28 C
Dhaka
Monday, September 27, 2021
Home Technology Dyeing & Printing ভ্যাট ডাই | Vat Dye

ভ্যাট ডাই | Vat Dye

ভ্যাট ডাই সবচেয়ে প্রাচীন প্রাকৃতিক কালারিং দ্রব্য। এটি পানিতে অদ্রবণীয়। ভ্যাটিং না করে টেক্সটাইল এটি প্রয়োগ করা যায় না। এই ডাইকে রিডিউসিং এজেন্ট দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করলে লিকো-যৌগে পরিণত হয় যা ক্ষারের উপস্থিতিতে পানিতে দ্রবণীয়। লিকো-যৌগে পরিণত হওয়ার পদ্ধতিকে ভ্যাটিং বলে।

এই লিকো – যৌগ সেলুলোজের সহিত বিক্রিয়া করে। একে বাতাসে অনাবৃত রাখলে এটি ফাইবার এর মধ্যে পুনরায় আয়নিত হয়ে অদ্রবণীয় কালারে পরিণত হয়।

এই ডাইয়ে এক বা একাধিক কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে। এদেরকে সোডিয়াম সালফেটের সাথে প্রক্রিয়াজাত করলে হাইড্রোজেনের সহিত যুক্ত হয়ে লিকো-যৌগ তৈরি করে। এই সেকেন্ডারি অ্যালকোহল পানিতে দ্রবীভূত নয় কিন্তু ক্ষারের উপস্থিতিতে ইহা দ্রবীভূত হয়ে থাকে।

প্রাচীনকালে কেমিক্যাল রিডিউসিং এজেন্ট পর্যাপ্ত ছিল না। তাই প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি ভ্যাট ডাই কে একটি উডেন ভেসেল এর মধ্যে অরগানিক ম্যাটার দ্বারা ফারমেন্টেশন করে কমানো হত। এই উডেন ভেসেলকে ভ্যাট বলা হত। এজন্য এই ডাই কে ভ্যাট ডাই বলা হয়।

ভ্যাট ডাই এর সাহায্যে সাধারণত কটন ও উল জাতীয় পণ্যকে ডাইং করা যায়।

ভ্যাট ডাই সাধারণত ব্যয়বহুল হয়। ভ্যাট ডাই এর অণু(molecule) গুলো বড় হয়, তাই এটি ম্যান মেড ফাইবার এ ব্যবহার করা যায়না। সাধারণত জিনস অথবা ডেনিম এ ভ্যাট ডাই ব্যবহৃত হয়।

যেভাবে কাজ করে এই ভ্যাট ডাই:

ভ্যাট ডাই(Vat Dye) সুতি,লিনেন ও রেয়ন বস্ত্রে প্রয়োগ করা হয়। ভ্যাট ডাই তিন ধরনের: ব্লু ভ্যাট,অ্যানথ্রাকুইনোন ভ্যাট এবং সালফার ভ্যাট।

বর্তমানে ভ্যাট ডাই পাউডার হিসেবে বাজারে পাওয়া যায়। ভ্যাট ডাই পানিতে অদ্রবণীয় এবং একে সরাসরি টেক্সটাইল পণ্য এর উপর প্রয়োগ করা যায় না। এজন্য প্রথমে এদেরকে পানিতে দ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করা হয় এবং তারপর ফাইবার এর উপর প্রয়োগ করা হয়। এ রূপান্তর নিম্নলিখিত ২ ভাবে সম্পন্ন করা যায়।
প্রথমে, সোডিয়াম হাইড্রোজেন সালফেটের সহিত ভ্যাট ডাইকে মিশানো হয়। যা রিডিউসিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে ফলে একটা লিকো যৌগের তৈরি করা সম্ভব। পরবর্তীতে একে সোডিয়াম লবণের সেলুলোজের সহিত বিক্রিয়া করানো হলে তৈরি হয় দ্রবণীয় দ্রবণ। সুতি কাপড়ে ভ্যাট ডাই বেশ পাকা হয়। ঠান্ডা পানিতে ভ্যাট মিশানো যায় না।গরম পানিতে মেশাতে হয়।এজন্য রেশমি কাপড়ে এটি প্রয়োগ করা যায়না।তীব্র ব্লিচের সংস্পর্শে আসলে এটি নষ্ট হয়না এবং পানিতে দ্রবীভূত হয়না। এখন এর মধ্যে যেই পণ্যকে রং করতে হবে তাকে ডুবিয়ে রাখলে সেটি আস্তে আস্তে ডাই শোষণ করে এবং রঙিন বস্তুতে পরিণত হয়।

