প্রায় কাছাকাছি এবং পানির ব্যবহার প্রায় শূন্য।

পদ্ধতিঃ মূলত দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় কোন প্রকার পানির ব্যবহার ছাড়াই কাপড় রং করার সম্ভব। পদ্ধতি দুটি হল ১.এয়ার ডাইং টেকনোলজি এবং ২.ডাইকো ওয়াটারলেস ডাইং টেকনোলজি।

১.এয়ার ডাইং টেকনোলজিঃ এখানে মূলত বাতাসের প্রবাহ ব্যবহারের মাধ্যমে কাপড়ের রং করা হয়। প্রথমে রং কে পারমাণবিক(atomized) ভাবে বিভক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একে উচ্চ চাপ এর বায়ু প্রবাহের সাথে মিশানো হয়। এরপর কাপড় কে উত্তপ্ত করে নজেল এর মাধ্যমে কাপড়ের উপরে এই বায়ুপ্রবাহ দেওয়া হয়। সাথে সাথে কাপড় আস্তে আস্তে আগানো হয়।এই পদ্ধতিতে রং কে ফাইবারের উপরে না দিয়ে ফাইবার এর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয় যার ফলে রং অনেক টেকসই হয় অর্থাৎ ব্লিচিং এজেন্ট অথবা যেকোনো ধরনের পরিষ্কারক এজেন্ট এর উপরে কোন ধরনের প্রভাব ফেলে না। এর মাধ্যমে প্রায় সকল প্রকার সিনথেটিক ফাইবার যেমন পলিস্টার এবং পাশাপাশি কটন ফাইবার রং করা সম্ভব। এয়ার ডাইং টেকনোলজি তে প্রায় ৯৫% পানি সাশ্রয় এবং প্রায় ৮৬% পর্যন্ত কম শক্তি খরচ হয়। সূত্র মতে একটি কোম্পানিই এই টেকনোলজি ব্যবহার করে প্রায় ২৫০০০ t-shirt রং করলে সেটার মধ্যে ১,১৩২,৫০০ পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় এবং প্রায় ১৫৭,৫০০ গ্যালন পানি সাশ্রয় হবে। এর মাধ্যমে উৎপন্ন কাপড়ের রং এর মান অনেক ভালো এবং টেকসই হয়।

২.ডাইকো ওয়াটারলেস ডাইং টেকনোলজিঃ এখানে মূলত সুপারক্রিটিক্যাল CO2 ব্যবহৃত হয়। সুপারক্রিটিক্যাল মূলত গ্যাসীয় এবং তরল এর মাঝামাঝি অবস্থা। C02 কে উচ্চ তাপ এবং উচ্চ চাপে সংকুচিত করে সুপারক্রিটিক্যাল অবস্থায় আনা হয়। প্রথমে ম্যাটেরিয়াল এবং ডাইসকে একটি প্রিহিটেড ভেসেলে প্রবেশ করানো হয়। এরপর এরমধ্যে CO2 তরল প্রবেশ করানো হয় এবং তাপমাত্রা এবং চাপ কে নিয়ন্ত্রণের (তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং চাপ ৭৪বার এর উপরে) মাধ্যমে CO2 কে সুপারক্রিটিক্যাল কন্ডিশনের নিয়ে আসা হয়। পরে সুপারক্রিটিক্যাল কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে সার্কুলেট করানোর মাধ্যমে প্রায় ৩০ মিনিটে কাপড় রং করা হয়। ডাইং প্রসেস এর সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর তাপমাত্রা প্রায় ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিয়ে যাওয়া হয় এবং চাপ প্রয়োগ করা হয় প্রায় ২৫০bar । এর মাধ্যমে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফাইবারের মধ্যে প্রবেশ করে এবং সোয়েলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ডাই ডিফিউজ হতে সাহায্য করে। প্রক্রিয়া শেষ হলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে আবার পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য রিসাইকেল করা হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড কে আবার ব্যবহার করা যায়। এ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে আসে। এ পদ্ধতিতে সিনথেটিক কাপড় যেমন নাইলন কে রং করা সম্ভব এবং এর সাথে ব্যবহৃত হয় মডিফাইড ডিসপার্স ডাইস। এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন ওয়েস্টেজ এর পরিমাণ খুবই কম।

চ্যালেঞ্জসমূহঃ যদিও ওয়াটারলেস ডাইং টেকনোলজি পরিবেশবান্ধব এবং অনেকটা সাশ্রয়ী কিন্তু তাও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত মেশিন গুলোর দাম নরমাল ডাইং মেশিন এর তুলনায় অনেক বেশি। DyeCoo এর একেকটি মেশিনের দাম প্রায় ২৫ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ধরনের বড় ইনভেস্টমেন্ট প্রায় সব কোম্পানির পক্ষে সম্ভব না। Nike এবং Adidas dyeCoo কম্পানির মেশিন ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও মূলত সিনথেটিক ফাইবার গুলোই ওয়াটারলেস ডাইং সম্ভব, কটনের সীমিত আকারে এর টেকনোলজি ব্যবহার করা সম্ভব তাও তার কিছু প্রতিবন্ধকতা থেকে যায়। বর্তমানে এর উপর গবেষণা চলছে কিভাবে এই টেকনোলজিকে ন্যাচারাল ফাইবার বান্ধবী করে তোলা সম্ভব। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা এর আরও অনেক ব্যবহার পাব এবং এর দাম অনেকটা সাশ্রয়ী হয়ে যাবে

Writer:
Ali Mahmud Nishad
BUBT
Campus Ambassador, Bunon

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

” জাতীয় বস্ত্র দিবসে টেক্সটাইল বিষয়ক কুইজের আয়োজন করেছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব”

৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২১ উপলক্ষে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগন্জ,চট্টগ্রাম (সিটেক) এর ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব "সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" কর্তৃক সকল...

লিখিত অনুমোদন পেয়েছে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের নতুন কমিটি

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগন্জ, চট্টগ্রাম এর ক্যারিয়ার বিষয়ক ক্লাব " সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাব" এর ২০২১-২২ সেশানের গঠিত নতুন কমিটিকে লিখিত অনুমোদন...

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সপ্তাহব্যাপী অল ওভার প্রিন্টিং ওয়েবিনার সম্পন্ন : মূল্যায়ন পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর

অল ওভার প্রিন্টিং (All Over Printing) এবং ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট (Design Development) এর ওপর চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং কলেজে (সিটেক) AOPTB (All Over...

অধ্যক্ষের সাথে সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাত

চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (সিটেক) এর ক্যারিয়ার বিষয়ক সংগঠন সিটেক ক্যারিয়ার ক্লাবের ২০২১-২০২২ সেশনের নবগঠিত কমিটির সাথে অত্র কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ...

‘রিসোনেন্স’ আমেরিকার ১০ জন ফ্যাশন ডিজাইনারকে ৫০০০০ ডলার সহয়তা প্রদান করবে | Resonance to Donate US $50,000 to 10 Black Fashion Designers.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য এবং সহিংসতার ইতিহাস বেশ পুরানো। দেশটির জন্মলগ্ন থেকেই বলা যায় কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে বর্ণ বৈষম্য চলে...

নিটারের শিক্ষার্থীদের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জয়

টানা ষষ্ঠবারের মতো বেসিসের তত্ত্বাবধানে এবং বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে...

লিও ক্লাব অফ বিইউএফটির ২০২১-২০২২ এর আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ লিও ক্লাব ” লিও ক্লাব অফ বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি ” স্পন্সরড বাই লায়ন্স ক্লাব অফ ঢাকা...