ভ্যাট ডাইং এর বিভিন্ন রকমের পদ্ধতি:

সমস্ত ভ্যাট ডাই এর ডাইং বৈশিষ্ট্য এক নয়। এজন্য তাপমাত্রা এবং ব্যবহৃত উপাদানের পরিমাণের সাপেক্ষে ডাইং প্রক্রিয়ার তারতম্য ঘটে ।সাধারণত ভ্যাট ডাই কে নিম্নলিখিত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়।

১) নরমাল ডাইং পদ্ধতি: যে সকল ভ্যাট ডাইএ অপেক্ষাকৃত অধিক ঘনত্বের ক্ষারের দরকার হয় সেক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে সাধারণত । এই পদ্ধতিতে নিঃশোষণ ভাল হয় এবং কোন ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজন হয় না। এখানে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ডাইং শুরু হয় এবং ডাইং সংঘটিত হয় ৬০-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।

২) ওয়ার্ম ডাইং পদ্ধতি: যে সকল ডাইয়ে প্রায় কাছাকাছি ঘনত্বের ক্ষারের দরকার হয় সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এখানে ডাইং ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শুরু হয় এবং ৫০-৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় করা হয় ডাইং সম্পন্ন। ডাই সম্পূর্ণ শোষণের জন্য সামান্য পরিমাণ লবণ ব্যবহৃত হয়।

৩) কোল্ড ডাইং পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে ডাইং এর জন্য কম ঘনত্বের ক্ষারের প্রয়োজন। যদিও ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডাইং শুরু হয় কিন্তু ডাইং ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সম্পন্ন হয়। এখানে ডাইকে সম্পূর্ণ রূপে শোষণের জন্য প্রয়োজন হয় যথেষ্ট পরিমাণ ইলেক্ট্রোলাইটের ।

৪)স্পেশাল ডাইং পদ্ধতি: এই পদ্ধতি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে । যেমন-ব্লাক ডাই দ্বারা ডাইং করতে প্রয়োজন হলে । এখানে অধিক ঘনত্বের ক্ষারের প্রয়োজন হয়। ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডাইং শুরু হয় এবং ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডাইং সম্পন্ন হয়। ডাই শোষণের জন্য কোন ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন হয় না।

এ সকল বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ভ্যাট ডাই এর সাহায্যে কাপড়কে ডাইং করা হয়ে থাকে।

দিন বদলের সাথে সাথে সবখানে যেমন পরিবর্তন হয়ে চলেছে তেমনি টেক্সটাইল সেক্টরেও হয়েছে চোখে পড়ার মতই পরিবর্তন। সম্পূর্ণ একটা কাপড়কে এক নিমিষেই এক অবস্থান থেকে আরেক অবস্থায় পরিবর্তন করতে টেক্সটাইল এ ডাই এর জুড়ি নেই বললেই চলে। হরেক রকম রঙের জামাকাপড়, বিভিন্ন রকম সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করা হয় নানাবিধ রঙ।তাই বলা যায় শুধু টেক্সটাইল সেক্টরেই নয় দৈনন্দিন জীবনেও ডাইয়ের ভূমিকা অপরিসীম ।

আঞ্চলিকভাবে, ভ্যাট ডাই এর বাজার এশিয়া-প্যাসিফিক, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত হয়েছে। এই অঞ্চলের মধ্যে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলটি এই অঞ্চলে ফ্যাশন শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে সামগ্রিক ভ্যাট ডাই, বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে।

বিশ্ব মার্কেটে ভ্যাট ডাই য়ের উৎপাদক এর মধ্য রয়েছে ডুপন্ট ডি নেমর্স, ইনক, বিএএসএফ এসই, ল্যানএক্সেস এজি, হান্টসম্যান কর্পোরেশন, ক্লিয়ারেন্ট ইন্টারন্যাশনাল, রকউড হোল্ডিংস, রইস অ্যাসোসিয়েটস, সিনোকোলার কেমিক্যালস, অতুল লিমিটেড, কিরি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং অন্যান্য।

ভ্যাট ডাইয়ের সুবিধা:
১. লাইট ফাস্টনেস ভাল।
২.ক্লোরিন রেসিস্টেন্স এবং ওয়েট ফাস্টনেস ভাল।
৩.ন্যাচারাল কালার এর সাথে এটি ব্যবহার লরে যায়।
৪. ব্লেন্ডেড ফেব্রিক এর জন্য এক বাথ ডাইয়িং যথেষ্ট।
৫. প্রিন্টিং এবং ডাইয়িং উভয়ের জন্যই উপযোগী।

বিশ্বে বেশি প্রচলিত ভ্যাট ডাই এর মধ্য রয়েছে:
১.ইন্ডিগো
২. থায়োইন্ডিগো
৩. অ্যানথ্রাকুইনোন ডেরিভেটিভস
৪.কার্বাজোল ডেরিভেটিভস
এবং অন্যান্য

যেসব ফাইবার এ ভ্যাট ডাই বেশি ব্যাবহার হয় :
১. উল
২.কার্পাস
৩.ভিসকোস ফাইবার
এবং অন্যান্য

বিশ্বে ভ্যাট ডাইয়ের ব্যাবহার হয়:
১. টেক্সটাইল
২. চামড়া
৩. কাগজ
৪.পেইন্টস এবং লেপ
৫.প্লাস্টিক
এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে

অঞ্চল অনুসারে গ্লোবাল ভ্যাট ডাইয়ের মার্কেট:
১. উত্তর আমেরিকা
২.যুক্তরাষ্ট্র
৩.কানাডা
৪.মেক্সিকো
৫. ইউরোপ
৬. জার্মানি
৭. ফ্রান্স
৮. যুক্তরাজ্য
৯.ইতালি
১০.স্পেন
১১. এশিয়া প্যাসিফিক
১২. চীন
১৩. জাপান
১৪ ভারত
১৫. দক্ষিণ কোরিয়া
১৬.অস্ট্রেলিয়া
১৭. মধ্য প্রাচ্য এবং আফ্রিকা
১৮. দক্ষিন আফ্রিকা
১৯.সৌদি আরব
২০. সংযুক্ত আরব আমিরাত
২১. দক্ষিণ আমেরিকা
২২. ব্রাজিল
২৩. আর্জেন্টিনা
২৪.কলোম্বিয়া

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে প্রতিনিয়ত উন্নত প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে এবং ক্রমশ প্রতিনিয়ত চলছে নতুন নতুন পণ্য তৈরির প্রয়াস। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরি করতে ভ্যাট ডাই সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

Writer:
Md. Zamil Mia
STEC
Campus Ambassador, Bunon

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

এওপিটিবি’র মিলনমেলা

সমগ্র বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং সেক্টর নিয়ে কাজ করা সকল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজিস্টদের প্রাণের সংগঠন “অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ”।সংগঠনটির...

ভিয়েতনামের বিকল্প খুজঁছে বিশ্বের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান

সাধারনত যে সকল খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জুতা ও পোশাকের জন্য ভিয়েতনামের কারখানাগুলোর ওপর নির্ভরশীল তারা ভিয়েতনামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে খুবই চিন্তিত। যদিও...

অনাবিল প্রশান্তির মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে ফতুল্লা এপারেল

তৈরী পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। দেশের মোট রফতানি আয়ের  ৮৪% আসে পোশাক খাত থেকে। তাই দিন দিন দেশে...

রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য বাণিজ্য নীতির সংস্কারের বিকল্প নেই : বিশেষজ্ঞরা

ব্যাপক বাণিজ্য কূটনীতির সংস্কার এবং অর্থনৈতিক নীতির উন্মুক্ততা ভিয়েতনামকে আজ সেরা ২০ টি দেশের তালিকায় আসতে সাহায্য করেছে। উদাহরনসরূপ ১৯৮০-৯০ সালের...

করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব এবং আমাদের এপারেল সেক্টর | Corona Virus Pendemic:Our Aparel Sector

গত ২৪জুন,২০২০ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এর টেক্সটাইল সোসাইটি আয়োজন করে এ্যাপারেল সেক্টরে অপরচুনিটি এবং স্টুডেন্টদের ক্যারিয়ার...

সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট কি, কেন, কিভাবে ?

আমরা সকলেই বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম শব্দটার সাথে পরিচিত।এই বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমে আসলে কি হয়!উৎপাদ থেকে বিয়োজক শ্রেণির মধ্যে খাদ্যের পরিবহন চিত্রটা...

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং হলো অব্যবহৃত টেক্সটাইল পণ্য সামগ্রী হতে প্রক্রিয়াজাত করণের পর ফাইবার, ইয়ার্ণ বা ফ্যাবিক অবস্থায় ফিরে আনা, যা সম্পর্ণরূপে টেক্সটাইল...